Alapon

বস্তুবাদী সভ্যতার ভয়ালরূপ-০১



শুরুর কথা :

বস্তুবাদী সভ্যতা কতোটা নির্মম হতে পারে, কতোটা ভয়াল হতে পারে, সেটা একটু চোখ-কান খোলা রাখলেই বুঝা যায়। এই সভ্যতা আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে সত্য, কিন্তু তারচেয়ে বেশি কিছু কেড়ে নিয়ে গেছে ! আজকে আমরা সেই ভয়াল একরূপ সম্পর্কে অবহিত হয়ে আসি। প্রত্যক্ষ করে আসি সেই নির্মমতার নগ্নরূপকে।

জাপানের একটি ভয়াবহ চিত্র :

বিশ্বের অন্যতম একটি ধনাঢ্য ও সভ্য , বাহ্যিক সুখী, বস্তুবাদের উন্নতির চূড়ায় আরোহণ করা দেশ হলো জাপান। আসুন, আজকে আমরা সেই দেশের কিছু করুণ কাহিনী জেনে আসি-


আকুই গাহারা নামক একটা জঙ্গল আছে জাপানে। সেই বনটাকে সুইসাইড ফরেস্ট বলা হয়।

-কেন বলা হয়?

= কারণ, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যাপ্রবণ যে কয়টি দেশ আছে, তার অন্যতম দেশ হচ্ছে সেটা। সেখানের আকুই গাহারা নামক জঙ্গলে গিয়ে অগণিত হতাশ মানুষ নিজেদের প্রাণ নিজেই নাশ করে ফেলে। মানে সুইসাইড করে।

★ তাদের (জাপান) এই বিকৃত মন-মানসিকতাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে, মানে আত্মহত্যা নিয়ন্ত্রণ ও কমানোর জন্যে বা আত্মহত্যা প্রতিরোধের জন্য মন্ত্রী নিয়োগ করা হয়েছে।

★ তাদের বৃদ্ধরা নিঃসঙ্গ আর একাকিত্বে যাতনাময় দিন যাপন করে। দিনের পর দিন কেউ পাশে আসে না। সাথে থাকেনা।

★ ছেলে-মেয়েরা তাদের বাবা-মাকে সঙ্গ দেয় না। একসঙ্গে থাকতে চায় না ক্যারিয়ারের ক্ষতি হবে বলে।

★ তাই তারা একাকিত্ব দূর করার জন্যে লোক ভাড়া নেয়। এই একাকিত্ব দূর করার জন্য যাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়, তাদেরকে আবার ঘন্টা হিসেবে পেমেন্ট করতে হয়।

★ এমনকী তারা একাকিত্ব ঘোচানোর জন্য একটি বিশেষ ধরনের রোবটও তৈরি করেছে। যাদের সাথে বসে বসে তাদের বৃদ্ধরা গল্প করে। তাদের সাথে গল্প করার মতো মামা-মামি, চাচা-চাচি, খালা-ফুফু, কাজিন, নাতী-নাতনী ইত্যাদি দূরে থাকুক, ছেলে-মেয়ে তথা নিজ সন্তানও থাকেনা। যার কারণে একাকীত্ব দূর করতে, তাদের বইয়োবৃদ্ধরা রোবটের আশ্রয় নিচ্ছে। বাসায় বসে বসে রোবটের সাথে গল্পের আসর জমাচ্ছে।

★ মৃতদেহ সৎকারের জন্যে তারা এডভান্স পেমেন্ট করে সৎকারকারীদেরকে, যেনো তারা মারা যাবার পরে সৎকারকারীরা এসে তাদের দেহটা সৎকার করে দিয়ে যায়।

★ কিন্তু এরপরেও কি তাদের অক্ষত লাশকে সৎকার করা সম্ভব হয়? উত্তর হচ্ছে— নাহ ! তারা একা একা বাসায় মরে পঁচে গলে থাকে, এই পঁচা-গলা লাশের দুর্গন্ধ যখন ভীষণ তীব্র হয়, তখন আশপাশের মানুষ খবর পায়। সেই খবর পাবার পরে সৎকারকারীরা এসে পঁচা-গলা বিভৎস লাশটিকে ফেলে দেয় বা সৎকার করে, যাদেরকে এডভান্স পেমেন্ট করা হয়েছে, তারা আরকি।

দেখুন, জাপান নামক দেশটিতে কীসের অভাব আছে? জীবনটাকে কানায় কানায় ভোগ করার মতো কোন উপাদানের কমতি আছে? তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষতার কোন দিকটাতে তারা পিছিয়ে আছে? বিশ্বের মধ্যে তারাই প্রথম বুলেট ট্রেনের আবিস্কারক। ১৯৬৪ সালে সর্বপ্রথম উচ্চগতির রেল তাদের দেশেই চলাচল শুরু করে। এবং এটি ঘন্টায় ৬০০ কিলোমিটার থেকে শুরু করে ১৩০০ মিটার গতিতে চলার কথাও শোনা যায়। তাদের এমন উচ্চগতি-সম্পন্ন ট্রেন আছে সত্য, কিন্তু সেই ট্রেনে চড়ার মতো খুব বেশি প্রিয়জন নেই; বা যারা আছে, তারা তাদেরকে একটুখানি ভালোবাসা, মায়া-মমতা প্রদান করে না। মানে তাদের ফুরসতই মেলে না আরকি!

তাদের toyata, sony এর মতো জগতবিখ্যাত কোম্পানী আছে, কিন্তু মরা লাশ পঁচার আগে সৎকার করার মতো মানুষ নেই। ছেলে-সন্তানদের কাঁধে করে গোরস্থানে যাবার মতো কপাল নেই। বার্ধক্যের ভারে নুয়ে পড়া মা-বাবাকে একটুখানি সঙ্গ দেওয়ার মতো সন্তান নেই। বৃদ্ধদের সাথে গল্প করার মতো তরুণ-যুবক নেই।

এই হচ্ছে সভ্যতার অবদান। এই হচ্ছে উন্নতির উত্তমরূপ (!)। কিন্তু এর বিকল্পরূপে মুসলিম কমিউনিটির দিকে তাকান, বা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রগুলোর দিকে নজর দিন— অনেক কিছুই টের পাবেন। আর ইসলাম কেন প্রয়োজন, দাওয়াতে দীনের কাজ কেন গুরুত্বপূর্ণ— সেটা বুঝতে পারবেন।

এখন, আমরা যদি দাওয়াতে দীনের কাজকে দ্বিগুণ-বেগে চালিয়ে যেতে পারি তাহলে অসংখ্য বনী আদম এমন নির্মম-নিষ্ঠুর ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে। আর যদি আমাদের ক্রমাগত অধ্বঃপতন চলতেই থাকে, দাওয়াতে দীনের গতি কমতেই থাকে, দীন হিসেবে ইসলাম পরাজিত হতেই তাহকে— তাহলে হয়তো আমাদেরও সেই ধ্বংসপূর্ণ পথের অভিযাত্রী হতে হবে। যেটা ইতোমধ্যে অনেকটাই শুরু হয়েছে।


~রেদওয়ান রাওয়াহা
https://t.me/RedwanRawaha

পঠিত : ৩৫০ বার

মন্তব্য: ০