Alapon

মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে যেসব লোকের ব্যাপারে নিন্দা করেছেন...



আমরা জানি আল্লাহ তায়ালা কুরআনে অবিশ্বাসী ও অকৃতজ্ঞদের নিন্দা করেছেন। যারা মুনাফিকী ও শিরকে লিপ্ত। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা কুরআনে আরও এক দল মানুষের নিন্দা করেছেন। তারা হলেন "মুসরিফিন"। এরা হল তারা যারা সীমার অতিরিক্ত, প্রয়োজনের চেয়ে বেশী কিছু করে। আল্লাহ পাক এদের ব্যাপারে বলেছেন যে সীমা লঙ্ঘনকারীরাই জাহান্নামে।

এই শব্দটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ইসরাফ শব্দের অর্থ হল প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু করা। যেমন রামাদানে ইফতারের সময় আমরা অনেকেই নিজের প্লেটে যত পারি খাবার নিতে থাকি। মনে মনে ভাবি এগুলো সবই শেষ করবো। কিন্তু দেখা গেলো শেষ পর্যন্ত অর্ধেকও শেষ করতে পারলাম না। তাহলে আমরা ইসরাফে ভুগছি। যা প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি নিয়ে নিচ্ছি, যা কিনা শেষও করতে পারছিনা। অপচয় হচ্ছে। এমনটা দেখা যায় বিয়ে বাড়িতেও। মানুষ প্রচুর খাবার তার প্লেটে নিচ্ছে, কিন্তু শেষ করেছে খুব কমই। বাকিটা ফেলে দিতে হচ্ছে। শুধু অপচয় নয়, বেশি খাওয়াটাও এই শব্দের অন্তর্ভুক্ত। দেখা গেছে আমার পেট ভরে গেছে, তাও আমি খেয়েই চলেছি। সারাক্ষণ কিছু না কিছু খাচ্ছেন। ভোগ করেই যাচ্ছেন।

এটাও ইসরাফ। এর কারণে এই দুনিয়াতেই মানুষ এর ফল ভোগ করে। অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে তার নানা অসুখ বিসুখ হওয়া শুরু করে, হয়তো এখন নয় কিন্তু কিছু বছর পর।

শুধু খাবারেই এটা সীমাবদ্ধ নয়। খরচ করার ব্যাপারেও এটা হতে পারে। বাজারে গেলেন একটি ব্যাগ কিনতে, কিনে এনেছেন তিনটি। বা অল্প কিছু কিনতে গিয়ে চোখের সামনে যা পড়েছে প্রায় সবই ঝুড়িতে নিয়ে নিলেন। অনেকের হয়তো জমানোর সমস্যা রয়েছে। দেখা গেছে কিছু জিনিস সে কখনই ব্যবহার করেনা, কিন্তু বছরের পর বছর তা জমিয়ে রেখেছেন। হতে পারে বিনোদনের ক্ষেত্রে। একের পর এক ভিডিওতে ক্লিক করেই যাচ্ছি। বা একের পর এক মুভি । সকালে উঠে শুরু, ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কিছু না কিছু চলছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত। আল্লাহ্‌ পাক স্পষ্টভাবে বলেছেন, নিশ্চয়ই যারা ইসরাফ করে, আল্লাহ্‌ তায়ালা তাদের ভালোবাসেন না।

কারো জীবন যাপন যদি এমন হয়ে থাকে, যে যাই করেন না কেন আপনি তা মাত্রাতিরিক্ত করে থাকেন। তাহলে আপনার জীবনে নানান রকম সমস্যা আসতেই থাকবে। আমাদের জীবনে অনেক রকম দায় দায়িত্ব রয়েছে। বাবা মা, পরিবার, সন্তান সন্তানাদি, স্বামী, স্ত্রী, ভাই বোন, বন্ধু বান্ধব, চাকরি, ধর্মীয় দায়িত্ব ইত্যাদি। কিন্তু আপনার অভ্যাস যদি হয় ইসরাফ করা, যেটাই করেন আপনি বেশি বেশি করে ফেলেন , ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন না, তাহলে কি হবে ? এক দিকে বেশি পড়ে গেলে অন্য দিকে ভারসাম্য থাকবে না। দাঁড়িপাল্লার এক দিক বেশি ভারী হয়ে পড়বে। তখন জীবনে নানা রকম সমস্যা দেখা দিবে।
একটি উদাহরণ দেই। অনেক তরুণ ব্যবসা করতে চায়। বেশ ভালো। তারা সারাদিন এই নিয়েই কথা বলে। কিন্তু কিছুদিন পর খেয়াল করবেন যে তারা কাজের থেকে কথাই বেশি বলে যাচ্ছে। অনেক রকম আইডিয়া কিন্তু কোনটাই তারা আসলে শুরু করছে না। অথবা শুরু করলেও দেখা যাচ্ছে সারা দিন তারা এটা নিয়েই পড়ে আছে। বাবা, মা, স্ত্রী, সন্তান কারও কোন খবর নেই। তাদের অধিকার পূরণ হচ্ছে না। এটাই ইসরাফ। কোনও কিছু অতিরিক্ত করে ফেলা। ব্যবসা করা বা এটা নিয়ে ভাবা তো অন্যায় কিছু না, কিন্তু ইসরাফ করা নিশ্চয়ই অন্যায়।

এটা যে শুধু দুনিয়ার ব্যপারগুলোতেই হয় তা নয়। ইসলামের ক্ষেত্রেও হয়। অনেক তরুণ যখন কুরআন নিয়ে পড়াশুনা করে, তখন তারা বলে আমি এটাই করতে চাই। সারাদিন, সারা জীবন শুধু ইসলাম নিয়ে পড়াশুনা করতে চাই। দুনিয়া থেকে আমি দূরে থাকব। অথচ এই কুরআনই বলছে আমাদেরকে এর পাশাপাশি দুনিয়াতেও বাঁচতে হবে এবং দায় দায়িত্ব পূরণ করতে হবে।

ইসরাফ হতে পারে আবেগে, ভালোবাসায়, আমাদের জীবনে বিভিন্ন পদে পদে। এই ব্যাপারে আমরা যদি সাবধান না হই, আমাদের জীবনে ভারসাম্য থাকবে না, আর নানা রকম সমস্যা দেখা দিবে। মানসিক অশান্তি দেখা দিবে।

পঠিত : ৮৯০ বার

মন্তব্য: ০