Alapon

সুরাতুন নাস অন্তরকে রক্ষা করে...



সুরাতুন নাস হচ্ছে একইসাথে নাযিল হওয়া দুটো সূরার (ফালাক এবং নাস) দ্বিতীয়টি। আর দুটোই সুরাতুল ইখলাসের ধারাবাহিকতা রক্ষা করছে এভাবে যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আমাদের শেখাচ্ছেন— প্রয়োজনের সময় আমরা শুধু আল্লাহ্‌র দিকেই ফিরে যাই। মানব জাতি যে দুটো প্রয়োজনের জন্য মরিয়া হয়ে থাকে— বাহ্যিক বিপদ থেকে আশ্রয় এবং আভ্যন্তরীন বিপদ থেকে আশ্রয়।

কুরআনে আমরা আল্লাহর কাছে দুয়া করি এই জীবনের এবং পরকালের কল্যাণ চেয়ে, তাই না? রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাহ।

একইভাবে আমরা তা বোঝাতে অন্য শব্দও ব্যবহার করি। যেমন আপনারা অবশ্যই শুনে থাকবেন; দ্বীন ও দুনিয়া। তাই না? দ্বীন আর দুনিয়া। যা বলতে মূলত আখিরাত এবং দুনিয়াও বোঝায়। মানে— দ্বীনের খেয়াল রাখলে আখিরাতের তথা পরকালের প্রতি খেয়াল রাখা হলো। আর দুনিয়ার খেয়াল রাখলে পার্থিব এই জীবনের কল্যাণের প্রতি খেয়াল রাখা হলো। আর এই দুটো পরস্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত।

যদি সূরা ফালাকের বিষয়টি খেয়াল করেন, দেখবেন, আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছেন এই পৃথিবীর সমস্যাগুলো থেকে। তাই না? যেমনঃ রাতে অশুভ কিছুর আক্রমণ থেকে, এমন মানুষ যারা আপনার প্রতি ঈর্ষান্বিত, আপনাকে জাদু করতে চায় ইত্যাদি। এই ক্ষতিগুলো আখিরাতের না, এই দুনিয়ার। মানে দুনিয়া সুরক্ষিত সুরাতুল ফালাকে।

কিন্তু দুনিয়া সুরক্ষিত থাকলে বাকি থাকে কী? দ্বীন। আখিরাহ। দ্বীনের ব্যাপারটা নির্ধারিত হয় অন্তর দ্বারা। বিচার দিবসে আল্লাহর কাছে সবচাইতে দামী যেই জিনিসটা নিয়ে আমরা উপস্থিত হবো তা হলো আমাদের অন্তর।
يَوۡمَ لَا يَنۡفَعُ مَالٌ وَّلَا بَنُوۡنَۙ اِلَّا مَنۡ اَتَى اللّٰهَ بِقَلۡبٍ سَلِيۡمٍؕ‏
"যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না। সেদিন উপকৃত হবে শুধু সে, যে আল্লাহর নিকট বিশুদ্ধ অন্তঃকরণ নিয়ে আসবে।"(26:88-89)

তাহলে এই সূরা অন্তরকে রক্ষা করে। আল্লাযি ইউওয়াস উইসু ফি সুদুরিন নাস। সুরাটি অন্তরের বিপদ থেকে সুরক্ষা দেয়। যার আসল অর্থ— দ্বীনের বিপদ থেকে সুরক্ষা।
মানে— যে দুই সুরক্ষা আমাদের দরকারঃ এই জীবনে সুরক্ষা তথা দুনিয়াবি বিষয়ে। আর ধার্মিক বিষয়ে। ফালাক আমাদের দুনিয়ার সুরক্ষা দেয় আর নাস সুরক্ষা দেয় দ্বীনের।

এখন দেখুন, সুরাতুল ফালাক্বে আল্লাহ তাঁর একটি নাম উল্লেখ করেছেন— কুল আউজু বিরাব্বিল ফালাক্ব। রাব্বিল ফালাক্ব (ঊষার রব)। দুনিয়ার সুরক্ষায়। কিন্তু সুরাতুন নাসে তিনি তিনটি নাম উল্লেখ করেছেন দ্বীনের সুরক্ষার জন্য! রাব্বিন নাস, মালিকীন নাস, ইলাহিন নাস। দেখলেন? কারণ, সুরক্ষিত দ্বীন আমাদের দুনিয়াকে যেমন সৌন্দর্যমণ্ডিত করবে তেমনি সৌন্দর্যমণ্ডিত করবে আমাদের আখিরাতকেও। এটা আসলে দুটোকেই একত্রিত করে। তাই দ্বীনের সুরক্ষার প্রতি এতো বেশি জোর দেয়া হয়েছে।

— নোমান আলী খান

পঠিত : ২৫৪ বার

মন্তব্য: ০