Alapon

মামলা না চাপাতি? কী চায় সেক্যুলাররা?



বাংলাদেশে 'মেঘদল' নামে গানের একটা দল রয়েছে। তারা 'ওম' নামে একটা গান করেছে ১৫ বছর আগে। এগুলো স্বাভাবিকভাবেই আমার জানা ছিল না। আমি গানের জগতের মানুষ না।

সম্প্রতি দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লায় কুরআন অবমাননার জন্য বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলে আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগের একটা অংশ হিন্দুদের মন্দির আক্রমণ ও লুটপাট করে। এতে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষেপে যায় সমাজের সেক্যুলার শাহবাগী অংশ। তারা ঢাবি এলাকায় সহিংসতা বিরোধী কনসার্ট করে। কিন্তু তারা এই সমাবেশ ও কনসার্ট থেকে যারা দোষী অর্থাৎ ছাত্রলীগ/আওয়ামীলীগকে দোষারোপ করে নি। উল্টো ইসলাম ও মুসলিমদেরকে দায়ি করে কটাক্ষ করেছে।

এই কনসার্টে 'মেঘদল' তাদের 'ওম' গানটি পরিবেশন করে। এই নিয়ে সমাজের মুসলিম অংশ তাদের সাথে পরিচিত হয় বলে আমার মনে হয়। আমিও মানুষের প্রতিক্রিয়ার কারণে এই গানটি শুনি। গানের কথাগুলো হলো,

ওঁম অখণ্ডমণ্ডলাকারং,ব্যাপ্তং যেন চরাচরম্
তত্পদং দর্শিতং যেন, তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ

লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক,
লাব্বাইক লা শারিকা লা
ইন্নাল হা’মদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়ালমুলক’
লা শারিকা লা

বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি
ধর্মং শরণং গচ্ছামি
সঙ্ঘং শরণং গচ্ছামি

বল হরি, হরিবোল, তীর্থে যাবো
বিভেদের মন্ত্রে স্বর্গ পাবো
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু
মানুষ কোরবানী মাশাল্লাহ্
হালেলুইয়া জেসাস ক্রাইস্ট,
ধর্মযুদ্ধে ক্রুসেড বেস্ট।

গানের ১ম প্যারা হলো হিন্দু ধর্মালম্বীদের গুরু প্রণাম মন্ত্র।

২য় প্যারা হলো আমাদের হজ্বের তালবিয়া

৩য় প্যারা হলো বুদ্ধ ধর্মের প্রার্থনাবাণী।

গানের এতটুকুর মধ্যে তারা একটা ধর্মনিরপেক্ষ ভাব আনার চেষ্টা করেছে। কিন্তু পরের অংশে তারা হিন্দু, ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্মকে কটাক্ষ করেছে।

'বিভেদের মন্ত্রে স্বর্গ পাবো' বলে তারা হিন্দু ধর্মের জাত-পাতের বিষয় এনে কটাক্ষ করেছে।

'মানুষ কোরবানী মাশাল্লাহ্' বলে তারা বুঝাতে চেয়েছে ইসলাম মানুষ হত্যা করার ধর্ম। অর্থাৎ ইসলামে ধর্মের নামে মানুষ খুন করা হয়।

'ধর্মযুদ্ধে ক্রুসেড বেস্ট' বলে তারা ক্রুসেড যুদ্ধ নিয়ে খিস্টান ধর্মকে কটাক্ষ করেছে।

এই গানে মুসলিমরা ক্ষুদ্ধ হওয়ার কারণ রয়েছে। এছাড়াও এখানে ভুল উচ্চারণে তালবিয়া পাঠ করা হয়েছে।

২৮ অক্টোবর 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’, হজ্বের এই তালবিয়াকে গানের মধ্যে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মিউজিক ব্যান্ড ‘মেঘদল’র বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ইমরুল হাসান নামের একজন আইনজীবী।

এর প্রেক্ষিতে ৩১ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মইনুল ইসলাম পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পিবিআইকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ১ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলায় মেঘদলের ভোকাল শিবু কুমার শিল, মেজবা-উর রহমান সুমন, গিটারিস্ট ভোকাল রাশিদ শরীফ শোয়েব, বেজ গিটারিস্ট এম জি কিবারিয়া, ড্রামস আমজাদ হোসেন, কীবোর্ড তানভীর দাউদ রনি ও বাঁশি সৌরভ সরকারকে আসামি করা হয়েছে।

এটা খুবই স্বাভাবিক যে, কেউ কারো আচরণে ক্ষুব্দ হলে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করবে। একটা সুস্থ সমাজ তাই মনে করে। সুস্থ সমাজ কখনো আইন হাতে তুলে নেওয়া পছন্দ করে না। আদালত তদন্ত করে রায় দিবে আসলেই সেখানে ক্ষুব্দ হওয়ার মতো বিষয় ছিল কিনা। আর এই আদালত, এই আইন এগুলো সব সেক্যুলারদের তৈরি। গত এক যুগ ধরে সেক্যুলাররা আমাদের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা বিচার ব্যবস্থাকে যাচ্ছেতাইভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। এরপরও তারা তাদের আদালতকে সহ্য করে না, আস্থা রাখে না।

মেঘদলের বিরুদ্ধে মামলা হওয়াটাকে তারা নিতে পারছে না। তাদের উচিত মামলা মোকাবেলা করা আইনগতভাবে। কিন্তু তারা তা না করে এখন তারা নতুন দাবি তুলেছে তারা ধর্মান্ধ লোকদের নির্মূল করতে চায়। অর্থাৎ যে মামলা করেছে ও যারা এই গানের প্রচারণায় অংশ নিয়েছে তাদের নির্মূল করতে চায়। এই নির্মূল কাজের পক্ষে সোশ্যাল মাধ্যমে পোস্ট করেছেন ঢাবির বেশ কয়েকজন শিক্ষকও। আমি বুঝি না তারা আসলে কী চায়!

সেক্যুলাররা তাদের প্রতিষ্ঠিত বিচারব্যবস্থায় আস্থা রাখে না কারণ তারা জানে এটা আসলে বিচারালয় নয়। এটা মূলত বিরোধীদের দমনের একটি হাতিয়ার। তারা ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে আদালতকে ব্যবহার করার জন্য এই দেশে দুই দুইবার ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। একবার ঘাদানিকের নামে ১৯৯২ সালে। ২য় বার গণজাগরণ মঞ্চের নামে ২০১৩ সালে। তাদের দাবি বিচার চাই না, ফাঁসী চাই। তারা যে ফাঁদ পেতে ইসলামপন্থীদের নির্মূল করতে চেয়েছে সেই ফাঁদে তারা পড়তে চায় না বলেই তারা মামলাকে ভয় পায়। মামলা মোকাবিলা করতে তারা আগ্রহী নয়।

যারা 'মেঘদল'র বিরুদ্ধে মামলাকে নিন্দা করছেন, তাদের কাছে আমাদের প্রশ্ন কেউ কোন বিষয়ে ক্ষুদ্ধ হলে কী করবে? চাপাতি নিয়ে আক্রমণ করবে? আপনারা তো তাই চান মনে হচ্ছে! আপনাদের তৈরি করা আইন ও বিচারালয়ের প্রতি আপনাদের আস্থা নাই কেন?

বাংলাদেশে সেক্যুলার সমাজ, তাদের গডফাদার আওয়ামীলীগ, গডফাদারের পেয়াদা ছাত্রলীগ আর এদেশীয় তালেবানপন্থী সমাজ, তাদের গডফাদার আল-কায়েদা, গডফাদারের পেয়াদা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মধ্যে কোনো তফাত নেই।

উভয় সমাজ তাদের প্রতিপক্ষকে নির্মূল করে দিতে চায়। চাপাতিই তাদের একমাত্র সমাধান। যেভাবে বন্দুকের নলের মুখে সমাধান দেখেছেন চীনের মাও সে তুং।

পঠিত : ১০০ বার

ads

মন্তব্য: ০