Alapon

পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে খোঁচা দিয়ে কথা বললে কী হয় জানেন?



পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে খোঁচা দিয়ে বা আক্রমণাত্মক উপায়ে কথা বললে কী হয় জানেন? এমন আচরণ ভালো একটা মুহূর্তের সৌন্দর্যকে নষ্ট করে দেয়। সবাই একসাথে কিছু মুহূর্ত উপভোগ করছেন। তারপর একজন হয়তো বলে উঠল— তুমি এভাবে বসে আছো কেন? তুমি অমুক কাজটা কেন করেছো? তোমার তো ওটা করার কথা ছিল, করোনি কেন?

হয়তো এটা খারাপ কোনো কথাও নয়। আমি শুধু মানুষের ভুল ধরিয়ে দিতে চাই।
এমন আচরণ যদি নিয়মিত করতে থাকেন একসময় কী হয়? এরফলে পরিবারের সদসদের মাঝে দূরত্ব তৈরী হতে শুরু করে। কেউই এমন কারো আশে পাশে থাকতে চায় না, যে সবসময় শুধু সমালোচনা করে। এমন কারো সাথেও কেউ থাকতে চায় না, যে সবসময় মানুষকে উপহাস করে; অন্যদের অপমান করতে ভালোবাসে।

আপনার কোনো বন্ধুও যদি এভাবে সর্বদা ত্রুটি খুঁজে বেড়ায়, আপনি তাকে কল করা বন্ধ করে দেন। তার সাথে আর আড্ডা দিতে চান না।

পরিবারের ভেতরে যদি এমন আচরণ চলতে থাকে, স্বামী স্ত্রী যদি সারাক্ষণ একে অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ায়, ভাই-বোনের মাঝেও যদি এমন ব্যবহার দেখা যায়, তখন এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে পরিবারের সদস্যরা একে অন্যের সাথে আর সময় ব্যয় করতে চায় না।

বস্তুত, ঘরের লোকজনের সাথে পাঁচ মিনিট সময় ব্যয় করলেই একটু পর আলোচনা খুবই খারাপ দিকে মোড় নেয়। কুৎসিত আকার ধারণ করে।

আমাকে আপনাকে এ জ্ঞানটা দেওয়া হয়েছে যে, আমরা বুঝতে পারি কখন আলোচনা কুৎসিত দিকে মোড় নিচ্ছে।

ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকেও কোনো সমস্যা আলোচনা করা যায়। কম ব্যাঙ্গাত্মক, কম আক্রমণাত্মক, কম কষ্টদায়ক, কম সমালোচক উপায়েও কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলা যায়। আমাকে আপনাকে কষ্ট করে এই অনুশীলনটুকু করতে হবে।

অনুশীলনটা কী? আমার মুখ খোলার আগে আমাকে চিন্তা করে দেখতে হবে— একটু ভালোভাবে কি ব্যাপারটা তোলা যায়?

আপনার চেয়ে আপনার স্ত্রীকে ভালোভাবে কেউ চিনে না। আপনার চেয়ে আপনার স্বামীকে ভালোভাবে কেউ চিনে না। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও আমরা ভালোভাবে চিনি। একই রকম ঝগড়া আগেও বহুবার হয়েছে। সুতরাং, এখন আমি যদি আগেরবারের মতো বিষয়টা উপস্থাপন করি, আমার আপত্তিটা প্রকাশ করি, হয়তো এটা ভালো কোনো দিকে গড়াবে না। তাই, আমাকে উত্তম কোনো উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

আর এটাই হলো— (قُوۡلُوۡا لِلنَّاسِ حُسۡنًا) কুউলুউ লিন নাসী হুসনা। অর্থাৎ— "তোমরা লোকের সাথে উত্তমভাবে কথা বল।" (সূরা বাকারা, আয়াত, ৮৩)

—নোমান আলী খানের খুৎবা থেকে।

পঠিত : ৪৩ বার

ads

মন্তব্য: ০