Alapon

মন্তব্য যখন গন্তব্য হারায়

"মন্তব্য যখন গন্তব্য হারায়!"
✍️মাসুম বিল্লাহ বিন নূর

ইস্যুর রাজ্যে বসবাস আমাদের। নিত্যনতুন ইস্যূ খেয়েই যেন বেঁচে আছি‌। একটা ইস্যু আলোচনায় থাকতেই আরেকটি ইস্যুর অবতারণা হয় এখানে। আর আমরাও অকপটে গিলতে থাকি একের পর এক। এখানে আমরা এতোটাই অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হয়েছি যে প্রতিটি ইস্যুতেই নিজেদের একেকজন পণ্ডিত বলে মনে হয়। প্রত্যেকটি ইস্যুতে মন্তব্য যেন করতেই হবে‌।

ঘটনার আগাগোড়া জানার বালাই নেই। নেই প্রেক্ষাপট বুঝার কোনো ফুরসত। বাহ্যদৃষ্টিতে যাই দেখি, তাতেই দার্শনিক স্টাইলে মন্তব্য করে বসি! এই যেমন সম্প্রতি চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কথাই ধরুন না। আমরা প্রায় সবাই দারুণ গবেষণা করেছি এটা নিয়ে। চায়ের আড্ডায়, খেলার মাঠে সে-কি বক্তব্য একেকজনের! অথচ এই যুদ্ধের আগে অনেকেই ইউক্রেন নামক দেশটির নাম‌ই হয়তো জানতাম না। তাদের বিগত ১০ বছরের ইতিহাস‌ও আমরা জানি না। তাদের ধর্মবিশ্বাস, তমদ্দুনিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইত্যাদি মৌলিক বিষয়ে তেমন কোনো ধারণাই আমাদের নেই। অথচ কথা শুনলে মনে হয় আমরা তাদের নিয়ে রীতিমতো পিএইচডি গবেষণা করেছি!

আবার সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জে ঘটে যাওয়া কথিত ধর্ম অবমাননার কথাই ধরুন। দেশে ও আন্তর্জাতিক মহলে এ নিয়ে সে কি হুলস্থুল কাণ্ড! অথচ প্রকৃত ব্যাপার সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। এর চাইতেও মারাত্মক ধর্মবিদ্বেষ প্রকাশ্যেই ছড়াচ্ছেন অনেকে, তা নিয়ে কিছুই হয়নি। কিন্তু আমরা তিলকে তাল বানানোর মতোই শুধু ফেইসবুকের দু'চারটে খবর দেখেই বড্ড লাফালাফি করেছি। এর পূর্বে কুমিল্লার পূজামন্ডপে মূর্তির পায়ে কুরআন রাখার ঘটনটিও প্রায় এক‌ই ধরনের হয়েছে।

মন্তব্য করার আগে আমরা প্রকৃত ঘটনা ও এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে খুব কম‌ই আগ্রহী। সাধক সত্যানন্দ বলেছিলেন- "অনেক কথার অনেক দোষ, ভেবেচিন্তে কথা কোস।" এ ব্যাপারে বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হানিফ সঙ্কেতের একটি কথা উল্লেখ না করলেই নয়। তিনি বলেছেন- "কথা বলার সময় অন্যে টের পেয়ে যাবার আগে ঢের ভেবে নেওয়া উচিত এর জের কোন দিকে যাবে!" এই ভাবনাটার অভাবে সোস্যাল মিডিয়ায় আমাদের অপরিপক্ক মন্তব্যগুলো ইস্যু নামক তিলকে তাল বানায়, কখনোবা তালটা অদৃশ্য হয়ে যায়! অনেক ছোট ইস্যু ভাইরাল ইস্যুতে পরিণত হয়, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুও গুরুত্ব হারায়।

অপরদিকে বর্তমানে বাস্তবতা উপলব্ধির চাইতে ট্রল করা মানুষের সংখ্যা বেশি। যা আমাদের প্রকৃত সমস্যা সমাধানের পথ থেকে যোজন যোজন দূরে ঠেলে দিচ্ছে। অসংখ্য জটিল সমস্যায় জর্জরিত হয়েও দেয়ালে পিঠ ঠেকার অনুভূতি পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে আমাদের, যা নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার মতোই ব্যাপার!

তাই আসুন মন্তব্য করার আগে একটু ভেবে নিই, প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করি, বুঝার চেষ্টা করি ঘটনার পেছনের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য। নিজে সচেতন হ‌ই, অন্যকে সচেতন করি।

পঠিত : ৫২ বার

ads

মন্তব্য: ০