Alapon

তরুণদের মধ্যে বাড়ছে ডায়াবেটিস রোগ



গত ১৪ নভেম্বর ছিল ডায়াবেটিক দিবস। খাদ্যভ্যাস ও লাইফস্টাইলের পরিবর্তনের কারণে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো এই রোগে তরুণদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। শিশুর গর্ভাবস্থায় মায়ের ও নবজাতকের পুষ্টির অভাব এ রোগ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। সমাজের ভবিষ্যৎ যারা, তারাই যদি অল্প বয়সে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে দেশ বিপদে পড়বে।

কিছুদিন আগেও অল্প বয়সের ডায়াবেটিস, অর্থাৎ টাইপ-১ বা ইনসুলিননির্ভর ডায়াবেটিস বলে প্রায় সর্বক্ষেত্রে ধরা হতো। কিন্তু ইদানীং স্থূলকায় শিশুদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। অল্প বয়সীদের ডায়াবেটিসের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের হার ১৯৯২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী শতকরা ২-৪ ভাগ থেকে এখন ৮-৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি
পেয়েছে।

অল্প বয়সীদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিবারে কারও না কারও ডায়াবেটিস রোগ থাকে। এদের মধ্যে শতকরা ৪৫ থেকে ৮০ ভাগের বাবা-মা যে কোনো একজনের আর শতকরা ৭৮ থেকে ১০০ ভাগ ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের বংশধরদের মধ্যে ডায়াবেটিসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। বাবা-মা দু'জনের যদি ডায়াবেটিস থাকে, তবে সন্তানের ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ। মায়ের যদি ডায়াবেটিস থাকে, বিশেষ করে গর্ভাবস্থায়, তবে সন্তানের ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা বেশি হয়।

অল্প বয়সে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের কারণ হলো ভাইরাসজনিত অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ এবং ফলস্বরূপ ইনসুলিনের অভাব। পুষ্টির অভাবে গর্ভাবস্থা ও জন্মের পরে ইনসুলিন নিঃসরণকারী বিটাসেলের অপরিমিত বৃদ্ধি অন্যতম কারণ। অল্প বয়সে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে স্থূলতার হার, যাদের ডায়াবেটিস নেই তাদের চেয়ে অনেক বেশি। বর্তমান সময় ছোটরা পরিশ্রম ও খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত। খাওয়া-দাওয়া প্রধানত এখন চটজলদি ফাস্টফুড বা ফ্রাইড চিপস চকলেট। খেলাধুলার বদলে টিভির কার্টুন দেখেই সময় কাটায় তারা। বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মোটা হওয়ার প্রবণতা তাই অনেক বেড়ে গেছে।

ডায়াবেটিস থেকে বাঁচার অন্যতম উপায় হলো যাদের ঝুঁকি রয়েছে তারা পরীক্ষা করে নেওয়া। শুরুতেই রোগ ধরা পড়লে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। এ অবস্থায় এটা জানা জরুরি যে, কারা ঝুঁকিতে আছেন, এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো কী এবং পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে কীভাবে।

বর্তমানে তরুণ ও মধ্যবয়সীদের মধ্যে ডায়াবেটিস হওয়ার যেসব রিস্ক ফ্যাক্টর আছে সেগুলো হলো: পরিবারে কারো ডায়াবেটিস থাকা, শারীরিক পরিশ্রম কম করা, ধূমপান করা, অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান করা, অপর্যাপ্ত ঘুম, বাড়তি মানসিক চাপ, উচ্চরক্তচাপ, স্থূলতা, উচ্চ কোলেস্টেরল, এবং পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রম বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকা।

বারবার প্রস্রাবের বেগ আসা ডায়াবেটিসের একটি লক্ষণ, কারণ এ সময়ে শরীর বাড়তি গ্লুকোজ বের করে দিতে চায়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে যেহেতু বারবার প্রস্রাবের সমস্যায় ভুগতে হয় ফলে তৃষ্ণাও পায় বেশি। শরীরের বিভিন্ন কোষে যেহেতু চিনির পরিমাণ কমে যায় ফলে শরীরও শক্তি পায় কম। ফলে ক্লান্তি ও অবসাদ বেশি হয়।

আবার অনেকের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের কারণে যেহেতু কোষগুলো পর্যাপ্ত গ্লুকোজ শোষণ করতে পারে না, শরীর শক্তি গ্রহণ করে জমে থাকা চর্বি থেকে। ফলে ওজন অনেক কমে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগেই নিতে পারেন কিছু পূর্বপ্রস্তুতি। খাবারের তালিকা থেকে পরিশোধিত শর্করা ও চিনি বাদ দিয়ে দিন। এগুলো শরীরে চিনির পরিমাণ বাড়াতেই থাকে, যেটা পরবর্তীতে ডায়াবেটিস ডেকে আনে। পরিশোধিত শর্করার পরিবর্তে জটিল শর্করা যেমন গোটা শস্যদানা, ওটমিল ও শাকসবজি যোগ করুন খাবারের তালিকায়।

সিগারেট পান করা ছেড়ে দিন। সিগারেটের কারণে ইনসুলিন তৈরিতে বাধা সৃষ্টি হয়।ফলে টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। ধূমপান ছাড়লে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে।

নিয়মিত ব্যায়ামও ভালো কাজ দেয় এক্ষেত্রে। শারিরীকভাবে সচল থাকা এবং বেশিক্ষণ বসে না থাকা কাজে আসতে পারে। হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, যোগব্যায়াম করতে পারেন দিনে অন্তত ৩০ মিনিট।

অনেক বেশি পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।তাতে ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকবে আর পেটও ভালো থাকবে। খাবাবে পর্যাপ্ত আঁশ থাকলে ইনসুলিন অকেজো হয়ে পড়া রোধ করে এবং রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

একটু সচেতন থাকলে তরুণ বয়সেই নিজেকে অসুস্থতার বেড়াজালে দেখতে হবে না।

পঠিত : ৮৭ বার

ads

মন্তব্য: ০