Alapon

এক উম্মাহ, এক দেহ


ছবিঃ সংগৃহীত

রাসুলুল্লাহ (সা: ) এর ওফাতের পর যেই মুসলিম উম্মাহ ছিলো, তা ছিলো প্রকৃত অর্থেই 'এক উম্মাহ, এক দেহ'। সে সময় সাহাবায়ে কেরাম (রা: ) গণের মধ্যে যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইখতেলাফ ছিলো না, তা নয়। ইখতেলাফ তখনো ছিলো, তবে ইসলামের মৌলিক বিষয় সমূহে সবাই ছিলো এক। ইখতেলাফি বিষয়গুলো কখনোই উম্মাহের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করতে পারে নি।

কিন্তু পরবর্তীতে আলী (রা: ) এর শাসনামলে সৃষ্ট খারেজি ও শিয়া নামের দুটি পথভ্রষ্ঠ মতাদর্শের উদ্ভবের মাধ্যমে মুসলিমদের মাঝে প্রথম বিভক্তি সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে একে একে মুসলিম উম্মাহ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়েছে। কখনো বা মানহাজ ও মাজহাব নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির নাম দিয়ে বিভক্ত হয়েছে; কখনো বা ফিরকা-দলাদলির মধ্য দিয়ে বিভক্ত হয়েছে।
এরপরও যতোদিন পর্যন্ত খিলাফাহ বিদ্যমান ছিলো, ততোদিন পর্যন্ত উম্মাহের মাঝে ঐক্য ছিলো।

কিন্তু খিলাফাহ এর পতনের পর ঐক্যের কোনো যায়গা না থাকায় মুসলিম উম্মাহের বিভিন্ন দল ও ফিকাহের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে।
বিশ্ব কুফফার শক্তিও এটাই চাইছিলো, তারা এই সুযোগটাকে কাজে লাগালো। প্রথমত তারা মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ভুখন্ডের উপর চেপে বসা মুনাফিক শাসকদের মাধ্যমে এই বিভক্তিকে উষ্কে দেয়। জাতীয়তাবাদ এর মতো ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক মতাদর্শের মাধ্যমে উম্মাহকে বিভক্ত করা হয়।

অন্যদিক চলতে থাকে উম্মাহের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতার মতো মতাদর্শকে "স্লো পয়জনিং" এর মতো বিভিন্ন মিডিয়া, শিক্ষা ব্যাবস্থা, নাটক, সিনেমা - বিভিন্ন মাধ্যমে মুসলিমদের গিলিয়ে তাদের মূল আক্বীদা থেকে বিচ্যুত করা হয়।

তবে সবচেয়ে ভয়ানক যেই বিষয়টা বিশ্ব কুফফার শক্তি করেছে, তা হলো উম্মাহের মাঝে একদল মুনাফিক আলেমনামধারী ব্যাক্তিবর্গের মাধ্যমে উম্মাহের মাঝে ফিরকাবাজি, দলবাজি, মানহাজবাজী এর মাধ্যমে, মাজহাবী ও মাজহাব বিরোধী উভয় প্রকার উগ্রতা ছড়িয়ে, ছোটো খাটো ইখতেলাফকে সংঘর্ষে পরিণত করার মাধ্যমে - এসব পন্থায় বিভক্তি ছড়িয়ে দিয়েছে।

কুফফার শক্তি এই ক্ষেত্রেও "Divide and Rule Policy" বা "ভাগ করো, শাসন করো নীতি"র প্রয়োগ করেছে। কারণ তারা জানে, মুসলিমরা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ জনসংখ্যার অধিকারী। কি নেই মুসলিমদের হাতে, এক মাত্র আরব বিশ্বে এখনো যা সম্পদ আছে, তা গোটা পশ্চিমা শক্তির হাতেও নেই, আর পুরো মুসলিম বিশ্বের সম্পদ এক করলে কতো সম্পদ হয় একটু ভেবে দেখুন।
পুরো মুসলিম বিশ্বের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এক করলে কতো সম্পদ হয় দেখুন, এসব দিয়ে পুরো ইউরোপ-আমেরিকাকে হাজার বার কেনা যাবে।

বিশ্বের ১০ টি শক্তিশালী সামরিক শক্তির মধ্যে এখনো ৪টি মুসলিম রাষ্ট্র রয়েছে। বিশ্বের ৬ষ্ঠ সবচেয়ে বেশি পরমানু অস্ত্রের মজুদ মুসলিমদের হাতে (পাকিস্তান)। বিশ্বের উন্নত ড্রোন ব্যাবস্থাও মুসলিমদের হাতে (তুরষ্ক)। বিশ্বের উন্নত এয়ার ডিফেন্স ব্যাবস্থা ও মিসাইল ব্যাবস্থাও মুসলিমদের হাতে (ইরান)।
এই তো গেলো এই রাষ্ট্রগুলোর হিসাব। বিশ্বের ৫০+ মুসলিম রাষ্ট্র যদি আজকে এক পতাকার নিচে চলে আসে, তাহলে একটু ভেবে দেখুন কি পরিমাণ বৃহৎ সেনাবাহিনী হবে, কি পরিমাণ মিলিটারি রিসোর্স তাদের হাতে থাকবে - এই সম্মিলিত শক্তিকে পরাজিত করার ক্ষমতা পশ্চিমাদের নেই।
আরে এক আফগানের ৭০ হাজার পাহাড়ি মোল্লাদের সাথেই তো যুদ্ধ করে পরাজিত হয়েছে বিশ্বের পরাশক্তিরা। ৪৯টি ন্যাটো ভুক্ত রাষ্ট্র ও পরাশক্তি আম্রিকা তাদের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও লক্ষ লক্ষ সৈন্য নিয়েও একে-৪৭ হাতে যুদ্ধ করা পাহাড়ি মোল্লাদের কাছে নাকে খত দিতে বাধ্য হয়েছে। সেখানে এতো বড় মুসলিম শক্তি এক হয়ে গেলে পশ্চিমা বিশ্ব তছনছ হয়ে যাবে এটা তারা জানে। তাই মুসলিমদের মাধ্যের ইখতেলাফকে তারা কিছু মুনাফিক আলেমদের মাধ্যমে উষ্কে দিয়ে উম্মাহকে একদিকে বিভক্ত করছে, অন্য দিকে মুসলিম বিশ্বে জেকে বসা মুনাফিক শাসকদের মাধ্যমে বিভক্ত করছে।

এই শতাব্দি ইসলামের বিজয়ের শতাব্দি। চারিদিক থেকে একে একে বিজয়ের সুসংবাদ আসছে, তাই এই সময়ে পশ্চিমা শক্তি চেষ্টা করবে আমাদের মধ্যকার মুনাফিকদে মাধ্যমে মুসলিমদের মাঝে বিভক্তি তৈরি করতে। এই বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে। বিশেষ করে যেই আলেমই ফিরকা, দলবাজি - এসব দিকে আহ্বান করবে, বুঝে নিবেন যে এই ব্যাক্তি মুনাফিক। এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে পশ্চিমের দালালী করছে। একে ত্যাগ করা ফরজ।

আমরা মুসলিম, এটাই আমাদের একমাত্র পরিচয়। এর বাইরে কোনো দলীয় পরিচয়, ফিরকাহের পরিচয় ধারণ করা আমাদের জন্য হারাম। মুসলিম বাদে অন্য কোনো পরিচয় ধারণ করাটা আমাদের ধ্বংসই ডেকে আনবে।
যে ব্যাক্তি এক আল্লাহ এ বিশ্বাস করবে, তার প্রেরিত রাসুল (সা: )কে সর্বশেষ নবী হিসেবে স্বীকার করে নিবে এবং ইসলামকে জীবনের সর্বক্ষেত্রে প্রয়োগের ঘোষণা দিবে - সেই আমাদের মুসলিম ভাই।

পঠিত : ৯১ বার

ads

মন্তব্য: ২

২০২১-১০-১১ ১৫:৪৩

User
রেদওয়ান রাওয়াহা

মা শা আল্লাহ। সুন্দর লিখেছেন ভাই। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন।

submit

২০২১-১০-১১ ১৫:৪৪