Alapon

শয়তান যেভাবে পরিবারকে বিপথগামী করে...



বাড়ীর মধ্যে শয়তানের সবচেয়ে পছন্দনীয় স্থান হল 'গোসলখানা'। মানুষের হাতে বানানো নিজের গোসল খানাই হল, মানুষের সাথে থাকা শয়তানের প্রধান কার্যালয়। গৃহ মালীকের মনে কু-প্রবৃত্তি চাঙ্গা করা, মনে উত্তেজনা মূলক চিন্তার উন্মেষ ঘটানোর মত ফ্রি সুযোগ শয়তান গোসল খানাতেই পেয়ে যায়।

মানুষ যখন গোসল খানার স্বল্প বসনে ব্যস্ত থাকে, শয়তান তখন তার বন্ধু-বান্ধবদের ডেকে নিয়ে আসে সেখানে এবং নিজেদের পায়ের আঙ্গুল দিয়ে মানুষের লজ্জাস্থান নাড়াচাড়া করে তামাসা-উল্লাস করে! এটাতে তারা খুবই আনন্দ পায়!

দৃশ্যত টয়লেটে ঢুকার সময় যারা দোয়া পড়ে, সাথে সাথেই এই কাজে নিয়োজিত ফেরেশতা তা সিল-গালা করে দেয় এবং মুমিন ব্যক্তি খুবই নিরাপত্তার সহিত গোসল কর্ম সমাধান করতে পারে। এতে শয়তান আর গোসলখানায় প্রবেশ করতে পারেনা।
পাঠকেরা নিশ্চয়ই দেখে থাকবেন, টয়লেটে ঢুকার সময় যে দোয়া পড়া হয়, তা কিন্তু শয়তানকে প্রতিহত করার জন্যই পড়া হয়। দোয়াটি এমন,
(আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল খুবসি ওয়াল খাবাইস) অর্থ : "হে আল্লাহ্! আমি কদাচারী ও নাপাক শয়তান হতে আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি"

আবার সেখান থেকে বের হয়ে আল্লাহর শোকরিয়া করা হয়। কেননা, আল্লাহর নিয়োগ-কৃত ফেরেশতারা দায়িত্ব নেবার কারণেই তিনি নিরাপদে ও সম্মানের সহিত টয়লেটে ঢুকতে এবং বের হতে পেরেছেন। এ জন্যই আল্লাহর শুকরিয়া করাটা জরুরী। সেই দোয়াটিও এমন,
(গোফরানাকা আল-হামদুলিল্লাহিল্লাজি আজহাবা আন্নিল আজা ওয়া আফানি) অর্থ : "হে আল্লাহ!) আপনার কাছে ক্ষমা চাই। সব প্রশংসা ওই আল্লাহর জন্য; যিনি ক্ষতি ও কষ্টকর জিনিস থেকে আমাকে মুক্তি দিয়েছেন"

উল্লেখ্য যারা নিজের ঘর থেকে বের হবার সময় দোয়া পড়ে। এভাবে তাদের ঘরের নিরাপত্তার দায়িত্বও সে কাজে নিয়োজিত ফেরেশতারা নিয়ে নেন। ঘরের মালীক না ফেরা অবধি, তাদের ঘর জিন ও শয়তান থেকে নিরাপদ থাকে। এতে করে গোসলখানা কিংবা টয়লেটে অবস্থান করা শয়তানেরা ঘরের বাহিরে চলে আসতে বাধ্য হয়।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) শিখিয়েছেন, 'যখন ঘরে ফেরা হয়, তখন যেন সালাম দিয়েই খালি ঘরে ঢুকে'! মূলত, এই সালাম সেই সমস্ত রহমতের ফেরেশতাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়, যারা ইতিপূর্বে ঘরের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছিল ছিল। এ জাতীয় নিরাপত্তা জনক ঘরে জিনেরাও ঢুকতে পারেনা। মানুষ যখন নিজের ঘরের দায়িত্ব নেবে যথারীতি শয়তানও ঘরে ঢুকে পড়বে।

কেননা শয়তান মানুষের উচ্ছিষ্ট থেকেই খেয়ে থাকে। ওদিকে মানুষ হল তাদের চরম শত্রু। ফলে শয়তানকে নিজের অস্তিত্ব টিকে রাখার জন্যই মানুষের সাথে থাকতে হয় এবং মানুষের পরিবার বিপদগামী হলেই সে মহাসুখে থাকতে পারে, নতুবা নয়।

তাই প্রতিটি মুমিন ব্যক্তির উচিত, শয়তান থেকে দূরে থাকার জন্য এসব আমল শিখে মেনে চলা। নিজে শিখা এবং পরিবারের সকল সদস্যদের শিখিয়ে শয়তান মুক্ত পরিবেশ তৈরী করা অধিকন্তু এসব আমল এবাদতেরই অংশভুক্ত।

-tipu

পঠিত : ৬৪ বার

ads

মন্তব্য: ০