Alapon

আজ জেরুজালেম বিজয়ের দিন



আজ ২ অক্টোবর। জেরুজালেম বিজয়ের দিন। ১১৮৭ সালের এই দিনে সালাউদ্দিন আইয়ুবির নেতৃত্বে জেরুজালেম পুনরায় মুসলিমদের অধিকারে আসে। এতদিনে সেই বিজয় আবার পরাজয়ে পরিণত হয়েছে।

১৯৮৭ সালের শুরু থেকেই গাজী সালাহউদ্দিন ক্রুসেডারদের সব শহর একে একে জয় করেছিলেন। অবশেষে জেরুজালেম অবরোধ করে রাখলেন। অবরোধের শুরুতে তিনি জেরুজালেমে বসবাসরত বহিরাগতদের কোনো নিরাপত্তা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
এ কারণে বেলিয়ান অব ইবেলিন প্রায় ৫,০০০ মুসলিম বন্দীকে হত্যা ও ইসলামের পবিত্র স্থান আল আকসা মসজিদ ও কুব্বাত আস সাখরা ধ্বংস করে ফেলার হুমকি দেয়।

গাজী সালাহউদ্দিন তার উপদেষ্টাদের সাথে পরামর্শক্রমে তাদের নিরাপত্তা দিতে রাজি হন।
জেরুজালেমের রাস্তায় চুক্তি পড়ে শোনানো হয় যাতে সবাই চল্লিশ দিনের মধ্যে প্রস্তুত হতে পারে এবং সালাহউদ্দিনকে মুক্তিপণ দিতে পারে। শহরের প্রত্যেক ফ্রাঙ্ক নারী, পুরুষ বা শিশুর জন্য সেসময়ের মূল্য অনেক কম মুক্তিপণ ধার্য করা হয় (আধুনিক হিসাবে ৫০ ডলার)।

১১৮৭ সালের ২ অক্টোবর শুক্রবার তার সেনাবাহিনী অবরোধের পর জেরুজালেম জয় করে। জেরুজালেম বিজয়ের পর সালাহউদ্দিন ইহুদিদের শহরে পুনরায় বসবাসের অনুমতি দেন। আসকালনের ইহুদি সম্প্রদায় এই ডাকে সাড়া দেয়। আরবীয় খৃস্টানরাও থাকার অনুমতি পেলো কোনো ধরণের শর্ত ছাড়াই। শুধু চলে যেতে হয় বহিরাগত সেটেলারদের।

তারও ৮৮ বছর আগে ১৫ জুলাই, ১০৯৯ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম আমিরের বিশ্বাসঘাতকতার ফলে জেরুজালেমের মুসলমানরা পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। হাজার হাজার মুসলিমের লাশের উপর দিয়ে মুসলমানদের প্রথম কিবলা বাইতুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করে খ্রিস্টানদের সম্মিলিত ক্রুসেডার বাহিনী। তাদের এই বিজয়ে সর্বত্র খ্রিস্টান দেশগুলতে শুরু হয়ে গেল বিজয়ের উৎসব। কিন্তু সবচেয়ে ভয়াবহ উৎসব হল বাইতুল মুকাদ্দাসে।

বিজয়ী ক্রুসেডার বাহিনী বেপরোয়া লুটপাট শুরু করে মুসলিমদের প্রতিটি ঘরে ঘরে। কোনো ঘরের পুরুষ মানু্‌ষ, হোক সে বৃদ্ধ বা দুগ্ধ পোষ্য শিশু, কাউকেই জীবিত রাখলো না। জীবিত ছিল শুধু যুবতী মেয়েরা, যারা হয়েছিল পশুদের লালসার খোরাক। বহু সংখ্যক মুসলিম নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় অবস্থান নিয়েছিল মসজিদুল আকসা সহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে।

ইউরোপীয় ঐতিহাসিকদের মতে তখনকার শরণার্থীদের সংখ্যা ছিল ৭০ হাজারেরও অধিক। এই বিপুল সংখ্যক মুসলিম মনে করেছিল খ্রিস্টানরা মসজিদের মত পবিত্র স্থানে আক্রমণ করবেনা। কিন্তু বিজয়ের উল্লাশে মত্ত ক্রুসেডার বাহিনী হিংস্র পশুর মত ঝাপিয়ে পড়ল মুসলিমদের উপর। মসজিদুল আকসাসহ অন্যান্য মসজিদগুলো লাশে ঠাঁসাঠাসি হয়ে গেল। মসজিদগুলো থেকে রক্ত প্রবাহিত হয়ে পড়তে লাগল রাস্তায়।

মসজিদুল আকসাসহ বিভিন্ন মসজিদ সমূহকে তারা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা শুরু করে দিল। কিছু মসজিদ ভেঙ্গে ফেলল, কিছু মসজিদকে ঘোড়ার আস্তাবল হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করল আর কিছু মসজিদ কে পতিতালয় বানিয়ে আল্লাহর ঘরের চরম অবমাননা করল। এভাবেই মুসলিম আমির ওমরাহদের বিলাসিতা, গাদ্দারি ও বিশ্বাস ঘাতকতার ফল দীর্ঘদিন ধরে মুসলমানদের ভোগ করতে হল। যে জুলুমের অবসান ঘটিয়ে ছিলেন সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবী ৮৮ বছর পর।

সুলতান আইয়ুবী কর্তৃক বাইতুল মুকাদ্দাস নিয়ন্ত্রণে নেবার প্রায় ৮০০ বছর পর এবং মুসলিম সালতানাত ধ্বংসের ৪৩ বছর পর মুসলমানরা প্রত্যক্ষ করল এক বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক ঘটনা। মুসলিম বিশ্বের পারস্পরিক অনৈক্য ও দুর্বলতার ফলে পবিত্র বাইতুল মুকাদ্দাস আর মসজিদুল আকসা আবার চলে গেল বিধর্মীদের হতে।

খ্রিস্টানদের মদদে সেখানে কর্তৃত্ব নিল অভিশপ্ত ইহুদী জাতি। ৮০০ বছর আগের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটল সেই পবিত্র মাটিতে। মুসলমানদের রক্তে নতুন করে ভিজতে শুরু করল ফিলিস্তিনের মাটি। যা এখনো বিরাজমান।

আল্লাহ তায়ালা মুসলিমদের একতাবদ্ধ হওয়ার তাওফিক দান করুন।

পঠিত : ৯৬ বার

ads

মন্তব্য: ০