Alapon

বাংলার নারীরা আফগানের নারীদের চেয়ে অনেক বেশি পরাধীন ও অসহায়!



বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য পত্রিকার স্লোগান হলো, ‘যা কিছু ভালো তার সাথে প্রথম আলো’। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ‘যা কিছু কালো তার সাথে প্রথম আলো’। যেমন বর্তমানে তারা আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে কালারিং করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আর কালারিং করার জন্য তারা বিষয়বস্তু হিসেবে নির্বাচন করেছে ‘নারী’ ও ‘নারী স্বাধীনতা’-কে।

আফগানিস্তান ধীরে ধীরে তালেবানদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসছিল, তখন থেকেই প্রথম আলো পত্রিকা আফগানিস্তানের নারীদের স্বাধীনতা নিয়ে সংবাদ প্রচার করে আসছিলো। তারা বলতে চাচ্ছিল, তালেবান ক্ষমতায় আসা মানেই নারী স্বাধীনতার কবর রচিত হওয়া।

কিন্তু নারী স্বাধীনতা বলতে প্রথম আলো গংরা কি বুঝাতে চায়?

সরকার দলীয় কাউন্সিলর তার বাগান বাড়িতে কোনো নারীর সাথে জোর করে ফূর্তি করতে পারার যে সুযোগ পাচ্ছে, সেটাকেই কি তারা নারী স্বাধীনতা বলতে চায়? অথচ তালেবান সরকারের কোনো কর্মীও যদি এহেন কাজের সাথে জড়িত থাকতো, তাহলে তাকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করতো।

প্রথম আলো গং বাংলার নারীদের কথা বাদ দিয়ে সুদুর আফগানিস্তানের নারীদের কথা ভেবে নিজেদের ঘুম হারাম করে ফেলেছে। আফগানিস্তানের পুলিশ বাহিনীতে আর কোনো নারী সদস্য কাজ করতে পারবে না বলে তালেবান সরকার ঘোষণা দিয়েছে। আর এতেই প্রথম আলোর সেক্যুলার বুদ্ধিজীবিরা হা...রে...রে...রে রব তুলেছে! অন্যদিকে বাংলাদেশ পুলিশে ৪০ শতাংশ নারী পুলিশ পুরুষ পুলিশদের দ্বারা যৌন নিগ্রহের স্বীকার হয়। বাংলার নারীদের এভাবে ঘর থেকে বের করে যৌন নির্যাতন করতে পারাটাই কি নারী স্বাধীনতা?

কয়েকদিন আগে পত্রিকায় পড়লাম, আফগানিস্তানের নারী সাংবাদিকরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। তার মানে সেখানে নারী সাংবাদিকরাও স্বাধীনভাবে কর্ম করতে পারছে না। আচ্ছা আমাদের বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকরা কি স্বাধীন? নারী সাংবাদিকদের চাকরি বাঁচানোর তাগিদে তাদের ফাঁদে ফেলে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের দ্বায়ে বাংলা ভিশনের সাবেক বার্তা প্রধান মোস্তফা ফিরোজকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও একুশে টেলিভিশনের সিইও বুলবুল তার প্রতিষ্ঠানের নারী সাংবাদিকদের সাথে বিভিন্নভাবে ট্রাপে ফেলে তাদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতো! আর যারা রাজি হতো না, তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হতো। এটাই কি নারী স্বাধীনতা?

প্রথম আলো গং আফগানিস্তানের নারীদের স্বাধীনতা নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত! অথচ এই স্বাধীন বাংলাদেশেই নারীরা স্বাধীন নয়। খোদ এই বাংলাদেশেই প্রতিদিন অর্থশতাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। আর আফগানিস্তানে ধর্ষণের সংখ্যা প্রায় শূণ্যের কোটায়। কারণ, সেখানে ধর্ষণকে খুবই জঘন্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। যেখানে নারীরা তাদের ইজ্জত আব্রুর নিরাপত্তা পাচ্ছে, সেখানেই নারীরা সর্বাধিক স্বাধীন। আর বাংলাদেশে তো নারীদের ইজ্জত আব্রুর কোনো গ্যারান্টি নেই। চলন্ত গাড়িতেও নারীরা তাদের ইজ্জত হারাচ্ছে। সে তুলনায় বাংলার নারীরা আফগানের নারীদের চেয়ে অনেক বেশি পরাধীন ও অসহায়!

পঠিত : ১০৫ বার

ads

মন্তব্য: ০