Alapon

বদরের প্রতিচ্ছবি

হক ও বাতিলের লড়াই চিরন্তন সত্য। সত্যের পথিকরা তো নিজেদের জান ও মাল কে আল্লাহর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। দুনিয়ার মোহ মায়া তাদের কাছে তুচ্ছ। জাগতিক চাওয়া পাওয়া একমাত্র আল্লাহর জন্য।

অপরদিকে যারা আল্লাহর নূরকে প্রকার দিয়ে নিভিয়ে দিতে চায়, তারাতো চিরদিনই স্বপ্নভ্রমে নিমজ্জিত। তাদের ষড়যন্ত্র ক্ষণিকের জন্য, যা দিনের কোন ক্ষতিসাধন করতে পারে না। একমাত্র জাহান্নামের লেলিহান শিখা তাদের প্রতিদান হতে পারে।
ঈমানদারদের প্রকৃত কামনা তো শহীদি মৃত্যু। শাহাদাত ঈমানের অপর নাম। কিন্তু জালিমরা তো এ ধারণা থেকে অনেক দূরে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে ঈমানের প্রথম অগ্নি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল বদরের প্রান্তরে। প্রকৃত ঈমানের দাবিদারদের অগ্নিপরীক্ষায় নিখাদ প্রমাণিত হওয়ার সুযোগ। অন্যদিকে রণপ্রস্তুতিতে সজ্জিত কাফিররা পৃথিবী থেকে মোহাম্মদ এবং তার দলবল দেরকে মুছে দিতে প্রস্তুত। তাদের পদধ্বনিতে সেদিন মাটি প্রকম্পিত হচ্ছিল। উল্লাসের প্রতিধ্বনি আকাশ বাতাস মুখরিত করে তুলেছিল।
এদিকে ঈমানের বলে বলিয়ান কিছু সাহসী জোয়ান এ কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে প্রস্তুত। কারো হাতে নামমাত্র অস্ত্র বা কারো হাতে সেটাও নেই। মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন গুণ শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে তাদেরকে। জেনে-বুঝে যেন তারা আগুনে ঝাঁপ দিচ্ছে। কিন্তু তাদের মনে ছিল আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস। আল্লাহর রাসূলের প্রতিশ্রুতি তাদের ঈমানের দৃঢ়তা ছড়াচ্ছিল। কারণ তারা মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী।

যুগের পর যুগ শতাব্দীর পর শতাব্দী এরকম বহু বছরের সাক্ষী এই পৃথিবী। বারে বারে কাফিররা আল্লাহর দ্বীনকে পৃথিবী থেকে মুছে দিতে চায়। কিন্তু আল্লাহর প্রকৃত বান্দারা তাদের ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়ে কালেমার ঝান্ডা সমন্বিত করে।
2006 সালের 28 শে অক্টোবর। এ যেন বদরের এক প্রতিচ্ছবি। ঈমানদারদের কাছে শহীদ হওয়ার এক অপার সুযোগ। ঈমানের দাবিদারদের অগ্নিপরীক্ষার দিন। কিন্তু ধর্মদ্রোহী শক্তির কাছে তা নিতান্তই একটি সংঘর্ষ। আর ঈমানদারদের কাছে জান্নাতের পথ।
28 শে অক্টোবর চারদলীয় জোট সরকারের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরের দিন। এদিন চারদলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সমাবেশের আয়োজন করে। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন 14 দলীয় জোট লগি-বৈঠা নিয়ে বঙ্গ ভবন ঘেরাও এর জন্য সারাদেশ থেকে তাদের কর্মীদের পল্টন ময়দানে জমায়েত হওয়ার আহ্বান জানায়। তাদের কর্মসূচি ছিল আইনের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অবৈধ সরকারের সাথে যুদ্ধে শামিল।

কেইবা জানত সে দিন ঘটতে যাবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কালো অধ্যায়। আইয়ামে জাহেলিয়াত কে নতুন করে আওয়ামী জাহিলিয়াত রূপে মানুষ দেখতে পাবে। মানুষ মানুষকে কতটা নিষ্ঠুর কায়দায় হত্যা করতে পারে তার নজির স্থাপন করেছিল আওয়ামী হায়েনারা।
সকাল দশটায় সেদিন রাজধানীতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 14 দলের কর্মসূচি ছিল সকাল দশটায় পল্টনে। লগি-বৈঠা ও নানা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা পল্টনে আসতে থাকে। তখন উত্তর গেটে মঞ্চ তৈরিতে ব্যস্ত ছিল জামায়াতকর্মীরা। পল্টন মোড় দিয়ে যাওয়ার সময় 14 দলীয় কর্মীরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে জামায়াতের স্বেচ্ছাসেবকদের উপর হামলা শুরু করে। 14 দলের কর্মীরা অযথাই নিরস্ত্র জামায়াত-শিবির কর্মীদের উপর এ হামলা চালাতে শুরু করে। জামায়াত-শিবির কর্মীরা তাদের পরিকল্পনা বুঝতে পেরে মানব ঢাল তৈরি করে। একদিকে অব্যাহতভাবে লগি-বৈঠা লাঠির আঘাত পিস্তলের গুলি চলছে অন্যদিকে ইট-পাটকেল ছুড়ে আত্মরক্ষার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আঘাতের পর আঘাত করে নির্দয় আচরণ সেদিন মানুষ প্রত্যক্ষ করেছিল। তাদের নিশ্রংস অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন শিবিরকর্মী মুজাহিদুল ইসলাম। একে একে অনেকেই মুজাহিদের কাতারে ভিড় জমাতে থাকে। সেদিন তারা শহীদি তামান্না নিয়েই শত্রুপক্ষকে রুখতে চেয়েছিলো। এ যেন আরেক বদরের উত্থান দেখল জাতি।
কি অপরাধ ছিল তাদের, কেন তাদের নিষ্ঠুর কায়দায় হত্যা করা হলো। এমনকি মৃত লাশের উপর নৃত্য সেদিন মনুষ্যত্বের উপর আঘাত হেনেছিল ।
সেদিন সম্পর্কে মতিউর রহমান নিজামী বলেন,
"আওয়ামী লীগ ও 14 দলের সেদিনের নৃশংস ঘটনা দেশে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ইজ্জত-সম্মান কে লঞ্চ করেছিল। সেদিন আওয়ামী-বাকশালীদের নৃশংসতা, বর্বরতা, নিষ্ঠুরতায় বাংলাদেশকে করেছে কলঙ্কিত। তারা সেদিন জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশে হামলা চালিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালিয়ে ছিল। আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা গণতন্ত্রের তোয়াক্কা করে না। তাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে দেশবাসীকে সদা সতর্ক থাকতে হবে।
রাশি অক্টোবর ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের রক্ত ঝরা দিন। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের কাছে বদরের সেই স্মৃতি বিজড়িত প্রান্তর। এ রক্ত ও ত্যাগের বিনিময় ইসলামী আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়েছে। জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের এই নজিরবিহীন আত্মত্যাগ ইতিহাসের পাতায় মাইলফলক হয়ে থাকবে। শেষ পর্যন্ত ইসলামের বিজয় অনিবার্য। আল্লাহ আমাদের শহীদদের উত্তম মর্যাদা দান করুন। আমিন

পঠিত : ৭৩৫ বার

মন্তব্য: ০