Alapon

তারা কি উটের দিকে লক্ষ্য করে না, কীভাবে সেগুলোকে সৃষ্টি করা হয়েছে?



পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বেশকিছু প্রাণীর কথা উল্লেখ করেছেন। কখনো উদাহরণ দিতে, কখনো বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে, কখনো কাফেরদের ঠুনকো ধ্যান ধারণার অপনোদন করতে মশা মাছির উদাহরণও টেনেছেন। এছাড়াও পিঁপড়া, মাকড়শা, মৌমাছি, কাক, গরু, হাতি, ঘোড়া ও উটের কথাও রয়েছে পবিত্র কুরআনে। সবগুলোর প্রেক্ষাপট ও ঘটনা এত চমৎকার যা জানতে হলেও অন্তত কুরআনের অর্থ পড়া উচিত। এমনি সুরা গশিয়ায় আল্লাহ তা'য়ালা উটের কথা বলেছেন। প্রশ্ন করেছেন, মানুষ কী দেখে না এসব উটের দিকে? এসব নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে না?

স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগে, মহান আল্লাহ এত সৃষ্টির ভিড়ে উটের কথা কেন এনেছেন পবিত্র কুরআনে? কী এমন বিশেষত্ব রয়েছে?

কদিন আগে ঘুরতে যাই মদীনা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে ঐতিহ্যবাহী শহর আল উলায়। যাবার পথে মরুভূমির একদম মাঝখানে উটের বিশাল বিশাল পাল চোখে পড়ল। যেখানে মানুষের কোনো বসতি নেই। আগ্রহ ভরে নেমে উটগুলোকে কাছে থেকে দেখতে লাগলাম। উটগুলো মরুভূমির রসকসহীন ক্যাকটাসজাতীয় গাছ খাচ্ছে। গরমে কয়েক দণ্ড অপেক্ষা করতেই ক্লান্ত হয়ে গেলাম। কিন্তু উটগুলো দিব্যি নিশ্চিন্তে আছে। বিশাল উটের পালকে দেখাশুনার জন্য একজন সুদানী তরুণকে দেখা গেল। কথা বলার চেষ্টা করলেও গ্রাম্য আরবীতে কথা বলায় খুব বেশিদূর এগোলো না। শুধু বোঝা গেল, উটের দেখাশোনা করতে সে এখানেই থাকে। ফেরার পথে কুরআনের আয়াতটি মনে পড়ছিল।

ইন্টারনেট ঘেঁটে উটের বেশকিছু মজার তথ্য পেয়েছি। পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরছি। তখন স্পষ্ট উপলব্ধি হবে, আল্লাহ সুব. কেন উটকে দেখে সৃষ্টি নিয়ে ভাবার কথা বলেছেন। উট প্রকৃতির অন্যতম একটি বিস্ময়।

মানুষসহ বেশিরভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহের তাপমাত্রা সাধারণত ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এর আশেপাশে থাকে। কিন্তু উট ৫৩ ডিগ্রি পর্যন্ত গরম এবং মাইনাস-১ ডিগ্রি শীতেও টিকে থাকে। দিনে প্রখর রোদে উত্তপ্ত বালুতে চলাচল এবং রাতে তীব্র ঠাণ্ডা সহ্য করে বেঁচে থাকার মত বৈশিষ্ট্য উটের রয়েছে।

উটের বিস্ময়কয় গুণাবলীর মধ্যে অন্যতম হলো, সর্বনিম্ন ১৫ দিন থেকে শুরু করে ১ মাসের বেশি পর্যন্ত পানি পান না করে থাকতে পারে। যেখানে মরুভূমিতে কয়েক ঘণ্টা পানি পান না করলে সাধারণ মানুষের ডিহাইড্রেশন আরম্ভ হয়।

উটের ঘন লোম আলো বিকিরণ করে এর ত্বককে সূর্য থেকে বাঁচিয়ে রাখে। উটের বুকে ও হাঁটুতে বিশেষ ধরণের শক্ত প্যাড থাকে এর ফলে এরা খুব সহজে মরুভূমির গরম বালুর উপর বসে থাকতে পারে।

উটের লম্বা পাগুলো বিশেষভাবে তৈরি করা যাতে তারা গরম বালু থেকে কিছুটা উপরে থাকে। মরুভূমির উত্তপ্ত বালুর উপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা পা ফেলে রাখে। শরীরের তুলনায় পা চিকন হলেও তা অনেক শক্তিশালী। ১ হাজার পাউন্ড (৪৫৩ কেজি) পর্যন্ত ওজন বয়ে নিতে পারে।

মরুভূমির বড় বড় কাঁটাসহ ক্যাকটাস অনায়াসে খেয়ে ফেলতে পারে। উটের মুখ গহ্বরে শক্ত প্যাড থাকে ফলে খুব সহজে কঠিন কাঁটা জাতীয় উদ্ভিদ যেমন ক্যাকটাস চিবিয়ে খেতে পারে।

উটের কুঁজ চর্বির ডিপো। এতে ৪০ কেজি পর্যন্ত চর্বি জমা থাকে। যখন খাদ্যের অভাব হয় তখন উট এই কুঁজ থেকে চর্বি ভেঙ্গে খাদ্যের অভাব মেটায়। এই জমানো চর্বি দিয়ে উট প্রায় ১ মাস পর্যন্ত খাদ্যের অভাব মেটাতে পারে।

উটের শরীরে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা তাকে মরুভূমির ধূলিঝড় থেকে রক্ষা করে যেমন- বিশেষ নাসারন্ধ্র , লম্বা চোখের পাতার লোম, এবং কানের চুল। তারা চাইলে নাকের ফুটোও বন্ধ করে ফেলতে পারে। তাই বালির ঝড় বা লু হাওয়া এলেও উটের বিশেষ অসুবিধা হয় না হাঁটাচলা করতে।

উটের চোখে দুই স্তর পাপড়ি রয়েছে। যার কারণে মরুভূমিতে ধূলিঝড়ের মধ্যেও তা চোখ খোলা রাখতে পারে। এই বিশেষ পাপড়ির ব্যবস্থা মরুভূমির প্রখর রোদ থেকে চোখকে রক্ষা করে এবং চোখের আদ্রতা ধরে রাখে। একইসাথে এটি বিশেষভাবে বাঁকা করা যেন তা ধুলোবালি আটকে দিতে পারে।

উটের রক্ত বিশেষভাবে তৈরি প্রচুর পরিমাণে পানি ধরে রাখার জন্য। ৬০০ কেজি ওজনের একটি উট এক সাথে প্রায় ২০০ লিটার পানি দশ মিনিটে পান করতে পারে, যা কয়েকটি গাড়ির ফুয়েল ট্যাঙ্কের সমান ।

বিবর্তনবাদীদের বানানো বহু নিয়ম ভেঙ্গে এই প্রাণীটি কোনো কারণে নিরীহ, শান্ত, মানুষের প্রতি অনুগত হয়ে আছে। আল্লাহ যদি উটকে মানুষের জন্য উপযোগী করে না বানাতেন, তাহলে মরুভূমিতে মানুষের পক্ষে সভ্যতা গড়ে তোলা অসম্ভব হয়ে যেত। মহান আল্লাহ একে মানুষের অনুগত এবং কাজের উপযোগী করে দিয়েছেন।

এসব সৃষ্টি নিয়ে ভেবে মহান রবের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। আল্লাহ সুব. আমাদেরকে শিক্ষার নেবার তৌফিক দিন।

পঠিত : ৬২ বার

ads

মন্তব্য: ০