Alapon

আমার নানা আলহাজ্জ হযরত মাওলানা অহিদুর রহমান (রহ.) কে নিয়ে কিছু স্মৃতি কথা



আমাদের নানার বাড়ি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত ১ নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়ন সকদিরামপুর গ্রামে অবস্থিত। বাড়িটি এলাকায় হাজী বন্দে আলী মুন্সি বাড়ি নামে পরিচিত।
মরহুম (নানার পিতামহ) বন্দে আলী পূর্ব বাংলায় একজন ইসলাম প্রচারক ছিলেন। আবহমানকাল ধরে বাড়িটি ইসলামি তাহযিব ও তামাদ্দুনের বাতিঘর হিসেবে পরিচিতি ছিলো এবং এখনো আছে।
মূল সড়ক থেকে কোয়াটার কিলোমিটার দূরে আঁকাবাঁকা মেঠোপথ ধরে সবুজ বৃক্ষের ছায়াপথ পার হয়ে বাড়ির অবস্থান। প্রবেশ পথে ডানে বিশালাকৃতির পুকুর ও বামে কবরস্থান এবং সম্মুখে রয়েছে কাচারি ঘর (মক্তব ঘর বা পাঞ্জেগানা মসজিদ)।

আমি আমার ক্ষুদ্র জীবনে নানাকে যেভাবে দেখেছি আজ তার কিঞ্চিৎ তুলে ধারার চেষ্টা করবো। পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত অনেক মানুষ জন্ম গ্রহণ ও মৃত্যুবরণ করছে , সবাই কিন্তু স্মরনীয় ও বরণীয় হয় না। যারা সমাজ, রাষ্ট্র বিনির্মাণে অবদান রাখে তাদেরকে মানুষ কিছু দিন স্মরণ করে । কিন্তু যার এর পাশাপশি শিক্ষা সাহিত্য ও নৈতিক মূল্যোবোধ সৃষ্টিতে আলোকবর্তিকার ন্যায় ভূমিকা রাখে তাদেরকে মানুষ বেশীদিন মনে রাখে । এজন্য তাঁরা অমর হয় । মুমিনরা তাদের জন্য দোয়া করে। তাদের মৃত্যুতে জমিন ও আসমানবাসি কেঁদে ওঠে এবং তাদের জন্য দোয়া করে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আলেমদের ওপর স্বয়ং আল্লাহ ও তার ফেরেশতাগণ এবং আসমান ও জমিনের সব মাখলুক এমনকি পিঁপড়া আপন আপন গর্তে এবং মাছ পানির ভেতর আপন আপন পদ্ধতিতে রহমতের জন্য সর্বদা দোয়া করতে থাকে।’ (তিরমিজি : ২৬৮৫) আমি মনেকরি আমার নানাও এ ধরনের একজন আলোকিত মানুষ ছিলেন ।

আমার নানা হলেন মরহুম আলহাজ্জ হযরত মাওলানা অহিদুর রহমান । তিনি তৎকালীন বৃটিশ ভারতে অর্থাৎ ১৯৩৪ সালে মরহুম আযীযুর রহমান মুন্সির ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন । মরহুম আযিয একজন সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং এলাকায় সরকার কতৃক নিযুক্ত ফুড কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। নানা তাঁর জীবনে বৃটিশ ভারত, আজাদী আন্দোলন, পকিস্তান সৃষ্টি ও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের পথ পরিক্রমায় বিচরণ করেছেন। নানা ৮৯ বছর হায়াত লাভ করেছিলেন।


আমার নানার বাড়ি নানা কারণে বাড়িটি ইসলামি সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধারণ করে। যেমন মক্তব প্রথা, পর্দা প্রথা, মহিলা ও পুরুষের জন্য আলেদা পুকুর ঘাট (পর্দা সহ), বিভিন্ন ইসলামিক জলসা অন্যতম।
আজকাল তো মক্তব প্রথা হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ বাড়িতে এখনো তা বহাল আছে। এ বাড়ীতে অনেক কোরআনে হাফেজ, অলেম-ওলামা ও জ্ঞানী-গুনী জন্ম নিয়েছে। যারা দেশে বিদেশে সুনামের সাথে দ্বীন প্রচারের কাজ অঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে।

ছাত্রজীবন থেকে নানাভাই খুবই মেধাবী ছিলেন। ছাত্র অবস্থায় বহু ছাত্র তার কাছে পড়তে আসতো। মাঝে মধ্যে তাঁর শিক্ষকগণ তাকে ক্লাস নিতে বলতেন। নানা বলেছেন, তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য শর্শিনা মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন তবে আবহাওয়া জনিত কারণে তিনি সেখানে কিছুদিন থেকে চলে আসেন। ১৯৬১ সালে ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদরাসা থেকে কামিল পাশ করেন ।

নানা ভাই কর্মজীবনে বেশ সুনামের সাথে অতিবাহিত করেছেন। পড়াশোনা শেষ করার পরপরই তিনি চান্দ্রা মাদরাসায় হেড মাওলানা হিসেবে যোগদান করেন। এরপর মূলফতগঞ্জ ফাজিল মাদরাসায় উপাধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন । সেখান থেকে ফরিদপুর সদর অন্তর্গত বাকিগন্জ ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসা উপাধ্যক্ষ হিসেবে দীঘদিন শিক্ষকতা করেন। ১৯৯০ সালে তিনি নিজ উপজেলায় অবস্থিত মাছিমপুর ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন । সুনামের সাথে উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০০ সালের জুন মাস পর্যন্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন । ২০০১ সালে তিনি পবিত্র হ্জ্জ পালন করেন । তিনি একাধারে একজন ইমাম, খতিব, শিক্ষক ও চিকিৎসক ছিলেন । আমি আমার নানাকে এলাকার কয়েকটি মসজিদ ও ঈদগাহে খোতবা দিতে দেখেছি।

আমার নানা পেশাগত ও অবসর জীবনের প্রায় সময়ে নিজ বাড়িতে ছাত্রদেরকে ইলমুন নাহু , আরবী সাহিত্য ও হাদিসের দারস প্রদান করতেন। বহু ছাত্র দূর দূরান্ত থেকে নানার কাছে পড়েতে আসতেন। তিনি মাতৃভাষার পাশাপাশি আরবী, উর্দু ও ফার্সি ভাষাও বিশেষ দক্ষ ছিলেন।

তিনি জ্ঞান পিপাসু ছিলেন। হাদিস, তাফসির, ফিকাহ ও ইসলামী সাহিত্য নিয়োমিত অধ্যয়নের সাথে সাথে সিরাতের প্রতি তাঁর আগ্রহ বেশি ছিলো। অবসর জীবনে বই ছিলো তার পরম বন্ধু। কুমিল্লা, চাঁদপুর, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ যেখানেই তিনি বেড়াতে যেতেন, সেখানেই বই পড়তেন। আমাদের বাসায় যখন তিনি আসতেন তখন সারাদিন বই নিয়ে পড়ে থাকতেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ে নানাভাই ছিলেন সচেতন।

তিনি মানব সেবার জন্য চিকিৎসা সেবা বেছে নিয়েছিলেন । বহু মানুষ চিকিৎসা সেবা জন্য তাঁর কাছে আসতো । তিনি যখন ঢাকায় মামার বাসায় থাকতেন তখনও দেখেছি দূর দূরান্ত থেকে অনেকে ঔষধ নিতে আসতো।

নানা আমাদের পরিবারের জ্ঞানগত সংকট ও নৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নবি সা. এর জীবন ও বিভিন্ন শিক্ষা মূলক ঘটনা গল্প আকারে বলতেন। তিনি আদেশ নয় বরং আমছাল তথা বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে শিক্ষা দিতেন। চাতক পাখির ন্যায় পরিবারের অন্দরমহলের সকলে তা শুনতেন। তিনি সরাসরি কারো ভুল না ধরে সাহাবা আজমাইনের ঘটনা বলে সংশোধনের চেষ্টা করতেন।

বিভিন্ন নবিদের ঘটনা বলতে গিয়ে নানা (রহ.) অনেক সময় বিভিন্ন কিতাবের সুত্রের বর্ণনা করতেন। এক্ষেত্রে নানাকে বারবার প্রশ্ন করতাম। তিনি কখনো বিরক্ত হতেন না। বরং বেশী বেশী পড়াশোনার জন্য উৎসাহ দিতেন। আমি মূলত নানা কাছ থেকেই বিভিন্ন নবিদের জীবনী অধ্যায়নের অনুপ্রেরণা লাভ করি।

শরিয়া পরিপালনে আমি নানাকে যতবারই দিখেছি ততোবারই মুগ্ধ হয়েছি। তিনি সবসময় মধ্যমপন্থ্যা অবলম্বন করতে চেস্টা করতেন। উনাকে দেখে তিনি কোন পীর বা দলেন অনুগামীতা বুঝা যেতো না। নানা সবসময় পীর মাশায়েখদের বিভিন্ন ঘটনা আমাদের সাথে আলোচনা করতেন।
একদিন আমি নানাকে বলেছিলাম : নানা, আপনি কোন পীরের মুরিদ? নানা বলছেন যে, আমি পীরের মুরিদ হতে চয়েছি তবে সেই মানের কাউকে খুঁজে পাইনি যার হাতে বায়াত নিবো। তবে তিনি ফুরফুরা ও শর্শিনার মরহুম পীর সাহেবানদের তারিফ করতেন।
এছাড়া কুমিল্লা বৃহৎ তাফসিরের মাহফিলে যোগ দিতে আমাদের বাসায় আসতেন। তিনি যেমন ওয়াজ করতেন আবার তেমনি ওয়াজ শুনতেন।

নানা ভাই আমাদেরকে সবসময় প্রিয় নবিকে সা. ভালোবাসার জন্য উৎসাহ দিতেন। বলতেন নবিকে ভালো না বাসলে ঈমানদার হওয়া যাবে না। যা এ হাদিসেরই প্রতিচ্ছবি। হযরত আনাস রা. বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও সমস্ত মানুষ থেকে প্রিয় হব। (সহীহ বুখারী : ১৫)।

তিনি মিলাদ কিয়াম করতে । বেশী বেশী দুরুদ ও সালাম পড়তে বলতেন । তিনি এ আয়াত পড়ে শুনাতেন ‘নিশ্চয়ই আমি (আল্লাহ) স্বয়ং এবং আমার ফেরেস্তাগণ নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর দরুদ পাঠ পূর্বক সালাম প্রেরণ করিয়া থাকি; হে মুমিনগণ তোমরাও তাঁহার ওপর দরুদ পাঠ কর এবং সালাম প্রেরণ কর।’ (সূরা: আহযাব, আয়াত: ৫৬)

ব্যাক্তিগত জীবনে নানা ছিলেন সুন্নতের পাবন্দি । তাহাজ্জুদ গুজার ছিলেন । আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ভালোবাসা তাঁর অন্তরকে সজীব করেছিলো। তিনি ফরজ , ওয়াজিব ও নফল নামাজ বড় কেরাতে দীর্ঘ সময় ধরে পড়তেন। মুনাজাতে মুসনুন দোয়া গুলো দীর্ঘ সময় ধরে বলতেন ।

নানাজান অল্পভাষী ছিলেন। অপ্রয়োজনীয় গালগল্প করতেন না। পরিচিত জনের সাথে যখন গল্প করতেন, তখন সে গল্পের আসর দ্বীনি মজলিসে রুপ নিতো ।

আমি আমার নানাকে কখনো রাগ করতে দেখিনি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের মতামত দিতেন এবং কিন্তু চাপিয়ে দিতেন না। আমি সব সময় তাঁর প্রশান্তির হ্নদয় দেখেছি।

পোষাক পরিচ্ছেদ সবসময় ছিলো পরিপাটি এবং সুন্নাহভিত্তিক। তিনি সবসময় কলারসহ বা কলার ছাড়া জুব্বা পড়তেন। ব্রাশ ও মেসওয়াক উভয়ই নিয়মিত ব্যবহার করতেন।

তিনি সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন । নিজের কাজ নিজে করতেন । তিনি নিজ জমিতে চাষাবাদ কতেন। কোন এক সময় আমি নানার সাথে রসুন বা পেয়াজ ক্ষেতে যাই । নানা বেশির ভাগই রোপন করেন । আমিও রোপন করি । ফসল তোলার সময় দেখা গেলো আমি যে জায়গাতে রোপন করেছি সেখানে পেয়াজের সাইজ অনেক ছোট হয়েছে ।
নানা বললেন তুমি বিসমিল্লাহ বলোনি । আমি প্রতিটি বীজ রোপনের সময় বিসমিল্লাহ বলেছি । তাই আমার সাইটের ফলন ভালো হয়েছে।
কৃষি কাজকে নিজের জন্য সম্মানের মনে করতেন । অহঙ্কারী ভাব কখনো দেখিনি।

নানা শিশুদেরকে খুবই স্নেহ করতেন। আমারা খালাতো ও মামাতো ভাই বোন মিলে সর্বমোট ১৭জন। সবার নাম তিনিই রেখেছেন। সকলকে খুবই আদর স্নেহ করতেন। প্রচুর সময় দিতেন। তিনি প্রায় আমাদেরকে এ হাদিসটি শুনাতেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদেরকে স্নেহ করে না এবং আমাদের বড়দেরকে সম্মান করে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (আবু দাউদ, আদাবুল মুফরাদ, বুখারি; মুসনাদে আহমাদ)

আমি যখন খুব ছোট ছিলাম, তখন তিনি মাদরাসা থেকে কিছু না কিছু নিয়ে আসতেন । এবং মুচকি হাসি দিয়ে জড়িয়ে ধরতেন । নানার সাইকেল নিয়ে কত যে দুষ্টমি করেছি বলে শেষ করা যাবেনা । আমি বেড়াতে আসলে সাইকেল রিপেয়ারিং করতে হতো নিয়োমিত । কিন্ত সাইকেল নিয়ে তিনি কখনো আমাকে একটি ধমক ও দেননি ।

আমার মামা ও খালারা সবমিলিয়ে পাঁচ জন। দুই মামা এবং তিন খালা । প্রত্যেকেই দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত এবং প্রতিষ্ঠিত । বড় মামা আলহাজ্জ্ব হাফেজ মাওলানা মু মাজহারুল হক ঢাকা রেলওয়ে হাফিজিয়া সুন্নিয়া আলিম মাদরাসার সহকারী শিক্ষক এবং সবুজবাগ মসজিদের খতিব । ছোট মামা মাওলানা সালাহউদ্দিন আইয়ুবী সহকারী অধ্যাপক , ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজ, চাদঁপুর । বড় খালা ফাতেমা বেগম সাথী একজন গৃহিনী ও মোয়াল্লিম । আমার মা মাওলানা ফরিদা ইয়াসমিন , সহকারী শিক্ষক , ইবনে তাইমিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, কুমিল্লা । ছোট খালা ফাহিমা আক্তার, সহকারী শিক্ষক, বর্ণমালা কিন্টার গার্ডেন স্কুল , নারায়ণগঞ্জ।

গত ২৯ মার্চ ২০২২ ভোর বেলা নানা ভাই বার্ধক্য জনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন । আমার বড় মামা তাঁকে কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসকগণ তাকে দ্রুত আইসিউতে নিয়ে যায়। অবস্থার উন্নতি না হওয়াতে সন্ধ্যা ৭.০০ ঘটিকায় রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে সিসিইউ ইউনিটে ভর্তি করানো হয়। ৩১শে মার্চ ২০২২ তথা ২৭শে শাবান ১৪৪৩ বৃহস্পতিবার রাত ১.১০ মিনিটে চির্ক ষা সেবার অবসান ঘটিয়ে ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। হে আল্লাহ, এ পবিত্র মাহে রমজানে তোমার দরবারে ফরিয়াদ, তাঁর ইলমে দ্বীনের খেদমত সমূহ কবুল করো এবং সকল ভুল ত্রুটি ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ, আমাদেরকে তাঁর ইলমের উত্তরসূরি হিসেবে কবুল করো। নানার সাথে আমাদেরকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান বানিয়ে দাও। আমিন ।

তানভীর আহমাদ
১৩ এপ্রিল,২০২২
১১ রমজান ১৪৪৩

পঠিত : ১৭৭৫ বার

মন্তব্য: ০