Alapon

কষ্টের লোবানে পোড়া নির্ঘূম রাত


মানুষ কাবাবের এই শহরে আমরা বেঁচে আছি। আমরা ভয় ও আতঙ্কের মাঝে বেঁচে আছি। দুশ্চিন্তা, দূর্ভাবনা নিয়ে আমরা বেঁচে আছি। আমরা বেঁচে আছি ধ্বংস আর প্রলয়ের মাঝে। আমাদের ভয়গুলো আমাদের তাড়া করে। ভাঙণ আর বিপর্যয়ের মাঝে অনেক প্রিয়মূখ চলে যায়। চলে যায় তারা না ফেরার দেশে। আমাদের বোধের জানালায় দমকা হাওয়ার মতো দুঃসংবাদগুলো আসে আবার চলে যায়। এই আসা যাওয়ার মাঝে আমাদের বেঁচে থাকা। জীবনের মূল্য এই শহরে কত? তার কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব পাওয়া না গেলেও কাবাব হওয়ার পর লাশের উত্তরাধীকারীরা কখনো কখনো পঞ্চাশ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত পেয়ে থাকেন। এটা কি জীবনের মূল্য নাকি কাবাব হওয়া লাশের মূল্য? আমাদের ভয়, বেদনাগুলো দুঃখের নদীতে পাল তোলা নৌকো, সে যেন একটির পর একটি প্রলয়ংকারী ঢেউকে মোকাবিলা করতে করতে নিজের পাটাতন কিংবা সঙ্গীদের শুধু হারায়। হারানোর বেদনা আমাদের হৃদয়ে যে দগ্ধ ক্ষত সৃষ্টি করে সময়ের ব্যবধানে তা মৃয়মান হলেও মুছে যায় না। প্রতিদিন নিত্য নতুন আঘাত যাদের জীবনকে তাড়া করে, প্রতিনিয়ত তারা ভয় ও আতঙ্কের মাঝেই বেঁচে থাকে। জীবনের মূল্য অনুধাবন হয় এখানে ক্ষমতা আর টাকার হিসেবে। রাজনীতির ষোলকলায় জীবনের লেনা দেনা ওঠা-নামা করে। জীবন উপভোগের নয় আবার উচ্ছন্নে যাওয়ারও নয়। জীবনের মূল্য আছে, দায়িত্ব এবং কর্তব্যবোধ আছে। জ্ঞান, বুদ্ধি এবং বিবেকের সাথে যোগ্যতার সমাহারে যে মানুষ তার জীবনের মূল্য টাকার অংকে বিবেচ্য হওয়ার নয়। আমরা যেন গিনিপিগ,যাদের উন্নয়নের তবলা বাজিয়ে শোনানো হয়। জীবনের অনুভবে নৈঃশব্দের মাঝে কোরাস চলে উন্নয়ন উন্নয়ন বলে। উচ্চৈঃস্বর চিৎকার আর তথাকথিত উন্নতির শ্লোগাণের মাঝে বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার অনেক ক্ষীণ এবং মৃয়মান হয়ে যায়। এই তো এরই মাঝে আমাদের বেঁচে থাকা। এখানে জীবনের চাঁকা ঘোরানোর নানান বাঁক আর নানা গল্প আছে। দূর্ঘটনা আর অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার মাঝে যারা চলে যায় তাদের গল্পগুলো আরো করুণ, আরো বেদনার।

তাজরীন থেকে নিমতলী, বি এম ডিপো হতে চকবাজার, নারায়ণগঞ্জের মসজিদ হতে গুলিস্তানের সিদ্দিকবাজার। আগুন, ধ্বংস, মৃত্যু আর গভীর ক্ষত নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষগুলোর বেদনার মাঝে কিছু অনাহুত জবাব ব্যতীত জাতি আর কিছুই পায়নি। বিদ্যুৎ সংযোগে ত্রæটি, গ্যাস সংযোগের অবৈধতা, ভবন নির্মাণে অনুমতি নেই, ফায়ার সার্টিফিকেট নেই, বৈধ কাগজপত্র ছিলো না- ইত্যাদি বেশুরো জবাবগুলো শোনতে শোনতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। রাষ্ট্রের কর্মচারীদের অপেশাদারিত্বমূলক জবাবের মাঝে রাজনীতিবিদদের বক্তব্যগুলো আমাদের তপ্ত ক্ষতে নতুন করে অগ্নি প্রজ্জলন করে। বিরোধী দলের নাশকতা, সরকার পতনের ষড়যন্ত্র, কিংবা স্বাধীনতার দুশমনরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আইন শৃক্সক্ষলা বাহিনীগুলোর বক্তব্যও কখনো কখনো সন্তোষজনক হয় না। নাশকতা, জঙ্গি তত্ত¡ অথবা ক্ষমতাসীনদের খুশি করতে তাদের সাচিবিক শব্দের ব্যবহার আমাদের প্রত্যাশার পারদকে শুধু নিম্মগামীই করে। মৃত মানুষের স্বজনরা প্রিয়জন হারানোর বেদনা এক সময় ভুলে গেলেও আহত মানুষদের কেউ কেউ দুঃসহ স্মৃতির বোঝা নিয়ে জীবনকে পার করে দেয়। তাজরীন দূর্ঘটনায় এখনো অনেকে আপনজনের ছবি নিয়ে দুঃখ দিনের স্মৃতি রোমন্থন করে; যারা আজো পর্যন্ত জানতে পারেনি তার পরিবারের সদস্যের লাশটি কোথায়? অনিয়ম আর বিশৃঙ্খলায় ভরা রাষ্ট্রের পরতে পরতে শুধু নিয়ম ভাঙার প্রতিযোগিতা। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মানুষগুলো বারুদ আর বোমার মাঝে বসবাস করে। আমরা যেন যুদ্ধ ছাড়াই টাইম বোমার ওপরে বসবাস করছি। রাজধানী ঢাকার হাজার হাজার ভবন এমন যার অনুমোদন কিংবা নির্মাণশৈলী যথাযথ নিয়মে হয়নি। বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণের পরও সেখানে অনিয়মের প্রতিযোগিতা আছে। আমরা যতো আধুনিক হচ্ছি, প্রাগৈতেহাসিক নির্মমতা আমাদের জীবনকে ততো বেশি অষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলছে। দূর্ঘটনাগুলো কি শুধু নিয়ম ভাঙার প্রতিযোগিতা, না কি নৈতিক ও চারিত্রিক মাপকাঠিতে আমরা দিন দিন অধঃগতির দিকে যাচ্ছি তাও বিচার করে দেখা দরকার।
প্রতিটি ঘটনা আমাদের হৃদয়কে নতুন করে নাড়া দেয়। ঘটনা ঘটার সাথে সাথে সরকারের টনক নড়ে। সাংবাদিক বন্ধুরা সংবাদ সংগ্রহে রাতদিন দৌড়ঝাপ করে। রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট আইনী এবং প্রশাসনিক বিভাগগুলো তৎপর হয়। স্বেচ্ছাসেবীদের অক্লান্ত পরিশ্রম আমাদের আশাবাদী করে। অল্পদিনের মধ্যেই দূর্ঘটনার রেশ কেটে যেতে থাকে। আবার নিয়ম ভাঙার প্রতিযোগিতা চলে। নিয়মের মাঝেও কখনো কখনো দূর্ঘটনা ঘটে চলে। বেশ কয়েকবছর যাবৎ পুরান ঢাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেই চলছে। লোকালয়ের বাইরে কেমিকেল গোডাউন সরিয়ে নেয়ার কথা বলা হলেও তা কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে বোঝার উপায় নেই। পুরান ঢাকার গলিগুলো এতো সরু যে, কোনো কোনো গলিতে ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি তো দূরের কথা রিক্সা ঢোকাই দায়। একটি ভবন থেকে আর একটি ভবনের মাঝে যে ফাকা থাকার কথা তা আদৌ নেই। একটি ভবন নির্মাণের সময় চারদিকে ৩৫ শতাংশ জমি ছেড়ে দিতে হবে, এ নিয়ম কয়জন মানে ভবনগুলোর মাঝখানের দূরত্ব দেখলেই তা বোঝা যায়। বিদ্যুৎ সংযোগ এবং ভবনের ওয়্যারিং নীতিমালা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানার কোনো বালাই নেই। ঢাকার সুয়ারেজ লাইনগুলো একটি সভ্য নগরের সাথে মেলে না। এসব লাইনের মাধ্যমে মিথেন গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে বড়ো দূর্ঘটনা যে কোনো সময় ঘটতে পারে, সাইন্সল্যাব এলাকার দূর্ঘটনা তার প্রমাণ। তিতাস গ্যাসের লাইনগুলো কতটুকু নিরাপদ তা প্রমাণ করেছে গুলিস্তান ট্রাজেডি। নগরের অফিস এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের সীমাতিক্রম্য প্রতিযোগিতায় হাজারো প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এ সব প্রতিষ্ঠানের ক্যাবল যেন নগরীতে এক মহা জঞ্জাল। কোন সংস্থা তাদেরকে এভাবে বিদ্যুৎ লাইনের পিলারের সাথে ক্যাবল টানার অনুমোদন দিয়েছে তার কোনো জবাব পাওয়া দুস্কর।
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের অক্সিজেন ডিপো, রাজধানীর সাইন্সল্যাব এবং সিদ্দিকবাজার ট্রাজেডিতে নিহতদের স্বজনদের কান্না এখনো থামেনি। আহতরা হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন আছেন যারা শংকামুক্ত নন। এই লেখা যখন লিখছি (১০ মার্চ-২০২৩) তখন শুধুমাত্র সিদ্দিকবাজার ট্রাজেডির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বাইশ জনে এসে দাড়িয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। মহামহিম রবের কাছে প্রার্থনা আল্লাহ আহত সবাইকে অতি দ্রæত সুস্থ করে দিন। সিদ্দিকবাজার ট্রাজেডির দিন গিয়েছিলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালে। হাসপাতালের মর্গে নিহতদের লাশের সাড়ি, বাইরে স্বজনদের কান্না এবং আহতদের গগণবিদারী চিৎকার পুরো হাসপাতালের পরিবেশকে ভারী করে তুলেছিলো। ঢাকার লালবাগের ইসলামবাগের অধিবাসী মমিনুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী নদী আক্তার একই সাথে নিহত হয়েছেন। মমিনুল ইসলামের ছোটো বোনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম। ভাই এবং ভাবীকে হারিয়ে সে নির্বাক। ঘটনায় নিহত আকুতি বেগমের ভাইয়ের ছেলে শুধু চিৎকার করে কাঁদতেছিলো। কোনো সান্তনাই তার কান্না থামাতে পারছে না। ব›ন্ধুকে হারিয়ে চিৎকার করে কাঁদছিলো পুরান ঢাকার একদল তরুণ।

নিহত শান্তর ছবি
মিডিয়ার বরাতে আমরা অনেকেই জেনেছি নিহত এবং আহত অনেকের হৃদয়ছোয়া কাহিনী। মায়ের জন্য ইফতার কিনতে এসেছিলো বংশালের এক তরুণ। ইফতার নয় সে নিজেই লাশ হয়ে তখন ঢাকা মেডিকেলের মর্গে। নিজ বাড়ি ময়মনসিংহে রওয়ানা দিয়েছিলেন এক নারী, পথিমধ্যে তিনি এ ঘটনায় লাশ হলেন। নিহতদের একটি বড়ো সংখ্যা অতি দরিদ্র শ্রেণির মানুষ। গুলিস্তান বিস্ফোরণে নিহত আহত সবার জীবনেই আছে এক একটি ট্রাজেডিক গল্প। এদের মধ্যে একজন রবিন হোসেন শান্ত। যাকে তার দরিদ্র বাবা-মা বিয়ে বরিয়েছিলেন। তাদের আশা ছিলো ছেলের বউ তাদের ঘর আলোকিত করবে। সেই বউ এসেছে তবে স্বামীর হাত ধরে লাল শাড়ি পড়ে নববধুর সাজে নয়। সে এসেছে স্বামীর লাশ দেখতে এবং তার দাফন ও জানাজা দেখতে। শান্তর পিতা-মাতার দুঃখগাথার কয়েক পঙক্তি দৈনিক সমকালের বরাতে পাঠকদের জন্য উল্লেখ করছি ‘‘ ‘আমরা বুড়া-বুড়ি কখন যে মরে যাই তা কি বলতে পারি। তাই ছেলের বউ দেখব বলে পাঁচ মাস আগে তাকে বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু অভাবের সংসারে অনুষ্ঠান করতে পারিনি। তাই এখনও পোলা বউরে বাড়িতে নাইয়র (ওঠানো) আনা হয় নাই। ছেলের দোকান মালিক বলেছিলেন, রমজানের ঈদের পরে শান্তর (ছেলে) বেতন বাড়াবে। আশা ছিল, কোরবানির ঈদের পর গ্রামের মুরব্বিদের নিয়ে লাল শাড়ি পরাইয়া বউ আনব। কিন্তু তা আর হলো না। নতুন বউ আইলো স্বামীরে দাফন করতে।’ শান্তর মতো বেশ কয়েকজন তরুণ এ ঘটনায় নিহত হয়েছে, যারা বিভিন্ন দোকানের কর্মচারী। টাইলস দোকানের কর্মচারী আছে চার-পাঁচজন। কুমিল্লার মেঘনা থানার মো. সুমন মাত্র ১০/১২ দিন আগে কাতার থেকে দেশে ফিরেছেন। সুমন কিংবা তার পরিবারের কেউই কি জানতো এটিই তার জীবনের শেষ দিন। শুধু ঢাকা মেডিকেল নয়, জাতীয় বার্ণ ইনস্টিটিউট, মিডফোর্ড হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতাল সর্বত্রই ছিলো এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। আহত নিহত মানুষের সাড়ির সাথে ভীড় বাড়তে থাকে স্বজনদের। এ মানুষগুলো কষ্টের লোবানে পোড়া নির্ঘুম রাত পার করেছে হাসপাতালেই।
জীবন মৃত্যুর ফায়সালা আল্লাহর হাতে; এটি নির্মম সত্য। কিন্তু সেই আল্লাহরই ঘোষণা জলে স্থলে মানুষের জীবনে যতো বিপদ বিশৃঙ্খলা সবই মানুষের কৃতকর্মের ফসল। আল্লাহ নিয়মের বাইরে পৃথিবীকে পরিচালনা করেন না। কোনো জাতি যখন গড়ার চেয়ে ভাঙার খেলায় বেশি মত্ত হয়ে যায় তখন প্রথম আল্লাহ তাদেরকে ছোটো বিপদ দিয়ে সতর্ক করেন। এরপর বড়ো বড়ো বিপদ তাদের ওপর আবর্তিত হয়। আল্লাহ কুন ফায়াকুনের মালিক। তিনি যখন যা ইচ্ছা করেন তাই ঘটাতে পারেন। পৃথিবী পরিচালনায় আল্লাহর একটি নিয়ম আছে এই নিয়মের তিনি কখনো ব্যত্যয় ঘটান না। রাস্তায় একটি চলমান গাড়িকে তিনি বিনা কারণে বিপদে আবর্তন করান না। ড্রাইভার নিয়ম ভেঙে ওভার স্পিডে গাড়িকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে গেলে সেখানে দূর্ঘটনা ঘটা স্বাভাবিক। কেউ আগুনে হাত না দেয়া পর্যন্ত কারো হাত পুড়বে না। আমাদের দেশের গোটা ব্যবস্থাপনায় অধিকাংশ মানুষের মাঝে নিয়ম ভাঙার একটি মানসিক ব্যধি তৈরী হয়েছে। হাসপাতালে রোগী দেখাতে গিয়ে আরো দশজন মুমুর্ষ রোগীকে পেছেনে ফেলে নিজে আগে কিভাবে ডাক্তারের কাছে যাওয়া যায় তার একটি প্রতিযোগিতা। ব্যাংকের লাইনে বিল কিংবা টাকা জমা দিতে গেলে সবার আগে যাওয়ার চেষ্টা। রাস্তায় গাড়িতে ওঠার ক্ষেত্রে অন্যজনকে ধাক্কা দিয়ে নিজে ওঠার প্রতিযোগিতা।
নিয়ম লঙ্ঘন করে বাড়ি নির্মাণ, গ্যাস বিদ্যুৎ সংযোগ ইত্যাদি কর্মযজ্ঞ চলে সারা বছর। মানুষের এই যে নিয়ম ভাঙার প্রতিযোগিতা; এর পেছনে অন্যতম একটি কারণ পাবলিক সার্ভিস বলতে যা বোঝায় তা মানুষের জন্য সহজলভ্য নয়। সরকারী অফিসগুলোতে সামান্য ব্যতিক্রম বাদ দিলে ঘুষ ছাড়া ফাইল চলে না। রাজউক, ওয়াস বিদ্যুৎ এবং অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের জন্য কতটুকু সেবামূলক, ভুক্তভোগী ব্যতীত কেউ তা বুঝবে না। ডিজিটাল থেকে স্মার্টের পথে হাটা বাংলাদেশে এখন ঘুষও স্মার্ট পদ্ধতি অবলম্বন করছে। সব নিয়ম মানার পরেও বখশিষ না দিলে সেবা পাওয়া যেখানে দুস্কর, সেখানে অনিয়মই যেন নিয়ম হয়ে যায়। অসংখ্য অনিয়মের ভীড়ে কোনটি নিয়ম আর কোনটি অনিয়ম তা বোঝা দুস্কর হয়ে পড়ে। প্রতিটি দূর্ঘটনার পরে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দায়সারা বক্তব্য দিয়ে নিজেদেরকে সেফসাইডে নেয়ার চেষ্টা করেন। সর্বত্র অনিয়ম আর অনাচারের জঞ্জালের মাঝে ¯্রষ্টা আমাদেরকে স্বাভাবিক জীবন যাপনের যতটুকু সূযোগ দিয়েছেন তা মহান রবের অপার মেহেরবাণী। নিয়ম ভাঙার এই সমাজকে গড়ার পথে নিয়ে যেতে না পারলে তাজরীন, সীতাকুন্ড নয় তার চেয়ে ভয়াবহ দূর্ঘটনার পথে আমাদেরকে ধাবিত করবে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে সকল বিপদ থেকে রক্ষা করুন। আসুন, মানুষ কাবাবের এই শহরকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করে গড়ে তুলি।

- মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান

পঠিত : ৩৪৩ বার

মন্তব্য: ০