Alapon

"নারীর পণ্যায়ন"



যেখানে চাহিদা, সেখানে যোগান দিলে ব্যবসা হবে। আপনাকে ব্যবসার আগে জানতে হবে, মানুষের চাহিদা কী? চাহিদা মোতাবেক পণ্য বা সেবা তৈরি করতে হবে। সেটা বিক্রি করে মুনাফা আসবে৷ চাহিদা না থাকলে রুচি বদলে দিয়ে তাদের ভিতর আমার পণ্যের চাহিদা তৈরি করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থা, মিডিয়া ইত্যাদির দ্বারা রুচি বদলানো যায়। আমরা প্রায়ই শুনি 'শিক্ষার পণ্যায়ন' বা শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ। মানে শিক্ষা/ডিগ্রির চাহিদাকে নিয়ে ব্যবসা করা। ফলে শিক্ষা/ডিগ্রি পরিণত হল 'পণ্য'তে। অর্থাৎ চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে বা চাহিদা তৈরি করে চাহিদা মেটানোর উপকরণ যোগান দেয়া এবং মুনাফা করাকে ব্যবসা বলে।

পশ্চিমা একাডেমিয়াতে sexual objectification of women নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়। নারীবাদীদের একটা অংশ এই পয়েন্ট থেকে পর্নোগ্রাফির বিরোধিতাও করে। নারীর শরীর ব্যবহার করে পুরুষের মার্কেটের চাহিদা মেটানোর জন্য যৌনপণ্য হিসেবে পর্নোগ্রাফি তৈরি হয়, বিক্রি হয়। প্লেবয় ম্যাগাজিনের মার্কেট আছে, মার্কেটে চাহিদা আছে। পণ্যটা কী? নারীর শরীর। এগুলো বুঝা সহজ। পতিতা ব্যবসার বিরাট মার্কেট, এস্কর্ট সার্ভিস, এরোটিক ম্যাসাজ সার্ভিস, বারড্যান্স, স্ট্রিপিং এগুলোর চাহিদা আছে, পণ্য হল নারীর যৌনতা, নারীর দেহ। ব্যক্তিস্বাধীনতার মোড়ক লাগানো বলে এগুলোকে আমরা দাসপ্রথা বলি না। কিন্তু এখানেও পণ্য মানুষের দেহ।

ডাক্তার, বা উকিল, বা ইনজিনিয়ার। এদের সেবার সাথে যে মেয়েটা কাস্টমারকে এরোটিক ম্যাসাজ দেয়, বা খদ্দের সামলায়। তার সেবা/পণ্যের পার্থক্য কী? পার্থক্য হল: আমরা অর্জিত যোগ্যতাকে সেবায় পরিণত করি। আর পতিতা পণ্যে বা সেবায় পরিণত করে শরীরকে। আশা করি এতটুকু বুঝা গেছে, কারণ এতটুকু বুঝা সহজ। পুঁজিবাদের কট্টর সমর্থকরা দেহকেও পুঁজি ভাবে, সুতরাং এসব ব্যবসা তাদের কাছে খারাপ না। মুনাফাই জরুরি, আর কিছু না।

এবার ঢুকছি সেখানে, যেটা বুঝা কঠিন। চ্যানেল ওয়ানে এক সংবাদ পাঠিকা খবর পড়তেন (নাম উল্লেখ করছি না)। ইন্টারে যখন পড়তুম, টেস্টোস্টেরনের বানে হাবুডুবু খাচ্ছিলেম, তখন শুধু চ্যানেল ওয়ানের সংবাদ দেখতাম, ঐ পাঠিকাকে দেখবো বলে। আমার মতো ছ্যাবলা পাবলিক নিশ্চয় ঐ বয়সে আরও ছিল। এই যে সুন্দরী সংবাদ পাঠিকার সৌন্দর্য বা সুন্দরী রিসিপশনিস্টের উষ্ণ অভ্যর্থনাকে ব্যবহার করে ভোক্তা টানা, এই পণ্যায়ন চোখে পড়ে না। যোগ্যতার সাথে দেহকে মিশিয়ে পণ্য বানানো হয় এখানে।

রিসার্চ আছে। সুন্দরী সহকর্মী থাকলে বাকি পুরুষদের কর্মদক্ষতা ও স্মার্টনেস বেড়ে যায়। নারী দেহের সৌন্দর্যের এই ব্যবহারগুলোকে (মুনাফা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে) পণ্যায়ন বলা হচ্ছে না। মোড়ের উপর বিশাল বিলবোর্ডে লাস্যময়ী নারীর আইসক্রীম খাবার দৃশ্য পুরুষের মনে অন্যকিছুর সিম্বোলিজম দেয়। আর রিসার্চে এসেছে, মানুষ সেক্স সিম্বোলজিম ওয়ালা পণ্য বেশি কেনে। এই নারী মডেলটি কিন্তু নিজেকে পণ্য ভাবছেন না। আমাদের অভিনেত্রীরা মডেলরা বুঝছেন না, তারা আসলে পণ্য। অথচ তাদের শরীরকে চাহিদা সৃষ্টি, চাহিদা পূরণ ও মুনাফা বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিনয় মেধার চেয়ে সৌন্দর্য জরুরি। কখনোই কোনো অসুন্দর নারীকে উপজীব্য করে নাটক-সিনেমা হয় না। গল্পের নায়িকারা অসুন্দর মেধাবী অভিনয়শিল্পী হন না। কারণ চাহিদা নেই মার্কেটে। মার্কেটে চকচকে লাস্যময়ী যৌন আবেদনময়ী নায়িকার চাহিদা, সেই চাহিদা পূরণে অভিনেত্রীর মেধা নয়, শরীরটা পণ্য।

নিকাব পরার নিয়ম চালু করেছে তালব্য-ন। আমি বুঝলাম না। হাউকাউ কেন? ওরা কি সেক্যুলার সরকার? ওরা ১৪০০ বছরের পুরনো মান্ধাতার আমলের একটা রাষ্ট্র। ওদের কাছে আপনারা 'নারী সৌন্দর্যের পণ্যায়ন' আশা করেন কীভাবে? ওদেরকে নির্মূল করতে হবে। বাপের ব্যাটা হয়ে থাকলে নির্মূল করেন, নইলে চুপ থাকেন, কান্দেন ক্যান ছেড়িদের মতো? আমরা আমাদের মেয়েদের শরীরের-সৌন্দর্যের তিল পরিমাণ পণ্যায়ন আমরা সহ্য করি না। আমাদের নারীরা আমাদের ইজ্জত, আমাদের আত্মমর্যাদা। আমাদের মেয়েদের কোনো অংশ/অঙ্গ সমাজের 'যেকোনো মাত্রার চাহিদার হাটে' এক সেকেন্ডের জন্য উঠবে, এর চেয়ে মৃত্যুই আমাদের কাছে বেশি পছন্দের।

পঠিত : ৭৭ বার

ads

মন্তব্য: ০