Alapon

আফগানিস্তানে ইরানের বিপদ



ইরানি শিয়া ও তালেবানের অবস্থান আদর্শগত দিক থেকে থেকে বহুদূরে। কিন্তু আমেরিকার সাথে টেক্কা দিতে গিয়ে তালেবান ও ইরান নিজেদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে এনেছিল। এই আগস্ট মাসে তালেবান নেতা বারাদার ইরান সফর করলেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল আফগানে তালিবান সরকারকে যাতে ইরান সহায়তা করে রাজনৈতিকভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে। বিনিময়ে তালিবান তাদের দেশে থাকা শিয়াদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করবে।

কিন্তু আফগানিস্তান থেকে সন্ত্রাসী যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার পর থেকে কয়েকটি বড় সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। পাঁচটি শুক্রবারে জুমআর নামাজ আদায়ের সময় পাঁচটি মসজিদে ভয়ানক হামলা হয়। বহু হতাহত হয়। ক্ষতিগ্রস্থ এই মসজিদ সবগুলোই হলো হাজারা শিয়াদের। এসব হামলায় ৪০০ এর বেশি মুসল্লি ইন্তেকাল করেন। প্রতিবারই বলা হয়েছে এগুলো নাকি আইএস দ্বারা হয়েছে। তালিবান সরকার নাকি বহু আইএসকে এরেস্টও করেছে। আফগানে শিয়াদের ওপর এই টাইপের হামলা আগে করতো তালিবান এখন করে আইএস। তালিবান সরকারের ভাষ্যমতে তালিবান নির্মূল করছে আইএস। অথচ এখনো আইএসের বিরুদ্ধে তালিবান সমর্থকদের ওপর একটি আক্রমণেরও অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

ইরান আফগানিস্তানে অর্থাৎ তালিবান সরকারকে প্রয়োজনীয় জ্বালানী তেল সরবরাহ করে আসছে অথচ এই তেলের অর্থ কীভাবে পরিশোধ হতে তা জানে না উভয় পক্ষই। এভাবে হামলা চললে ইরান সরকারের দুই বিপদ। প্রথমত শিয়াদের রক্ষায় ইরানের ভেতরে প্রবল চাল তৈরি হবে যা তালিবান সরকারের সাথে বিরোধ তৈরি করতে বাধ্য করবে। দ্বিতীয়ত আফগানের শিয়া শরনার্থীদের ঢল নামবে ইরানে। ইরান সরকার না চাইলেও তাদের রিসিভ করতে বাধ্য হবে।

তালিবান সরকার যদি শিয়াদের আইএসের হাতে হামলায় মারা যেতে দেয়, নাগরিক নিরাপত্তা না দিতে পারে তাহলে গত আগস্টে তালেবানেরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইরান সরকারের যে ইতিবাচক মনোভাব বজায় আছে তা ইরান চাইলেও বজায় রাখতে পারবে না। আবার আফগানে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির আরেক কুশিলব হতে পারে ভারতের র'।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইদানীং পাকিস্তানের ইমরান খান দুটা ইসলামী গ্রুপ নিয়ে পেরেশান- টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) আর টিএলপি (তেহরিক-ই-লাব্বায়েক পাকিস্তান)। এমনকি সুপ্রিম কোর্টও প্রধানমন্ত্রী ইমরানকে সমন জারি করে ডেকে অসন্তুষ্ট জানিয়েছেন। এদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী অবস্থান জানিয়েছিলেন। সেনাবাহিনী মনে করে এতে জীবন ও সম্পদ ক্ষয় হবে মাত্রাতিরিক্ত। তাই কৌশল হিসাবে এখনই সামরিক পদক্ষেপ বাতিল করা হয়েছে।

এই খবর আরো বিস্তারিত ছাপা হয়েছে পাকিস্তানের ‘ডন’ পত্রিকা। ডনের খবরে লেখা হয়েছে, এই সশস্ত্র গ্রুপগুলো ভারতের সাথে সম্পর্কিত। অনেকটা আমাদের দেশের জেএমবির মতো। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করেছে আফগানিস্তানভিত্তিক টিটিপির অন্যতম প্রধান সমর্থক ও অর্থদাতা হলো ভারত। পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা চালাতে নিষিদ্ধ গোষ্ঠীটিকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে আসছে দেশটি।’

ভারত তাদের কাশ্মির সমস্যা থেকে বাঁচতে পাকিস্তানের অভ্যন্তর অস্থিতিশীল করতে সশস্ত্র ইসলামী গ্রুপের ওপর নির্ভর করে যাচ্ছে। অর্থাৎ যে অভিযোগ আগে কেবল আমরা বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর ব্যাপারে জানতাম। আফগানে ভারতের এজেন্ডা নষ্ট হওয়ায় নতুন তালিবান সরকারের দুই মিত্র পাকিস্তান ও ইরানকে শায়েস্তা করছে ভারত, এমনও হতে পারে।

পঠিত : ৭৪ বার

ads

মন্তব্য: ০