Alapon

বিদায় দিনে...



কড়া শীতের দিন। বাড়িতে আসা সকল মানুষজন ২-৩টে করে কাপড় পড়ে থাকলেও স্টিলের খাটিয়ার উপর শুধুমাত্র এক টুকরো কাফন দিয়েই রেখে দেওয়া হয়েছে যুবকটিকে। কি যেনো নাম? আজ আর নাম দিয়ে কি?মৃত্যুর মাত্র ২ঘন্টার মধ্যেই মানুষ তার নাম এর বদলেই 'লাশ' বলেই সম্বোধন করছে সবাই।

প্রতিদিন ফযর পড়তে যায় মসজিদে,আজ সলাত আদায় করতে যায় নি বলে এক বন্ধু খবর নিতে অনবরত ফোন দিচ্ছিলো। ফোন কলের আওয়াজে পাশের রুম থেকে তার মা উঠে এসে ছেলেকে ডাকা শুরু করছে 'এই তোর কল আসছে ধরছিস না কেন,সবার ঘুম গেলো আজ তোর ফোনের আওয়াজে'। ছেলের কোনো নড়াচড়া না পেয়ে ছেলের গায়ে হাত দিয়ে ডাক দিতে যেতেই যখন দেখলো পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে এক চিৎকারে পুরো বাড়ি এক করে ফেললো, সাথে সাথে কান্নার ঢেউ শুরু।

মাইয়্যাতের বাড়িতে মানুষ আশা শুরু হয়েছে। ধিরে ধিরে সুর্যের আলোর সাথে মানুষের আনাগোনাও শুধু বাড়ছেই। কোনো এক আত্বীয় বলে উঠলো 'লাশ' কে যতো যলদি পারো দাফন করো। সবার মোটামোটি একই মতামত শুধু 'মা' চাচ্ছে আরেকটু সময় রেখে দিতে। কিন্তু না!ছেলে দুই-দিন আগেও বলছিলোঃ 'আম্মু আমি যখন মারা যাবো,দাফন করতে বেশি দেরী করবেন না,আর যদি আপনার ছেলেকে কষ্ট দিতে চান তাহলে আপনার খুশিমতো দেরি করতেও পারেন'। সেই কথা রাখতে 'মা'ই কান্না করতে কর‍তে বলছে ওকে যোহরের আগেই দাফন করো।

দ্বীনে ফেরা ছেলেটাকে এতোদিন কাঠমোল্লা-নয়ামুসল্লি বলতো যেই মানুষগুলো, সেই মানুষগুলোই এখন মাইয়্যাতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। যেইসব 'গুন' ছিলো না ইনিয়া বিনিয়ে সেসব মিথ্যা প্রশংসা করতেও কেউ কেউ প্রতিযোগীতাই শুরু করে দিয়েছিলো বলা চলে।
গোসল দেওয়া শেষ হলো। কাধে করে খাটিয়ায় থাকা 'লাশ'কে মসজদে নিয়ে যাওয়া হলো। আজ একটু ভিন্ন ঘটনা ঘটলো, সর্বদা মসজিদের বাহিরে অবস্থান করা লোকগুলো গেলো মসজদে যোহর এর সলাত আদায় করতে আর এমন এক যুবক কে মসজিদে বাহিরে রেখে গেলো যেই যুবকের অবস্থান সর্বদাই ছিলো মসজিদের ভিতরে। হায়! দুনিয়ার কি বিচিত্র নিয়ম। সলাত শেষ হলো। জানাযাও হলে গেলো, কাধে করে 'লাশ'কে নিয়ে যাওয়া হলো কবরস্থানে। দাফন শেষ করে সবাই ফিরে গেলো আস্তে আস্তে। মাইয়্যাতের এক ভাই কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলছিলো 'কিরে,তুই না আমাদের আলোর পথ দেখাবি,তুই না আমাদের কতো ভালোবাসতি,তাহলে আমাদের পরিবর্তন না করেই চলে গেলি কেন?'

মৃতদের কোনো জবাব হয় না, কিন্তু যদি জবাব হতো তাহলে সম্ভবত কিছুটা এমনই উত্তর পাওয়া যেতো - 'যার জন্য তোমাদের ভালোবেসেছিলাম,যার জন্য তোমাদের ডেকে যেতাম সর্বদা,আজ সেই 'রব্ব'ই আমাকে ডেকে নিয়েছে,এখন তোমাদের জন্য আমার আর সময় নেই,বিদায় তোমাদের,তোমরাও যদি আমাকে ভালোবেসে থাকো তবে মুনাজাতে যায়গা কিরে দিয়ো অল্প করে।

যখন মৃত্যু হয় রব্বের সন্তুষ্টি নিয়ে তখন দুনিয়া ও দুনিয়ার মানুষগুলো ছেড়ে যাওয়ার দুঃখ কি থাকতে পারে? একজন মুমিনের জন্য তো মৃত্যুই সবচেয়ে আনন্দের দিন। সবচেয়ে উত্তম উপহার বৈ কি!

- Safin Arman Rafi

পঠিত : ৫৪১ বার

মন্তব্য: ০