Alapon

তুরস্কেও শাহবাগ?




গত ১৪ তারিখ ফেসবুকের মিম্বার গ্রুপে "কেন এরদোয়ানের বিজয় চাই " শিরোনামে একটা পোস্ট করেছি। সংগত কারণেই সে লেখাটায় শাহবাগী শব্দটা ব্যবহার করেছি বা ব্যবহৃত হয়েছে। তো সেখানে একজন ভাই শব্দটা দেখে বলে উঠলো -তুরস্কেও শাহবাগ?

প্রশ্নটা দেখে একটু মুচকি হাসি এলো। তবে হাসি আসলেও কিন্তু তিনি বাস্তব প্রশ্নটাই করেছেন। তুরস্কেও কি শাহবাগ আছে? তো আসল কথা হলো, না! আক্ষরিক অর্থে তুরস্কে কোনো শাহবাগ নেই। কিন্তু শাহবাগী আছে।

এখন মনে হতে পারে যে, শাহবাগ না থাকলে শাহবাগী থাকবে কীভাবে! হ্যাঁ, এটিই মূল কথা। আসলে শাহবাগ কেবলই কোনো একটা জায়গার নাম নয়। শাহবাগ একটা দর্শন। শাহবাগ একটা আদর্শ। মানুষ পৃথিবীর সব দেশের বামপন্থী আর ইসলাম বিদ্বেষী গোষ্ঠীকে শাহবাগী বলে। এটা ইসলাম বিদ্বেষের একটা প্রতিচ্ছবি। এটাকে কেউ কেউ একটা গালি হিসেবেও ব্যবহার করেন।

মূলত যারা মরণ কামড় দিয়ে আল্লাহর দীনকে নস্যাৎ করার উদগ্র বাসনা পোষণ করেন, সেজন্য সর্বস্ব বিলিয়ে কাজ করেন, এটা এখন তাদের একটা উপাধি।

বাংলাদেশে ২০১৩ সালে শাহবাগে ঠিক এটাই হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ-যুদ্ধপরাধ ও স্বাধীনতার চেতনার নামে ইসলামকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। ইসলামের নিদর্শন, ইসলামি তাহজিব তমুদ্দুনকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে প্রতিহিংসা বশবর্তী হয়ে নিরপরাধে খুন করা হয়েছে। আল্লাহ ও রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভীষণ নোংরা ভাষায় গালাগালি ও আক্রমণ করা হয়েছে।

এই যে এহেন কাজকর্ম, এটি কি শুধুই বাংলাদেশেই হয়? নাহ। সারাবিশ্বেই হয়। আর সারাবিশ্বে এই আইডিওলজির যে-সমস্ত ব্যক্তিবর্গ ও সংগঠন সংস্থা আছে, তাদের সকলকেই শাহবাগী বলে। সে হিসেবে শাহবাগ তুরস্কের পাশাপাশি আফ গান পাকিস্তান ইন্ডিয়া মালয়েশিয়া তিউনিসিয়া ইন্দোনেশিয়া-সহ সারাবিশ্বেই আছে। কিন্তু আক্ষরিক অর্থে স্থানটা শুধু বাংলাদেশেই আছে।

পঠিত : ২১১ বার

মন্তব্য: ০