Alapon

রবিবারের দুইটি ঘটনা! আবারো বিষদাঁত বসাচ্ছে হাসিনা!



১। ডা. শাকির নামে এক ডাক্তারকে নিজ বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে সিআইডি। ঢাকার রামপুরায় নিজ বাসা থেকে তরুণ চিকিৎসক শাকির বিন ওয়ালীকে প্রকাশ্য দিবালোকে বাসার সবার সামনে থেকে আটক করে নিয়ে গিয়েছিল সিআইডি। আটক করার সময় তারা নিজেদের সিআইডি’র সদস্য বলে পরিচয় দিয়েছিল। অথচ, দুই দিন পার হয়ে গেছে। এখনো অস্বীকার করছে পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা-সিআইডি। আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর গুম করা এই তরুণ ডাক্তারের পিতা চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ এ কে এম ওয়ালীউল্লাহ জানিয়েছেন, সিআইডি পরিচয় দিয়ে ছেলেকে বাসা থেকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না।

তিনি আরো জানিয়েছেন আটক করে নিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘন্টা পর সিআইডি’র সদস্যরা আবারো এসেছিল বাসায় তল্লাশি করতে। তারা ছেলের রুম তল্লাশি করে মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে।

ডাঃ এ কে এম ওয়ালী উল্লাহ বলেন, 'আমার ছেলে শিক্ষাজীবনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্য ছিল। ২০১৮-১৯ সালের দিকে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আটক করেছি। ১ মাস পর আদালত থেকে জামিনে বের হয়েছিল। গত রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) ডা.শাকির বিন ওয়ালীকে বাসা থেকে সিভিল ড্রেসে কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই সিআইডির লোকেরা ধরে নিয়ে যায়।

গুমের ব্যাপারে রামপুরা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ডা. শাকিরের পরিবার থেকে জিডি করতে থানায় এসেছিল। আমরা তাদের বক্তব্য নোট নিয়েছি। খোঁজ নিচ্ছি।

উল্লেখ্য, ডা. শাকির বিন ওয়ালীকে বাসা থেকে তুলে নেয়ার পরদিন সোমবার (১২ই সেপ্টেম্বর) সকালে মালিবাগে সিআইডির কার্যালয়ে গিয়েছিলেন তার পিতা ডাঃ এ কে এম ওয়ালী উল্লাহ। সেখান থেকে রামপুরা থানায় যাওয়ার পর তদন্ত কর্মকর্তা গোলাম মাওলার তাঁকে বলেন, উনি (তদন্ত কর্মকর্তা) নিশ্চিত যে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা তাঁর (ডাঃ এ কে এম ওয়ালী উল্লাহ) ছেলেকে নিয়ে গেছে। তাই জিডি নথিভুক্ত করা সম্ভব নয়।

অথচ আজ মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) আজাদ রহমান বলেন, এই নামে (ডাঃ শাকির বিন ওয়ালী) কাউকে তুলে আনা হয়নি।

অর্থাৎ প্রকাশ্য দিবালোকে তুলে নেয়ার পর এখন অস্বীকার করছে সিআইডি।

ভুক্তভোগী ডাঃ শাকির বিন ওয়ালীর পরিবারের সদস্যরা জানান, আশপাশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করলেই এটা স্পষ্ট হয়ে উঠবে এর সাথে সরকারের সংস্থাগুলোই জড়িত।

যতদূর খবর পেয়েছি তাতে জানা গেছে সিআইডি পরিবার ও ডা. শাকিরের আইনজীবীর কাছে স্বীকার করেছে যে, ডা. শাকির তাদের কাছে আছে। আগামীকাল তারা কোর্টে তুলবে। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক র‍্যাবের ওপর স্যাংশন আরোপ হওয়ার পর কিছুদিন গুম বন্ধ ছিল। এখন আবার তা চালু হয়েছে।

২। অনলাইনে সরকারবিরোধী মন্তব্য করার অভিযোগ তুলে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) এক ছাত্রকে পিটিয়েছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। পিটিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আইসিটি অ্যাক্টে মামলাও দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের আক্রমণের শিকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলার আসামী-ছাত্রের নাম জাহিদুর রহমান (২২)। তিনি সিএসই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

ছাত্রলীগ জঙ্গীদের হাতে মারধরের শিকার জাহিদুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার পর হাসপাতালে ভর্তি অবস্থাতেই ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।

কুয়েটের সিকিউরিটি অফিসার মো. সাদেক হোসেন প্রামানিক বাদী হয়ে জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। গত রোববার (১১ই সেপ্টেম্বর) রাত ৯ টায় ড. এম এ রশিদ হলের গেস্ট রুমে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জাহিদকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর ছাত্র শিবিরের কর্মী হিসেবে অভিহিত করে জাহিদকে রাত ১১টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত গেস্ট রুমেই নির্মমভাবে পেটায় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। টানা তিন ঘন্টা নির্যাতনের পর জাহিদুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করে ছাত্রলীগ। আওয়ামী লীগের কব্জায় থাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরে জাহিদুরের নামে মামলা করে। গুরুতর আহত অবস্থায় জাহিদুর রহমানকে ওই রাতেই পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে বুয়েটে শহীদ আববারের বেলায়। শহীদ আবরার ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হওয়ার আগে এমন ঘটনা বহু ঘটেছে। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে ভিকটিমরাই মামলার শিকার হয়ে কারাগারে গিয়েছে। শহীদ আবরার জীবন দিয়ে বুয়েটের বাকী ছাত্রদের মুক্তি দিয়ে গেছে। কিন্তু কুয়েটসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় এখনো জঙ্গীদের হাত থেকে মুক্ত হয়নি।

হাসিনা সরকার সামনের নির্বাচন ও বিরোধীদলের আন্দোলন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আবারো দমন পীড়নের মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিএনপির বহু নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। দুইজনকে খুন করেছে। রবিবারের দুইটি ঘটনা খুবই অর্থবহ। হাসিনা আবারো তার বিষদাঁত দেখাচ্ছে জনগণকে!

পঠিত : ১৩৭ বার

ads

মন্তব্য: ০