Alapon

গতানুগতিক বিরোধিতা বনাম কার্যকরী উদ্যোগ




০১. আচ্ছা, আপনাদের কারো মনে কি এই প্রশ্ন জাগেনি যে, সত্যিকারের বিজ্ঞান-ছাত্রদের তুলনায় কলাবিজ্ঞনীরা (বাংলা সাহিত্য, চারুকলা, সমাজবিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রী) কেন বেশি নাস্তিক হয়?

এই যে উপরিউক্ত প্রশ্নটা, এই প্রশ্নটা আপনাদের মনে জাগুক কিংবা না জাগুক, আমার মনে কিন্তু অগণিতবার ঘুরপাক খেয়েছে। এমনকী এটা নিয়ে গণধিকৃত নারী, ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক লেখিকা তাসলিমা নাসরীনও হরহামেশাই আফসোস করেন যে, বিজ্ঞানের ছাত্ররা বিজ্ঞান চর্চা না করে ধর্মচর্চা করে।

কিন্তু তার এই আফসোস থেকে সে কার্যকরী কিছুই করতে পারেনি, বা করেনি। এখন অনেকেই বলবেন যে, সে তো ইসলাম বিদ্বেষী অনেক বই-পুস্তক লেখেছে, এটা কি কাজ নয়? হ্যাঁ অবশ্যই এটাও একটা কাজ। কিন্তু এটি কখনোই কার্যকর কোনো কাজ না। কোনো শক্তিশালী উদ্যোগ না। এসবের মাধ্যমে দুয়েকজন/কিছু মানুষ হয়তো সংশয়ী হয়, কিন্তু তারচেয়ে বেশি মানুষ ইসলামপ্রিয় হয়। কারণ, মানুষের মন-মগজে ইসলামের জন্য প্রচুর ভালোবাসা রয়েছে। আর ভালোবাসার ব্যক্তি / বিষয় নিয়ে কেউ বিদ্বেষ ছড়ানোর মতো নিচুস্তরের কাজ করলে মানুষ সেই ভালোবাসাকে আর শক্তপোক্তভাবে আঁকড়ে ধরতে চায়।

০২. মুসলিম সন্তানেরা বিজ্ঞান চর্চা করে নাস্তিক না হবার বিষয় উপলব্ধি করে যারা হাউকাউ না করে কার্যকরী কিছু উদ্যোগ নিয়েছে / নিতে বলেছে, তাদের মধ্যে কিন্তু সবচেয়ে অগ্রগণ্য হচ্ছে একজন নামকাওয়াস্তের মুসলিম রাষ্ট্রপতি। কে সেই রাষ্ট্রপতি, তা জানতে চান? আচ্ছা দাঁড়ান, বলছি-
জেনারেল পারভেজ মোশাররফকে তো চিনেন, তাই না? ওই যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ছিলো, ছিলো রাষ্ট্রপতিও। যে আজকে ইন্তেকাল করেছে।

তো সেই সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি পারভেজ মোশাররফের তার আত্মজীবনী 'ইন দ্যা লাইন অফ ফায়ার' বইতে বলেছিলো তাদের এজেন্ডার কথা। মুসলমানদের সন্তানদের দ্বারা ইসলাম কোপানোর কোনো। হাউকাউ না করে কার্যকরী উদ্যোগের কথা।

তিনি মুসলমানদের সন্তানদের দ্বারাই ইসলাম কোপানোর উদ্দেশ্য নিয়ে কী বলেছেন? তিনি বলেছেন যে,
বিজ্ঞান শিখিয়ে মৌলবাদ দমন করা যাবে না, শেখাতে হবে সামাজিক বিজ্ঞান।

০৩. এই যে তার এমন চিন্তা, এমন প্ল্যান-পরিকল্পনা, হুবহু এটারই বাস্তবায়ন আমরা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় বিশেষভাবে দেখতে পাই। বিশেষ করে এই বছরের পাঠ্যক্রমের দিকে খেয়াল করলে দেখতে পারি যে, সমাজবিজ্ঞানের নামে বিভিন্ন পৌত্তলিক মিথ শেখানো হচ্ছে মুসলিম শিশুদেরকে , ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্যের ওপর আঘাত করা হচ্ছে ইতিহাসের আবরণে। মুসলিম বীরদের ভিলেন হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ইসলামি আদর্শের সাথে সংঘাতপূর্ণ বিষয়-আশয় দিয়ে পাঠ্যপুস্তক ভরপুর করে ফেলা হচ্ছে। ইসলামি সভ্যতার চেয়ে প্যাগানদের সভ্যতাকে, সুলতানি আমলের চেয়ে বৃটিশ ডাকাতদেরকে উন্নত আর সমৃদ্ধ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ইসলামের স্পষ্ট নিষিদ্ধ, মানবতা বিধ্বংসী ট্র‍্যান্সজেন্ডার, সমকামিতাকে প্রাকৃতিক স্বাভাবিক একটা বিষয় বলে মুসলিম সন্তানদেরকে এসব ঘৃণিত কাজের প্রতি সহনশীল এবং ক্ষেত্র বিশেষ উৎসাহীও করা হচ্ছে। লজ্জাহীনতার উৎসাহে অশ্লীলতার উপাদানগুলোকে পাঠ্যপুস্তকেও এভেইলেবল করে দেওয়া হয়েছে। এবারের পাঠ্যপুস্তকগুলোতে অগণিত অশ্লীল উলঙ্গ মূর্তিকে স্থান দেওয়ার বিষয়টা তো সকলেই দেখেছেন। নাটক-সিনামা, সাহিত্য-সংস্কৃতির ব্যানারে তো এগুলো আরো আগেই করা হয়েছে।

আর এসবের মাধ্যমে ধীরে ধীরে মুসলিম মানসে প্রথম পর্যায়ে হীনমন্যতা, এরপর একটা পর্যায়ে ইরতাদের দিকে ধাবিত করিয়ে ব্যাপকভাবে ইসলামকে কোপানো যাবে এই মুসলিমদের দ্বারাই। এক কথায় কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা যাকে বলে আরকি।

০৪. এটাই হচ্ছে কার্যকরী উদ্যোগ। হাউকাউ আর ঠুনকো বিরোধিতার চেয়ে এগুলোই বেশি উপযোগী। যদিও দুটোই প্রয়োজন। কিন্তু উদ্যোগ ছাড়া হাউকাউ দ্বারা খুব বেশি লাভের মুখ দেখা যায় না। আর তাসলিমা নাসরীনরা হাউকাউ করেছে, ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইসলামের বিরুদ্ধে বইপত্র রচনা করেছে। অন্যদিকে এই জেনারেল পারভেজ মোশাররফদের মতো মুসলিম নেতারা কৌশল ও কার্যকরপন্থায় ইসলাম কুপিয়েছে। দিনশেষে আমরা তাসলিমা নাসরীনদের গালি দিই, খুন করতে চাই/ চেষ্টা করি, আর মোশাররফদের মতো কার্যকর ইসলামের দুশমনদের ইতিহাসের কোনো না কোনো পর্যায়ে ইসলাম ও মুসলমানদের বড়ো খাদেম হিসেবে প্রমোট করি। আমরা পারিও বটে!

০৫. ইসলাম কোপানোর জন্য এসব কার্যকরী উদ্যোগের কারণেই দেখবেন সব দেশের শাহবাগীরা ইসলাম, মুসলমান এবং মুসলিম শাসকদের ঘৃণা করলেও পারভেজ মোশাররফ বা তুর্কী কামাল আতাতুর্কের মতো ব্যক্তিদের খুবই পছন্দ করে। এসব বদমায়েশদেরকে মুসলমানদের আইডল বানাতে চায়। সত্যিকারের মুসলিম (শাহবাগী চশমার মুসলিম) হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। ইসলাম কোপানোর খায়েশ থেকে পাকিস্তানকে ঘৃণা করলেও পাকিস্তানি শাহবাগীদের সাথে (পিপিপি কিংবা এই ঘরনার নেতা ও বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে) এদের ব্যাপক দহরমমহরম।


~রেদওয়ান রাওয়াহা
০৫.০২.২৩
https://t.me/RedwanRawaha

পঠিত : ৩৫৪ বার

মন্তব্য: ০