Alapon

সাধারণ জনতা এখন পরিবহন মালিকদের হাতে জিম্মি...!



গতকাল ক্লাসে যাওয়ার জন্য সকাল সকাল বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দাঁড়ালাম। কিন্তু গিয়ে দেখি, অনেক মানুষ বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। অথচ, এমনটা তো সচারাচর দেখা যায় না। একটু পর পরই বাস আসে, আর মানুষ সেগুলোতে উঠে যায়। কিন্তু আজ বাসের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। বেশ কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকার পর অনেকটা বাধ্য হয়ে পাঠাও বাইকে করে ক্লাসে গেলাম। যেতে যেতে দেখলাম, রাস্তায় বাসের সংখ্যা কম। মোড়ে মাড়ে অফিসগামী মানুষেরা বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু বাসের দেখা নেই।

ঢাকার রাস্তায় হঠাৎ বাস কম, তার মানে কোনো ধর্মঘট চলছে কি? হ্যা, বাস শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘট চলছে। এই ধর্মঘটকে বাস শ্রমিকদের ধর্মঘট না বলে বাস মালিকদের ধর্মঘট বলাই শ্রেয়। আর এই ধর্মঘট সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলার ধর্মঘট। এই ধর্মঘট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার ধর্মঘট। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অন্যায় দাবি পূরণের ধর্মঘট। সাধারণ জনতাকে জিম্মি করে অন্যায়ভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ধর্মঘট।

কিছুদিন পূর্বেই সরকার ডিজেলের দাম ২৩% শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। অর্থাৎ ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে বাস মালিকগণ ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে সারাদেশে তিন দিন অবরোধ করে। এসময় সারাদেশের লাখ লাখ মানুষকে বিপাকে পড়তে হয়। আর এই অবরোধের সময় সরকারকে খুব অস্বাভাবিক নীরব থাকতে দেখা যায়। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল, এই অবরোধে সরকারেরও সমর্থন রয়েছে। আর সেই প্রমাণ মিলে, যখন সরকার বাস মালিকদের দাবি অনুসারে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি করে। যদিও বাস মালিকদের দাবি ছিল পূর্বের ভাড়ার চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি ভাড়া বৃদ্ধি করা হোক। কিন্তু বিআরটিএ ২৮% শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করে। সেইসাথে ঢাকা শহর থেকে সিটিং সার্ভিস তুলে দেওয়া হয়। বিপত্তি বাধে এখানেই!

সরকার তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে ২৩ শতাংশ। আর বিআরটিএ বাস মালিকদের দাবির বিপরীতে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি করেছে ২৮ শতাংশ। ফলে বাস মালিকদের খুশি হওয়ারই কথা। কিন্তু বিআরটিএ যখন সিটিং সার্ভিস তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে, ঠিক তখনই বাস মালিকদের মুখের হাসি উবে যায়। কারণ, দির্ঘদিন ধরে বাস মালিকেরা যে সিটিং সার্ভিসের নামে, সাধারণ মানুষের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছিল, তা বন্ধ হয়ে যাবে। আগে, এক চেক পার হলেই অতিরিক্ত ১০ টাকা বা ১৫ টাকা গুনতে হতো। সিটিং সার্ভিস তুলে দেওয়ার কারণে এই অতিরিক্ত ভাড়া আর দিতে হচ্ছে না। ফলে, বাস মালিকদের অতিরিক্ত কামাইও বন্ধ হয়ে গেছে। আর এই অতিরিক্ত কামাই বন্ধ হওয়ায় মাস মালিকেরা আবারও অঘোষিত ধর্মঘট ডেকেছে। এমনকি তারা নিজেদের প্রস্তাবনা অনুসারে সাধারণ মানুষের থেকে ৪০ শতাংশ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। আর এই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে যখন ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালাচ্ছে, তখনই বাস মালিকেরা নাখোশ হয়েছে। এ কারণেই তারা পরিবহন ধর্মঘট ডেকে তাদের অন্যায় আবদার বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। আমরা সাধারণ মানুষ নিরুপায়! তাই এবারও হয়তো আমাদের পকেট থেকে বাড়তি টাকা গুনতে হবে!

পঠিত : ৬১ বার

ads

মন্তব্য: ০