Alapon

কুমিল্লার কুরআন অবমাননার ঘটনাটি কেন যেন পরিকল্পিত মনে হচ্ছে!



সোশ্যাল মিডিয়া মারফত জানতে পারলাম, কুমিল্লায় পবিত্র কুরআন অবমাননা করা হয়েছে। কুমিল্লার কোনো একটি পূজা মন্ডপে প্রতিমার পায়ের কাছে পবিত্র কুরআন রাখা হয়েছে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে এটি অবশ্যই অবমাননা। এবং এই কাজটাকে আমার কেন যেন পরিকল্পিত মনে হচ্ছে। অর্থাৎ পরিকল্পনা করে কুমিল্লার সাম্প্রদায়িক সম্পৃতি তথা দেশে যে সাম্প্রদায়িক সম্পৃতি বিরাজ করছে, তা নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এজন্য আমার কাছে ‍দুটো কারণ মনে হচ্ছে।

প্রথম কারণটি হলো, সরকার। সরকার হয়তো চাচ্ছে একটা ভায়োলেন্স হোক; সাম্প্রদায়িক ভায়োলেন্স। কারণ, খুব সম্ভবত আগামী বছর দেশে জাতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার হয়তো এখন থেকেই ফিল্ড তৈরি করে নিতে চাচ্ছে। অর্থাৎ এই সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার সমস্ত দায় বিরোধী দল বিএনপি জামায়াতের ঘাড়ে চাপিয়ে বলবে, ‘দেখ, বিএনপি জামায়াত বিরোধী দলে থাকার পরও কীভাবে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়াচ্ছে! আর যদি সরকারে আসে, তাহলে তো সংখ্যালঘুদের জবাই করবে।’

একইসাথে সরকার হয়তো নিজেদের অস্তিত্বের প্রয়োজনেও ভায়োলেন্স চাচ্ছে। কারণ, স্বৈরাচার সরকারের টিকে থাকার মূল অস্ত্রই হলো ভায়োলেন্স। যে স্বৈরাচার যতো বেশি ভায়োলেন্স তৈরি করতে পারে এবং একই সাথে সেই ভায়োলেন্স দমন করতে পারে, সৈই স্বৈরাচার সরকারের গদি ততো শক্তিশালী। সরকার ভায়োলেন্স তৈরিই করে নিজের উপস্থিতি জানান দেওয়ার জন্য। কারণ, সরকার যখন পুলিশকে দিয়ে সেই ভায়োলেন্স নিয়ন্ত্রণ করে, তখন সেই নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে সরকার নিজের অস্তিত্ব ও শক্তিমত্তা জানান দেয়। একইসাথে বিরোধীদের এটাও জানান দেয়, ‘আমার বিরুদ্ধে কথা বললে, এভাবেই দমন করা হবে!’

দ্বিতীয় কারণটা হতে পারে আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত। কারণ, ভারত অনেকদিন থেকেই বলে আসছে যে, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। আর সেই দাবি তুলে ভারত বলছে, তারা ভারতে থাকা মুসলিমদের তাড়িয়ে দিবে এবং বাংলাদেশের নির্যাতিত হিন্দুদের হিন্দুস্থান তথা ভারতে আশ্রয় দিবে। সেলক্ষ্যে ভারতের মৌলবাদি বিজেপি সরকার সিএএ আইনও পাশ করে। কিন্তু দেশজুড়ে প্রবল বাধা আর করোনা পরিস্থিতির কারণে সেই আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এখন করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। ভারত সরকার হয়তো আবারও সিএএ আইন কার্যকর করতে চাচ্ছে। কিন্তু অ্যাকশনে যাওয়ার পূর্বে তারা হয়তো তাদের গোয়েন্দাদের দিয়ে বাংলাদেশে একটি সাম্প্রদায়িক গোলযোগ তৈরি করতে চাচ্ছে। যে গোলযোগের মাধ্যমে মৌলবাদি বিজেপি সরকার প্রমাণ করতে চায় যে, বাংলাদেশে আসলেই হিন্দুদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে!

উপরে যে দুটো ফ্যাক্টের কথা বললাম, এগুলো সবই সম্ভাবনা। হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। তবে একটা কথা আমি বিশ্বাস করি, কোনো ধর্মপ্রাণ হিন্দু এই কাজটি করতে পারে না। কোনো ধার্মিক ব্যক্তিই অপর ধর্মকে কটাক্ষ বা অপমান করতে পারে না।

পঠিত : ৩২৩ বার

ads

মন্তব্য: ০