Alapon

উপেক্ষার আক্ষেপ!




মানুষের জীবনের সবচেয়ে স্পষ্ট সত্য হচ্ছে মৃত্যু। এই মৃত্যুই মূলত মানুষের আসল ঠিকানা। পরপারই মানুষের জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্য। অথচ এই মানুষেরাই নাকি সত্য খোঁজে। সত্য খুঁজতে খুঁজতে নাকি এই মানুষেরাই হয়রান আর হয়রান হয়ে যায়। অথচ মৃত্যুর চেয়ে স্পষ্ট সত্য, এর চেয়ে প্রভাবশালী সত্য আর কী হতে পারে?

কেউ যদি এই মৃত্যুর দিকে তাকায়, কেউ যদি তার এই জীবনের দিকে, জীবনের পরিণতির দিকে নজর দেয়, তাহলে তার জন্য পৃথিবীর জীবন নিয়ে হইচই করার মতো আর কী থাকতে পারে?তাকে মানুষের মতো মানুষ বানাতে, মহৎপ্রাণ সৃষ্টি হিসেবে গড়ে তুলতে এরচেয়ে বড়ো উপকরণ ও উপলক্ষ আর কী হতে পারে?

কিন্তু না, মানুষ বড়োই বেপরোয়া। সে এমন ভান করবে যে, মনে হবে বুঝি তারচেয়ে বড়ো সত্য-সাধক আর কেউ নেই। অথচ সে তার অনিবার্য পরিণতি জেনেও, পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মম সত্যের সাক্ষী হবার পরেও তাকে খুব খুব নির্দয়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে যায়। ভীষণ তুচ্ছভাবে এড়িয়ে যায়। যেন সে মৃত্যু নামক সত্যের শিকার কখনোই হবে না।

সে ভুলে যায়, সুন্দর মৃত্যুই মানুষকে মহৎ বানায়। কিন্তু তার কাজকর্ম, তার স্বভাব-প্রকৃতি দেখে মনে হয় যেন সে মহৎ হতে চায় না। মিথ্যুক, হীন ও কাপুরষ হতে চায়। এই জন্যই যেন তার সব আয়োজন।

সে জীবনের এই সত্য জেনেও, তার জীবনের চূড়ান্ত পরিণতির কথা বুঝেও অন্যকে বঞ্চিত করে যায়। অন্যের অধিকার হরণ করে যায়। অন্যকে কষ্ট দিয়ে যায়। ধোকা দিয়ে যায়। প্রতারণার পাহাড় তৈরি করে যায়। ভোগ-বিলাসের বড়ো বড়ো ভবন তৈরি করে যায়। কেবলই নিজের সুখের কথা ভেবে অন্যের সুখ কেড়ে নিয়ে যায়।

অথচ সে যদি তার মৃত্যুকে সুন্দর করার জন্য চেষ্টা করতো, মরণের পরও সহস্র বছর ধরে সম্মানের সাথে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে চাইতো, মহৎ এক জীবনের অধিকারী হতে চাইতো; তাহলে খুব সহজেই সে তা বাস্তবায়ন করতে পারতো। আবার এভাবে যদি সবাই সবার মৃত্যুটাকে সুন্দর করার কাজ করতো, মৃত্যুর পরও পৃথিবীতে অন্ততকাল ধরে সম্মানের সাথে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে চাইতো; তাহলে আমাদের এই ধরণীটাই বদলে যেত। মানুষ দুনিয়ায় থাকতেই ছোটোখাটো একটা জান্নাতের সংশ্রব পেয়ে যেত। অথচ মানুষগুলো যেন কেমন! তারা মৃত্যুর মতো এই অনিবার্য সত্যটাকেও কীভাবে যেন ভীষণ নির্দয়ভাবে উপক্ষা করেই তৃপ্তি পায়। অথচ এই উপেক্ষার আক্ষেপ তাকে অন্ততকাল ধরে পোড়াবে। এমন একটা ক্ষণেই পোড়াবে, যখন তার আক্ষেপ কোনো কাজেই আসবে না। ঠিক পবিত্র কুরআনুল কারিমই আমাদেরকে এই তিক্ত সত্য বিষয়টা জানাচ্ছে এভাবেই যে—

জালিমরা সেদিন নিজেদের হাত কামড়াতে থাকবে.....(সূরা ফুরকান-২৫)

.

• এভাবে কুরআন আমাদেরকে আরো জানাচ্ছে—
সেদিন তারা তাতে আর্তনাদ করে বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে মুক্তি দান করুন; আমরা আগে যে কাজ করতাম তা ছেড়ে ভালো কাজ করবো। ( সূরা ফাতির : ৩৭)

.

• (হায়!) আমরা যদি শুনতাম এবং বুদ্ধিকে কাজে লাগাতাম....(সূরা মুলক-১০)

.

• হায়! আমি যদি আমার এই জীবনের জন্য (মৃত্যু পরবর্তী এই জীবন) অগ্রিম কিছু পাঠাতাম! (সূরা ফাজর : ২৪)

চলুন, যে সময় আক্ষেপ করে কোনো ফায়দা হবে না, সে সময়ের আগেই নিজের জীবন নিয়ে সচেতন হই। নিজের চূড়ান্ত পরিণতির ব্যাপারে সতর্ক হই। কারণ মৃত্যুকে নিয়ে আজকে যে উপেক্ষা আপনি করে যাচ্ছেন, এ উপেক্ষার আক্ষেপ সেদিন কোনো কাজেই আসবে না। হ্যাঁ, আসলেই আসবে না!

~রেদওয়ান রাওয়াহা
তাং : ২২.০৫.২৩ ইং

পঠিত : ২৫৫ বার

মন্তব্য: ০