Alapon

ঋণের ব্যাপারে সাবধান থাকুন...



যে সব কারণে কবরের আজাব হবে তার মধ্যে অন্যতম হলো ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা যাওয়া। আমাদের রাসূল (স) মাত্রাধিক ঋণগ্রস্ত হওয়া থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। ঋণমুক্ত জীবন যাপন করার জন্য আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচতি, প্রিয় ভাই এবং বোনেরা। কেউ আপনার কাছে টাকা পাবে এমন অবস্থা থেকে বেঁচে থাকার সর্বাত্মক চেষ্টা করুন। আমাদের কাঁধে এটা বিশাল এক আমানতের বোঝা। যত দ্রুত সম্ভব ঋণ পরিশোধ করে ফেলুন।

একমাত্র প্রয়োজন হলে ঋণ নিবেন, এছাড়া নিবেন না। আর যেন তাড়াতাড়ি পরিশোধ করে দিতে পারেন তার জন্য আল্লাহর কাছে দুয়া করুন। যে ব্যক্তি এর অপব্যবহার করে, কে তার কাছে কত পাবে এটা নিয়ে কোনো পরোয়া করে না, ঋণ পরিশোধের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে না, যে এই ব্যাপারে নিরূৎসুক উদাসীন— এটা বিশাল বিশাল কবিরা গুনাহ।

যে ব্যক্তি এ ব্যাপারে সচেতন, ঋণ নিতে সে বাধ্য—ইনশাআল্লাহ এটা ভিন্ন ইস্যু। আর যে ব্যক্তি সবার কাছ থেকে ধার-কর্জ করে বেড়ায়। অমুকের কাছে গিয়ে দশ হাজার, তমুকের কাছে গিয়ে পাঁচ হাজার ধার চেয়ে বেড়ায়, মানুষের সহৃদয়তার সুযোগ গ্রহণ করে, শুধু টাকা চায় কিন্তু এর গম্ভীরতা নিয়ে সচেতন নয়, ফেরত দেয়ার কোনো পরোয়া করে না— এ লোকের জন্য এটা কবিরা গুনাহ।

এই লোক মারা গেলে তার আত্মা শান্তি পাবে না। ঝুলন্ত থাকবে। এদিকেও না ওদিকেও না। রূহ তার স্থানে অবস্থান করবে না। রূহকে আটকে রাখা হবে। উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় থাকবে যতক্ষণ না ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে।

একবার এক লোকের জানাজা পড়ানোর সময় রাসূল (স) জিজ্ঞেস করেন তার কি কোনো ঋণ আছে? লোকজন বলল, হ্যাঁ আছে। তখন তিনি জানাজা পড়াতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর এক ব্যক্তি বলল— ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তার ঋণ শোধ করে দিবো। তখন তিনি জানাজা পড়ান। তিনি সবার নিকট এ ব্যাপারটার গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য এমনটি করেন। তাই, এটাকে হালকাভাবে নিবেন না।

তাহলে কবিরা গুনাহ হলো কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই মানুষের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করা। আমরা এখানে তার সম্পর্কে কথা বলছি না যার ঋণ প্রয়োজন। বাড়ি করার জন্য বা অন্য কোনো প্রয়োজনে। এটা তো যুক্তিসংগত। এ হাদিস শুনে আবার একেবারে চরম পন্থা অবলম্বন করবেন না।

আমরা তার সম্পর্কে কথা বলছি যে অন্যদের বদান্যতার, পরোপকারের সুযোগ গ্রহণ করে। সে শুধু টাকার লোভে এমনটা করে। আর টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে তার কোনো মাথাব্যথা নেই। আমাদের আলেমরা বলেছেন এ হাদিস তার জন্য প্রযোজ্য।

—ড. ইয়াসির কাদি

পঠিত : ৭২ বার

ads

মন্তব্য: ০