Alapon

ব্যক্তিজীবনে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হউক আগে


সচেতন মুসলিম সমাজের অধিকাংশ মানুষকে দেখা যায় মুসলিম জাতির রাজনৈতিক পরিবর্তন তথা ইসলামী শাসন আনয়ন নিয়ে যারপরনাই চিন্তিত; কিন্তু একই মানুষদের অধিকাংশই তাদের ব্যক্তিগত অবস্থার পরিবর্তন নিয়ে অনেক বেশি উদাসীন। অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন,
“আল্লাহ কোনো জাতির জাতীয় অবস্থা ততক্ষণ পরিবর্তন করবেন না যতক্ষণ তারা তাদের নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন না করে” (সূরা রা’দ, আয়াত ১১)

এই পৃথিবীতে মানুষের জীবন ধারণের জন্য যা-কিছু প্রয়োজন তা করার জন্য কোনো না কোনো মানুষ সব সময়ই থাকবে। এটা সৃষ্টিজগতে মহান আল্লাহর অনিবার্য অভিপ্রায়। ভাবুন, ময়লা ছাপ করার কাজ যারা করে তারা আর কিছু করে জীবন ধারণ করতে পারে না? অবশ্যই পারে। তাহলে মানুষের মলমুত্র পরিস্কার করার মতো নোংরা কাজ কেন করতে হবে? এটা আসলে যতটা না ঐ ব্যক্তির জীবনধারণের জন্য প্রয়োজন তার চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন মানবজাতির জীবনধারা সচল রাখার জন্য। মেথররা অন্য অনেক কিছু করেই জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে, কিন্তু মানবজাতি তাদেরকে ছাড়া চলতে পারবে না। তাই এ কাজ করার মানুষ চির দিনই থাকবে। এমনকি দেখবেন তারা বংশানুক্রমে এ পেশায় নিয়োজিত থাকা নিয়ে গর্বও বোধ করে।

এমন একটি নিম্ন মানের কাজের জন্যও যদি চিরকাল মানুষ পাওয়া যায়, তবে রাজনীতির মতো সম্মানজনক কাজেও মানুষ পাওয়া যাবে। কিছু মানুষ ঠিকই থাকবে দেশ-সমাজ-জাতি-উম্মাহ হবে যাদের মুল ভাবনা। এটাই হবে তাদের চারিত্রিক প্রকৃতি। তাদেরকে যেখানেই নিয়ে ছেড়ে দেন দেখবেন তারা কোনো না কোনোভাবে রাজনীতিমুখী কাজেই ব্যস্ত। অতএব, কে এই জাতিকে উদ্ধার করবে তা নিয়ে ভাবার কোনো প্রয়োজন নাই।

যেটা ভাবা প্রয়োজন তা হলো, আমাদেরকে কি বাঁচানোর কোনো প্রয়োজন আছে কি না। আমরা কি আদৌ বাঁচার উপযুক্ত কি না। এই পৃথিবীতে আমাদের বেঁচে লাভটা কী? এই পৃথিবী আমাদের থেকে কী পাচ্ছে?

আমরা যদি সত্যিই বাঁচার উপযুক্ত হই আল্লাহ কাউকে না কাউকে দিয়ে আমাদেরকে বাঁচাবেন। আর সেই উপযুক্ততার মানদণ্ড হলো আমাদের ব্যক্তিগত জীবন। আমরা যদি আমাদের ব্যক্তিগত জীবন সংশোধন না করি তাহলে কেউ আমাদের বাঁচাতে আসলেও তারা বাঁচাতে পারবে না। এগিয়ে আসা সেই মানুষদেরকে আল্লাহ তাদের কর্মের প্রতিদান ঠিকই দিয়ে দিবেন, কিন্তু জাতি হিসেবে আমাদের মুক্তি হবে না।

সব মানুষ সব কাজের নয়। সবার জন্যও সব কাজ নয়। আপনি রাজনৈতিক পরিবর্তনের কাজে নিয়োজিত থাকুন কিংবা না থাকুন আপনার ব্যক্তিগত জীবন সংশোধনের দিকে নজর দিন। আপনার বিশ্বাসকে বিশুদ্ধ করুন; শিরক-কুফর-বিদ'আত থেকে বাচুন; সালাত সিয়াম ঠিক করুন। আমল আখলাক, আচার-ব্যবহার সুন্দর করুন। ঠিকমতো যাকাত আদায় করুন, বেশি বেশি দান সাদাকাহ করুন।

আপনার অধিনস্ত কাজের লোক-কর্মচারী, আত্মীয়-সজন, পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে উত্তম ব্যবহার করুন, তাদের হক্ক নষ্ট করা থেকে বিরত থাকুন; গরীব-দুস্থ অসহায় মানুষের সেবায় এগিয়ে আসুন। রোগীর সেবা করুন, অভাবীর খবর নিন, অন্যহীনকে অন্য দান করুন, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দিন। সমাজে ইতিবাচক ভুমিকা রাখুন।

এগুলোই হলো উম্মাহ্‌র মুক্তির প্রথম সোপান; উম্মাহ্‌র মুক্তির সংগ্রামে এগুলোই আপনার মৌলিক অবদান। এসব ব্যাপারে যদি আপনি উদাসীন হয়ে থাকেন তাহলে নিশ্চিত জেনে রাখবেন, উম্মাহ্‌র এই করুণ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথে আপনিই অন্তরায়, আপনিই।

পঠিত : ৭৭৯ বার

মন্তব্য: ০