Alapon

পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন.........



০১. কী ঘৃণিত অন্যায় আর পাপাচারই না সংঘটিত হতো তৎকালীন সেই সমাজে ! কোথাও ছিলো না একটুখানি সুখ-স্বস্তি। এক ইলাহকে ছেড়ে বহু মিথ্যে ইলাহের উপাসনা ছিলো সে সমাজের ধর্মীয় চিত্রকল্পের নিত্যরূপ। স্বয়ং বাইতুল্লাহতেও মূর্তি পুজার পশরা সাজিয়ে বসেছে মুশরিকরা। দয়াময় আল্লাহর নাফরমানিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত থাকাটাই ছিলো তাদের সংস্কৃতি। আইন-কানুন, নিয়ম-নীতি বলে যে একটা বিষয় থাকার কথা ছিলো, সেটা তো ছিলোই না, বরং আইন ছিলো রাজা-বাদশাহদের হঠকারিত, খেয়াল-খুশি। তারা চাইলেই যা খুশি করতে পারতো, এবং করতোও। সোজাকথায় এই রাজা-বাদশাহরা প্রভুত্ব বিস্তার করে বসে ছিলো মানুষের ওপর। জনগণের সাথে ছিলো তাদের যোজন যোজন দূরত্ব। তাদের কাছে তারা-ই ভিড়তে পারতো, যারা ছিলো চাটুকার। যারা ছিলো সম্রাটের তোষামোদকারী ও পদলেহনকারী। আর এসব তোষামোদকারী, চাটুকারী এবং পদলেহনকারীরা ছিলো চূড়ান্তরকমের মদ্যপ। মদপান করে মাতলামিতে ডুবে থাকা, কিংবা অশ্ললতায় ডুবে থাকাটা ছিলো তাদের কাছে বিনোদনের প্রধানতম কয়েকটি উপাদানের একটি।

নৈতিকতার কোনো বালাই ছিলো না। অনৈতিকতার মুখে কোনো লাগাম ছিলো না। তাদের যতোটা মন চাইতো ততোটা বিয়ে করতে পারতো। এমনকি বিয়ে ছাড়াও মন চাইলেই যখন তখন যার-তার সাথে, তথা যেকোনো নারীর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হতো। নারীদেরকে স্রেফ যৌনতা নিবারণের একখণ্ড মাংসপিণ্ড ছাড়া ভিন্ন কিছু তারা ভাবতেও পারতো না। নারীদের যেনো পুরুষদের যৌন ক্ষুধা মেটানো ছাড়া আর কোনো কর্তব্য ছিলোই না! এমনই এক অস্বাভাবিক নৈরাজ্যকর সমাজ আর বিশ্বব্যবস্থা ছিলো তখন।

এই ক্ষয়ে ক্ষয়ে ধ্বসে যাওয়া সমাজটাকে আদালত আর ইনসাফের ভিত্তিতে, তাক্বওয়া আর তাওহিদের ভিত্তিতে গড়ে তোলার মহান দায়িত্ব দিয়ে রব্বুল আলামিন প্রেরণ করেছেন আমাদের প্রিয় নবী রহমাতাল্লিল আলামিন মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লামকে। সেই ধারাবাহিকতায় রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লামের কাছে প্রেরণ করেন জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে ওহী। দেন সমাজ পরিবর্তন এবং নতুন সভ্যতা বিনির্মানের দায়িত্ব।

০২. প্রথম ওহী অবতীর্ণ হবার পর অনেকদিন যাবৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী অবতীর্ণ হওয়া বন্ধ রয়েছে। আল্লাহর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম এই ওহী নাযিল বন্ধ থাকার সময়টাতে ভীষণভাবে মানসিক যন্ত্রণা আর অস্থিরতায় ভুগতেছিলেন। আর সে সময়েই একদিন তিনি নিজ পথে আনমনে হেঁটে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই তিনি থমকে দাঁড়ান একটা আওয়াজ শুনে। তাকালেন ওপরের দিকে, আসমানে। দেখতে পেলেন তাঁকে, যিনি সর্বপ্রথম ওহী নিয়ে এসেছিলেন, হেরা গুহায়। দেখলেন, তিনি আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানে একটি ঝুলন্ত আসনে সমাসীন রয়েছেন। তা দেখেই তিনি ভীত চকিত হয়ে পড়লেন। একেবারে ভীষণ ভয়। হেরা গুহায় প্রথমবার যেভাবে ভীত-সন্ত্রস্ত হলেন, এখনও তদ্রূপ।
ফিরে এলেন বাড়ি। বললেন স্ত্রীকে— আমাকে বস্ত্রাবৃত করে দাও। বস্ত্রাবৃত হয়ে কাঁপতে লাগলেন। কাতরাতে লাগলেন।

রাসুলে কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লামকে এই অবস্থায় দেখে আল্লাহ সুবহানাহু ও-তা’আলা জিবরাঈল আলাহিস সালামকে প্রেরণ করলেন। জিবরাঈল এসে রাসুলে কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লামকে ভীষণ মমতাময় ভাষায় সম্বোধন করে ডাকলেন। বললেন— يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ (১) قُمْ فَأَنْذِرْ (২ وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ (৩)وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ (৪) وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ (৫) وَلَا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُ (৬) وَلِرَبِّكَ فَاصْبِرْ (৭)

হে চাদরাবৃতকারী ! এই ঘুণে ধরা সমাজ আর বিশ্বটাকে সংস্কারের যে মহান দায়িত্ব আপনাকে দেওয়া হয়েছে, তা পালনের জন্যে ওঠুন। এই গুরু দায়িত্ব পালনের জন্যে সকল ভয়-বাঁধাকে অতিক্রম করে আপনাকে ভীষণ দৃঢ়তা আর অসীম সাহসের সাথে ওঠতে হবে। দাঁড়াতে হবে। আপনি ওঠুন। এই পথহারা জাতিকে সতর্ক করুন। তাদেরকে তাদের কৃত অন্যায়-অনাচার আর অবিচার সম্পর্কে সচেতন করুন। সতর্ক করুন।

চারিদিকে চলছে মিথ্যে খোদাদের উৎপাত। আপনি ওঠে আপনার রব্বের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করুন। তাঁর বড়োত্ব ঘোষণা করুন। তাঁর একত্ববাদের দিকে আহ্বান করুন।

এই যে আহ্বান, এই যে দায়িত্ব পালন, তা পবিত্রতা আর পরিচ্ছন্নতার সাথেই করুন। আপনার পোশাক-আশাককে পবিত্র আর পরিচ্ছন্ন রাখুন। শুধু পোশাক-আশাকেই নয়, নিজেকে সকল প্রকার অপবিত্রতা, মলিনতা ও কদর্যতা থেকে মুক্ত রাখুন।

আপনি যে মহান কাজ করতেছেন, যে মহান দায়িত্ব পালন করতেছেন, এই দায়িত্ব পালনকালে, এই পথে চলাকালে আপনি অনুগ্রহ-অনুকম্পার হস্তদ্বয় প্রসারিত করতে হতে পারে, এই অনুগ্রহ এইজন্য করবেন না যে—আপনি এর বিনিময়ে আরো বেশি ফেরত পাবেন। আপনি প্রতিদানের প্রত্যাশা করবেন কেবল রব্বুল আলামিনের নিকট। যেমন নূহ আলাইহিস সালাম, হুদ আলাইহিস সালাম-সহ অন্যান্য নবী-রাসুলগণও কেবল আল্লাহর কাছেই তাদের সকল কর্মের প্রতিদান চাইতেন। অন্যান্য নবীগণ তাঁদের স্বজাতির কাছে কী বলেছেন, কুরআনুল কারিম আমাদেরকে তা জানিয়ে দেয়। যেমন পবিত্র কালামে হাকিমে ইরশাদ হয়েছে- আমি তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদানের প্রত্যাশী নই। আমাকে প্রতিদান দেবার দায়িত্ব তো রব্বুল আলামিনের।' [আশ- শু‘আরা: ১০৯]
এখন এই যে নিঃস্বার্থ কাজটা করতেছেন কিংবা করবেন, বা আল্লাহর কাছেই বিনিময়ের আশায় মানুষের কল্যাণে, তাদের মুক্তির জন্যে কাজ করবেন —তবুও তারা আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ হবে না। আপনাকে সহযোগিতা প্রদান করবেনা। কখনো আপনার চাপিয়ে দেবে জুলুমের জোয়াল। পিষ্ট হতে পারেন আপনি জুলুমের জাঁতাকলে। হতে পারেন হামলা-মামলার শিকার। হতে পারেন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন-নিষ্পেষণের শিকার। আপনার বিরুদ্ধে আপনার নিজের কওম, নিজ পরিবার শত্রু হয়ে দাঁড়াবে। কখনো ভয়, কখনো লোভ-লালসার ফাঁদ পাতা হবে আপনার কর্ম থেকে, আপনার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে। আপনি তখন ভয়-ভীতি, লোভ-লালসার ফাঁদে পা না দিয়ে আপনাকে আপনার রবের জন্যে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। সবরের সরাব পানে আপনার অন্তরকে স্থিতিশীল রাখতে হবে। আপনার ধৈর্যের দেয়ালটাকে মজবুত করতে হবে। আপনার রবের পথে টিকে থাকার জন্যে, তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যে সবর ও সহনশীলতার পথ অবলম্বন করতে হবে, তথা সবর অবলম্বন করবেন।

এই ছিলো মোটামুটি উপরিউক্ত আয়াতে কারিমাগুলোর বিস্তারিত মর্মার্থ। যদি আমরা সহজ-সরল ভাবার্থও দেখি, তাহলে সেগুলোর অর্থ হচ্ছে এরকম :
(১) হে বস্ত্র আচ্ছাদানকারী (২) ওঠো এবং সতর্ক করো (৩) এবং তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব বা মহত্ত্ব ঘোষনা করো (৪) আর তোমার পোশাক-আশাক পবিত্র রাখো (৫) অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকো (৬) অধিক প্রতিদানের প্রত্যাশায় কারো প্রতি অনুগ্রহ করো না (৭) এবং তোমার রবের জন্য সবরের নীতি অবলম্বন করো।

০৩. আয়াতগুলো যদি আমরা এবার একটু ভিন্ন আঙ্গিকে খেয়াল করি, তাহলে দেখবো যে, আল্লাহ আল্লাহর রাসুলকে যে সমস্ত মানুষের পশুত্ব আর বর্বরতা জেগে আছে, নীতি-নৈতিকতা ঘুমিয়ে আছে, এ সমস্ত মানুষদেরকে তাওহিদের ভিত্তিতে জাগাতে বলেছেন। তাদেরকে সতর্ক করতে বলেছেন। যেখানে আল্লাহর বড়োত্ব বাদে অন্যান্য তন্ত্র-মন্ত্রের জয়গান আর বড়োত্ব চলে, সেখানে তিনি জাগাতে বলেছেন সে সমস্ত মানুষদেরকে। সোজা কথায় একটা সমাজ-সভ্যতাকে আমূল বদলে ফেলার বা পরিবর্তনের কথা বলেছেন। এখন এই পরিবর্তনের জন্যে আগে তাঁকে তথা মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লামকে জেগে ওঠতে বলেছেন। তাহলে বোঝা গেলো কী? পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন জেগে ওঠা। জেগে ওঠবে কারা? দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ।

এখন আমরা যারা একটা সমাজকে, একটা জনপদকে, একটা সভ্যতাকে সমূলে বদলে ফেলতে চাই, আমাদেরকেও সে পরিবর্তনের জন্য কী করতে হবে? জেগে ওঠতে হবে। জেগে না ওঠলে পরিবর্তন সাধণ সম্ভবপর হবে না। হয়নি কখনো। কস্মিনকালেও না।
জেগে ওঠার পর আমরা কীভাবে কাজ করবো? সেগুলো হচ্ছে :

ক) আমরা মানুষের বোধ-বিশ্বাস ও সংস্কৃতিকে পরিবর্তন করবো। তাওহিদভিত্তিক পরিবর্তন যেটাকে বলে। সবকিছুর শক্তি-ক্ষমতা ও আনুগত্য বিসর্জন করে শুধু রব্বুল আলামিনের শক্তি-ক্ষমতা আর আনুগত্যের ঘোষণা দেবো। এই তাওহিদের বিপরীত যা কিছু আছে সবকিছু সম্পর্কে সতর্ক আর সচেতন করবো। আল্লাহর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লামকে কিন্তু আল্লাহ মানুষদেরকে সতর্ক করার বিষয়ে পবিত্র কুরআনে বারংবার বলেছেন। তাঁকে পাঠিয়েছেনই সতর্ককারীরূপে। যেমন –

“আমি তোমাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছি সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারী বানিয়ে।” [সুরা ফাতির: ২৪] এভাবে আল্লাহ নূহ আলাইহিস সালামকেও তাঁর জাতিকে সতর্ক করার আদেশ দিয়েছেন।“তোমার নিজের কওমের লোকদের ওপর এক ভীষণ কষ্টদায়ক আজাব আসার পূর্বেই তাদেরকে সাবধান করে দাও।” [সুরা নূহ :০ ১]

খ) নিজের চলন-বলন, পোশাক-আশাককে পবিত্র রাখবে। নীতি-নৈতিকতা,ঈমান-আকিদা ইত্যাদি সবকিছুকেই পবিত্র রাখবো। কথিত সাধু-সন্ন্যাসী আর সুফিদের মতো অগোছালো আর এলোমেলো অপরিচ্ছন্ন দেহ কিংবা পোশাক-আশাক রাখবো না। কারণ আল্লাহ নিজেই পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন। ভালোবাসেন পরিচ্ছন্ন থাকা মানুষদেরকেও। পবিত্র কুরআনুল কারিমে এরশাদ হয়েছে- “অবশ্যই মহান আল্লাহ অধিক হারে তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে ভালোবাসেন।” (সূরা আল-বাকারাহ : ২২২)
রাসুলে কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম বলেন-
اِنَّ اللهَ نَظِيْفٌ يُحِبُّ النَّظَافَةَ “নিশ্চয়ই আল্লাহ পরিচ্ছন্ন, তিনি পরিচ্ছন্নতা ভালোবাসেন।” (তিরমিজি)

গ) এ পথে আমরা যা করবো, যেখানে আর যে জন্য করবো, সব আল্লাহর সন্তোষে করবো। আল্লাহ ছাড়া আর অন্য কারো কাছে প্রতিদানের প্রত্যাশা করবো না। মানুষের কাছে প্রত্যাশা যতো বেশি থাকবে, হীনমন্যতা আর হতাশা ততো বাড়বে। মানুষের প্রতি প্রত্যাশার পরিমাণ যতো কমিয়ে রাখবো, মানসিকভাবে ততো বেশি প্রশান্তিতে থাকবো। আমাদের কাজ কারো বাহবা বা প্রশংসা পাবার জন্য হবেনা। আমরা কাজ করবো আল্লাহর জন্য। প্রতিদানের প্রত্যাশাও করবো তাঁর কাছে। কুরআনুল কারিমের অসংখ্য জায়গায় অসংখ্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে - وَمَآ اَسْئَلُكُمْ عَلَيْهِ مِنْ اَجْرٍ ج اِنْ اَجْرِىَ اِلاَّ عَلى رَبِّ الْعلَمِيْنَ “এ কাজে আমি তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদানের প্রত্যাশী নই। আমাকে প্রতিদান দেবার দায়িত্ব তো রব্বুল আলামিনের।”
এই আয়াত বা এই দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে —“অধিক প্রতিদানের প্রত্যাশায় কারো প্রতি অনুগ্রহ করো না وَلَا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِر” — ইমাম আবুল আ’লা মওদূদী রহিমাহুল্লাহ বলেন :
১. তুমি যার প্রতিই ইহসান বা অনুগ্রহ করবে, তা নিঃস্বার্থভাবে করবে। তোমার অনুগ্রহ ও বদান্যতা এবং দানশীলতা ও উত্তম আচরণ হবে একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে। ইহসান বা মহানুভবতার বিনিময়ে কোন প্রকার প্রার্থিব স্বার্থ লাভের বিন্দুমাত্র আকাঙ্ক্ষাও তোমার থাকবে না। অন্য কথায় একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে ইহসান করো, কোনো প্রকার স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ইহসান করো না।

২. নবুওয়াতের যে দায়িত্ব তুমি পালন করছো। যদিও তা একটি বড় রকমের ইহসান, কারণ তোমার মাধ্যমেই আল্লাহর গোটা সৃষ্টি হিদায়াত লাভ করছে। তবুও এ কাজ করে তুমি মানুষের বিরাট উপকার করছো—এমন কথা বলবেনা এবং এর বিনিময়ে কোন প্রকার ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করবেনা।

৩. তুমি যদিও অনেক বড় ও মহান একটি কাজ করে চলেছো কিন্তু নিজের দৃষ্টিতে নিজের কাজকে বড়ো বলে কখনো মনে করবেনা এবং কোনো সময় চিন্তাও যেনো তোমার মনে উদিত না হয় যে—নবুওয়াতের এ দায়িত্ব পালন করে আর এ কাজে প্রাণপণ চেষ্টা-সাধনা করে তুমি তোমার রবের প্রতি কোনো প্রকার অনুগ্রহ করছো।

ঘ) সর্বশেষ হচ্ছে যে এই পরিবর্তনের কাজটা হুট করেই হয় না। হবে না। সেজন্য পরিবর্তনের কাজ যাঁরা করবেন, তাঁদেরকে প্রচুর ধৈর্য আর দৃঢ়তার অধিকারী হতে হবে। ধৈর্য আর সবরের সরবরে সিক্ত থেকে কাজ করতে হবে। আর আল্লাহ সব সময় ধৈর্যশীলদের সাথে থাকেন। কুরআন থেকে আমরা জানতে পারি- یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اسۡتَعِیۡنُوۡا بِالصَّبۡرِ وَ الصَّلٰوۃِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ مَعَ الصّٰبِرِیۡنَ
হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।[ সুরা বাকারা : ১৫৩]

আল্লাহ আমাদেরকে পরিবর্তনের জন্য যথাযথভাবে ভূমিকা পালন করার তাওফিক দান করুন। যেভাবে ভূমিকা পালন করেছেন রাসুলে আকরাম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম।

পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন.........
~রেদওয়ান রাওয়াহা

পঠিত : ৭৩ বার

ads

মন্তব্য: ০