Alapon

"রাজনীতি-রাষ্ট্র ও دين (দ্বীন)"



"রাজনীতি-রাষ্ট্র ও دين (দ্বীন)"

আরবীতে دين শব্দটির কয়েকটি অর্থ আছে। যার এক অর্থ হলো-প্রভূত্ব ও প্রাধান্য, শক্তি ও আধিপত্য।

দুই. আনুগত্য ও দাসত্ব।

তিন. প্রতিফল ও কর্মফল এবং

চার. পথ পন্থা ব্যবস্থা ও আইন।

এখানে যদি ভালোভাবে খেয়াল করি তাহলে দেখবো যে, আল্লাহ বলেছেন الدِّیْنَ অর্থাৎ একমাত্র দ্বীন। শুধু দ্বীন বলেননি। যদিও শুধু দ্বীন বললেও হয় তবুও আল্লাহ আদ-দ্বীন বলেছেন। আমি যদি আরোও সহজ করে বুঝাই তাহলে ব্যাপারটি দাঁড়ায় এভাবে— আরবীতে যখন আমরা বলি, 'বাইতুন' (بيت) তখন এর অর্থ দাঁড়ায় 'একটি ঘর'। কিন্তু সেই 'বাইতুন' (بيت) কে যদি আমরা 'আল বাইত' (البيت) বলি তাহলে অর্থ দাঁড়ায় 'ঘরটি'। অর্থাৎ প্রথমটির অর্থ— একটি ঘর আর দ্বিতীয়টির অর্থ—ঘরটি। মানে এটিই একমাত্র ঘর।

ঠিক তেমনি আল্লাহ বলেছেন, আদ-দ্বীন(الدِّیْنَ) মানে হলো—একমাত্র পথ। দ্বীন (دين) অর্থ পথ। তবে তা যেকোনো পথ হতে পারে। আর আদ-দ্বীন অর্থ একমাত্র পথ। এখন কথা হলো ইসলাম আমাদের জন্য 'একমাত্র পথ' কিনা!

জি। একমাত্র পথ। আল্লাহ ‘আদ-দ্বীন’ বলে আর কোনো সুযোগ রাখেননি।

প্রশ্ন হলো, যদি ইসলাম একমাত্র পথ হয়ে থাকে তাহলে তো সেইপথে সবকিছুই বিদ্যমান থাকবে। নাকি কোনো সেক্যুলার ব্যক্তিদের ফান্ডিং সেই পথকে সংকীর্ণ করে দিবে?

হ্যাঁ, ‘দ্বীন’-এ সব কিছুই আছে। ইসলামে আনুষ্ঠানিক ইবাদাত ছাড়াও আছে রাজনীতি, আইন, বিচারনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি,রাষ্ট্রনীতি, জীবনব্যবস্থা, দর্শন-ধ্যান, সাহিত্য, সংস্কৃতি, যুদ্ধ ও সন্ধি,আন্তর্জাতিক নীতিসহ সবকিছুই ইসলামে আছে। আর এর সবকটা একটি অপরটির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আর ওপরের এই সবগুলোই-ই কাভার করে একটি STATE বা রাষ্ট্র। সুতরাং আমরা বলতে পারি ‘দ্বীন’-এর আরেকটি অর্থ হলো—রাষ্ট্র, বিশাল অর্থে খেলাফত।

আল্লাহ যখন বলেন, دين কায়েম করো। এর অর্থ হলো, রাষ্ট্রকে কায়েম করো। অর্থাৎ নবীর হেদায়েতের আদলে রাষ্ট্রকে কায়েম করো। সুতরাং রাষ্ট্রকে গড়তে হলে ইসলামী রাজনীতিটাই মূখ্য। তুরস্কের ফান্ডিং করা সেক্যুলার রাজনীতি নয়।

~সাইফুল্লাহ

পঠিত : ৫৮ বার

ads

মন্তব্য: ০