Alapon

আলী রা.-এর শাসনামলে খারেজি সমস্যা



আলী রা. ব্যাপক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন। উটের যুদ্ধ ও সিফফিনের যুদ্ধের পর আরেকটি বড় পরীক্ষা ছিল 'খারেজি সমস্যা'। সিফফীনের ঘটনার পরে হযরত আলী সিরিয়া থেকে প্রত্যাবর্তন করে কুফায় চলে আসেন। তিনি যখন কুফায় প্রবেশ করেন, তখন তাঁর বাহিনীর একটি অংশ পৃথক হয়ে যায়। কারও মতে তাদের সংখ্যা ছিল ছয় হাজার, কারও মতে বার হাজার। কারও মতে বার হাজারের কম। এরা হযরত আলীর পক্ষ ত্যাগ করে পৃথক হয়ে যায় এবং তাঁর বিরুদ্ধে কতিপয় অভিযোগ এনে তাঁর প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়ায়।

আলী রা. কুফার মসজিদে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলে মসজিদের এক কোনায় ‘লা হুকমা ইল্লা লিল্লাহ’ ‘আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারো হুকুম মানি না’ স্লোগানে তারা মসজিদ প্রকম্পিত করে তুলে। তারা আলী রা.-কে উদ্দেশ্য করে বলে যে, আপনি বিচার ব্যবস্থা মানুষের হাতে তুলে দিয়েছেন! অথচ বিচারের মালিক হচ্ছেন আল্লাহ্। আপনি সূরা আন‘আমের ৫৭নং আয়াত (ان الحكم الا لله) ‘আল্লাহ ব্যতীত কারো ফায়সালা গ্রহণযোগ্য নয়’-এর হুকুম ভঙ্গ করেছেন। আল্লাহর বিধানের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের জন্য আপনি মুশরিক হয়ে গেছেন ইত্যাদি। তাদের মতে আলী, মু‘আবিয়া, আমর ইবনুল আসসহ সালিশ সমর্থনকারী সকল সাহাবী কুফরী করেছেন এবং কাফের হয়ে গেছেন। অথচ সত্য হ’ল, মানুষের বিচারের জন্য মানুষকেই বিচারক হতে হবে। আর বিচার হবে আল্লাহর আইন অনুসারে।

আলী রা. তাদের কাছে গেলে তারা তাঁকে তিরস্কার করে বলতে থাকে মহান আল্লাহ্ আপনাকে যে জামা পরিধান করিয়েছিলেন, আপনি সে জামা খুলে ফেলেছেন। যে উপাধিতে মহান আল্লাহ্ আপনাকে ভূষিত করেছিলেন আপনি সে উপাধি প্রত্যাহার করেছেন। এরপর আপনি আরও অগ্রসর হয়ে মহান আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে সালিস নিযুক্ত করেছেন। অথচ মহান আল্লাহ্ ব্যতীত আর কারও ফয়সালা করার অধিকার নেই।

আমীরুল মু'মিনীন আলী রা. পবিত্র কুরআনের একটি কপি এনে সবার সম্মুখে রাখলেন। এরপর তিনি হাতের আংগুল দ্বারা পবিত্র কুরআনের ওপর টোকা মেরে বললেন, ওহে কুরআন! তুমি লোকদেরকে তোমার কথা জানাও। উপস্থিত লোকজন আলীকে বললো, হে আমীরুল মু'মিনীন! আপনি পবিত্র কুরআনের কপির কাছে এ কি জিজ্ঞেস করছেন? ও তো কাগজ আর কালি ছাড়া আর কিছু নয়। আমরা তো ওর মধ্যে যা দেখি তা নিয়ে কথা বলছি। তা হলে এরূপ করায় আপনার উদ্দেশ্য কি?

তিনি জবাবে বললেন, তোমাদের ঐসব সাথী যারা আমার থেকে পৃথক হয়ে অবস্থান নিয়েছে, তাদের ও আমার মাঝে মহান আল্লাহর কিতাব রয়েছে। মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে একজন পুরুষ ও একজন নারীর ব্যাপারে বলেছেন,
তাদের উভয়ের মধ্যে বিরোধ আশংকা করলে তোমরা তার (স্বামীর) পরিবার হতে একজন ও তার (স্ত্রীর) পরিবার হতে একজন সালিস নিযুক্ত করবে; তারা উভয়ে নিষ্পত্তি চাইলে আল্লাহ তাদের মধ্যে মীমাংসার অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি করবেন (নিসা : ৩৫)।

সে ক্ষেত্রে হযরত মুহাম্মদ-এর সমস্ত উম্মতের রক্ত ও সম্মান একজন নারী ও একজন পুরুষের তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই তো আমি তো রক্তপাত বন্ধ করে সালিশি পন্থায় অগ্রসর হয়েছি।

তারা আমার উপর আরও অভিযোগ এনেছে যে, আমি মু'আবিয়াকে যে চুক্তিপত্র লিখে দিয়েছি, তাতে লিখেছি আলী ইবনে আবূ তালিব। আমিরুল মুমিনিন লিখি নি। এ ব্যাপারে আমার বক্তব্য হলো, হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় কুরাইশদের পক্ষ থেকে সুহাইল ইব্‌ন আমর যখন নিজ কওমের সাথে সন্ধিপত্র লেখেন, তখন আমরা তথায় উপস্থিত প্রথমে লেখলেন বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

সুহাইল আপত্তি জানিয়ে বললো, আমি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম লিখতে রাজি নই। রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, তা হলে কীভাবে লিখবো? সুহাইল বললো, লিখবো বিছমিকা আল্লাহুম্মা। রাসূলুল্লাহ্ বললেন, তাই লিখ। সুহাইল সেভাবেই লিখল। রাসূলুল্লাহ্ বললেন, এখন লিখ- 'এই সন্ধিপত্র, যা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ সম্পাদন করলেন। সুহাইল বলল, আমি যদি জানতাম যে, আপনি আল্লাহর রাসূল, তা হলে তো আপনার সাথে আমার কোন বিরোধই থাকতো না । অবশেষে লেখা হলো, এই সন্ধিপত্র যা আবদুল্লাহর ছেলে মুহাম্মদ কুরাইশদের সাথে সম্পাদন করলেন।

মহান আল্লাহ্ বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ্ ও আখিরাতকে ভয় করে তাদের জন্যে রাসূলুল্লাহ্ -এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ (আহযাব : ২১)। আমি তো রাসূল সা.এর পন্থাই অনুসুরণ করেছি।

এরপর হযরত আলী তাদের সাথে আলোচনা করার জন্য আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাসকে প্রেরণ করেন। আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আব্বাস তিনদিন পর্যন্ত সেখানে তাদের সাথে আলোচনা ও মত বিনিময় করেন। অবশেষে তাদের মধ্য থেকে চার হাজার লোক তওবা করে ফিরে আসে। ইব্‌ন আব্বাস এদেরকে হযরত আলী রা.-এর কাছে কুফায় নিয়ে আসেন। অবশিষ্ট লোকদের কাছে হযরত আলী বার্তা পাঠিয়ে জানান যে, তোমরা আমাদের ও অন্যদের কর্মনীতি দেখেছ। কাজেই তোমরা যেথায় ইচ্ছা অবস্থান কর। উম্মতে মুহাম্মাদীর মধ্যে ঐক্য ও সংহতি পুনঃ প্রতিষ্ঠিত হোক। আর তোমাদের ও আমাদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত থাকলো যে, তোমরা অন্যায়ভাবে কারও রক্তপাত ঘটাবে না। ডাকাতি, রাহাজানি করবে না এবং যিম্মীদের উপর অত্যাচার চালাবে না । যদি এর কোনটিতে লিপ্ত হয়ে পড়ো তবে তোমাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠিন যুদ্ধে অবতীর্ণ হবো। আল্লাহ্ বিশ্বাস ভঙ্গকারীদেরকে পছন্দ করেন না (আনফাল : ৫৮)।

খারেজীরা নিজেদের এই নির্বুদ্ধিতাকে ধর্মীয় গোঁড়ামিতে রূপ দান করে এবং মুসলমানদের মাঝে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূচনা করে। আলী (রা.) তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমাদের ব্যাপারে আমরা তিনটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ১. তোমাদেরকে মসজিদে আসতে আমরা নিষেধ করব না ২. রাষ্ট্রীয় সম্পদ হ’তে আমরা তোমাদের বঞ্চিত করব না ৩. তোমরা আগে ভাগে কিছু না করলে আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না।

প্রথমে দলত্যাগকারীদের মূল সংখ্যা ছিল আট হাজার। এরা প্রায় সবাই ছিল কারী (হাফিজে কুরআন)। তাদের দাওয়াতে অন্যান্য লোক এসে তাদের পথ গ্রহণ করায় সংখ্যা বেড়ে ১৫/১৬ হাজারে উন্নীত হয়। ইবনে আব্বাস তাদের সাথে আলোচনা করার ফলে তাদের থেকে ৪/৫ হাজার লোক ফিরে আসে এবং অবশিষ্টরা স্ব-মতে বহাল থাকে। ইতিহাসে এই লোকদের খারেজি বলা হয়ে থাকে। খারেজিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এরা নিজেদের দল ছাড়া বাকীদের তাকফির করে। অর্থাৎ কাফির ঘোষণা করে।

শাব্দিক অর্থে ‘খারেজী’ শব্দটি আরবী ‘খুরূজ’ (الخروج) শব্দ হ’তে এসেছে, যার অর্থ ‘বের হওয়া বা বেরিয়ে যাওয়া’। বহুবচনে ‘খাওয়ারিজ’ ব্যবহৃত হয়। পারিভাষিক খারেজী হ’ল- ‘এমন ব্যক্তি বা দল যে বা যারা এমন হক ইমামের (শাসক) বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে, যাকে লোকেরা ইমাম হিসাবে স্বীকার করে নিয়েছে। ইবনু হাযম আন্দালুসী (রহ.)-এর সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘খারেজী বলতে প্রত্যেক এমন সম্প্রদায়কে বুঝায় যারা চতুর্থ খলীফা আলী (রা.)-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারীদের মতামত কিংবা তাদের রায় অবলম্বনকারী, তা যেকোন যুগেই হোক না কেন’।

তাকফির করা ছাড়াও খারেজীদের আরো কিছু বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে রাসূল সা. যা বলেছেন :
‘আলী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে বলতে শুনেছি যে, শেষ যামানায় এমন একদল মানুষের আবির্ভাব হবে, যারা হবে কমবয়স্ক এবং যাদের বুদ্ধি হবে স্বল্প। ভাল ভাল কথা বলবে, কিন্তু তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেমন তীর ধনুক থেকে বেরিয়ে যায়। তাদের ঈমান গলার নিচে পৌঁছবে না। (বুখারী- ৫০৫৭)

১- বয়স কম।
২- প্রজ্ঞা, বুদ্ধি ও হিকমাহ থাকবে না।
৩- উত্তম কথা বলবে, হক কথা বলবে।
৪- তারা পরিপূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে না। তারা কিছু অংশ মানবে কিছু মানবে না।

আবূ সা’ঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে বলতে শুনেছি, ভবিষ্যতে এমন সব লোকের আগমন ঘটবে, যাদের সলাতের তুলনায় তোমাদের সলাতকে, তাদের সওমের তুলনায় তোমাদের সওমকে এবং তাদের ‘আমালের তুলনায় তোমাদের ‘আমালকে তুচ্ছ মনে করবে। তারা কুরআন পাঠ করবে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালীর নিচে (অর্থাৎ অন্তরে) প্রবেশ করবে না। এরা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনভাবে নিক্ষিপ্ত তীর ধনুক থেকে বেরিয়ে যায়। (বুখারী-৫০৫৮)
এখানে কিছু বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়।

৫- তাদের সালাত ও সিয়াম সুন্দর হবে। তারা ইবাদতে খুব নিষ্ঠাবান হবে।
৬- তারা কুরআন পাঠকারী হবে, তবে কুরআন বুঝতে তারা সক্ষম হবে না। ইলমগত দৈন্যতা থাকবে।

আবূ সা’ঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসূল সা. কিছু গনিমতের মাল বন্টন করছিলেন। তখন এক ব্যক্তি এসে বললো, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহকে ভয় করুন। ইনসাফ করুন। তখন তিনি বললেন, আমিই যদি নাফারমানী করি তাহলে আল্লাহর আনুগত্য করবে কে? আল্লাহ আমাকে পৃথিবীবাসীর উপর আমানতদার বানিয়েছেন আর তোমরা আমাকে আমানতদার মনে করছ না। তখন এক ব্যক্তি তাঁর নিকট তাকে হত্যা করার অনুমতি চাইল। [আবূ সা’ঈদ (রাঃ) বলেন] আমি তাকে খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ) বলে ধারণা করছি। কিন্তু নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে নিষেধ করলেন।

অতঃপর অভিযোগকারী লোকটি যখন ফিরে গেল, তখন নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ ব্যক্তির বংশ হতে বা এ ব্যক্তির পরে এমন কিছু সংখ্যক লোক হবে তারা কুরআন পড়বে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। দ্বীন হতে তারা এমনভাবে বেরিয়ে পড়বে যেমনি ধনুক হতে তীর বেরিয়ে যায়। তারা ইসলামের অনুসারীদেরকে (মুসলিমদেরকে) হত্যা করবে আর মূর্তি পূজারীদেরকে হত্যা করা হতে বাদ দেবে। আমি যদি তাদের পেতাম তাহলে তাদেরকে আদ জাতির মত অবশ্যই হত্যা করতাম। (বুখারী- ৩৩৪৪)

ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেনঃ খারেজীদের সবচেয়ে মারাত্মক যে দোষ মহানবী (সা) বর্ণনা করেছেন তা হলো তারা ইসলাম পন্থীদের হত্যা করবে, এবং মূর্তিপূজকদের ছেড়ে কথা কথা বলবে। (মাজমূ’, ২৮/৫২৮) ইমাম কুরতবী বলেনঃ তারা মুসলিমদের কাফির সাব্যস্ত করে যখন তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে, তাদের রক্ত তখন তারা হালাল মনে করবে, আর ঐ দেশের কাফির জনশক্তিকে ছেড়ে দেবে। (আল মুফহিম, ৩/১১৪)

৭- তাদের আদব জ্ঞান থাকবে না। যার তার ভুল ধরবে অযথা। সবসময় নিজেদের মতকে সহীহ মনে করবে। অন্যদের বাতিল মনে করবে।
৮- তারা ইসলামের অনুসারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। মুরশিকদের বিরুদ্ধে তাদের কোনো বক্তব্য থাকবে না।

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, শেষ যমানায় এ উম্মাতের মধ্যে একটি সম্প্রদায় আবির্ভূত হবে, যারা কুরআন পড়বে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালীর নিচে যাবে না। তাদের চিহ্ন হবে মুণ্ডিত মাথা। ইবনে মাজাহ- ১৭৫

৯- তাদের অনেকের মাথা মুন্ডানো থাকবে।

মহানবী (সঃ) বলেছেনঃ এরা এমন হবে যে মানুষদের বিস্মিত করাবে, এবং তারা নিজদের নিয়েই গর্ব বোধ করবে। (আহমাদ, ১২৯৭২, আলবানী হাদীসকে সাহীহ বলেছেন)।

১০- তাদের মধ্যে ইবাদতের অহংকার থাকবে।

আল্লাহর রাসূলের ভাষা অনুসারে এখানে প্রায় দশটি বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। এখানে কিছু ভালো গুণ রয়েছে। এর মানে এই না যে আমরা ভালো গুণগুলো অর্জন করবো না। ইসলামের পক্ষে থাকা সত্ত্বেও নির্বুদ্ধিতা ও গোঁড়ামীর ফলে তারা ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যায়।

পঠিত : ৮৪৬ বার

মন্তব্য: ০