Alapon

শয়তানের অঙ্গীকার



ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে এমন- A friend in need is a friend indeed.(বিপদের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু।) বিপদে যে পাশে থাকে,তাকেই আমরা প্রকৃত বন্ধু বলি। আর পাশে থাকে না যে, সে হলো-শত্রু। আমাদের বন্ধু যেমন থাকে, তেমন শত্রুও থাকে। শত্রুর মধ্যে অন্যতম হলো ‘শয়তান’(ইবলিস)। শয়তানকে আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রকাশ্য শত্রু বলে উল্লেখ করেন। (সূরা বাকারাহ, আয়াত: ১৬৮,২০৮)

আল্লাহ তাআলা আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করার পর তাকে সিজদাহ করার নির্দেশ দিছিলেন। কিন্তু সবাই সিজদাহ করলেও শয়তান অহংকার প্রদর্শন পূর্বক আল্লাহর হুকুম পালন থেকে বিরত থাকে। (সূরা বাকারাহ,৩৪) ফলে আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাত থেকে বহিষ্কার করে দিলেন।

আদমকে সিজদা করার হুকুম পালন না করার কারণে জান্নাত থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর শয়তান তার আসল চরিত্র প্রকাশ করে। সে ক্ষেপে যায় আদমের উপর। দৃঢ় অঙ্গীকার করে, আদমসহ তার সন্তানদের ক্ষতি করার এবং আদমের কারণে যে জান্নাত থেকে তাকে বের হতে হলো সে জান্নাতের পথ থেকে বনী আদমকে দূরে রাখার।

শয়তানের অঙ্গীকারটা ছিল এমন; সে বললো-

“আমি বানী আদমের সামনের দিক থেকে আসবো এবং পিছনের দিক থেকে আসবো।ডান দিক থেকে আসবো এবং বাম দিক থেকেও আসবো।”(সূরা আরাফ, আয়াত:১৭)

অর্থাৎ পরকাল সম্পর্কে তাদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে দেবো এবং দুনিয়ার আসক্তির প্রতি তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করবো। দ্বীনি বিষয়ের ব্যাপারে তাদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে দিবো এবং পাপ ও অবাধ্যতামূলক কার্যকলাপকে তাদের জন্যে যোগ্য ও গ্রহণীয় বানিয়ে দেবো।

শয়তানের মূল কথা হলো, জান্নাত থেকে যেহেতু তাকে বেরিয়ে যেতে হলো এবং স্থায়ীভাবে তা তার জন্য নিষিদ্ধ হয়ে যায়। সুতরাং তার সমস্ত শক্তি দিয়ে সে এপথে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে বসে থাকবে এবং মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। এজন্য সে কখনো বন্ধু, কখনো হিতাকাঙ্ক্ষী , কখনো লোভ আবার কখনো ভয়, কখনো সন্দেহ ইত্যাদি তৈরির মাধ্যমে সে তার মিশন সফল করার চেষ্টায় রত থাকবে।

এর একটা নমুনা পাওয়া যায় পবিত্র কুরআনুল কারিমে।জান্নাতে বসবাসরত হযরত আদম আলাইহিস সালাম ও হাওয়া আলাইহিস সালামকে যখন শয়তান জান্নাত থেকে বের করার মনস্থ করেলেন, তখন তিনি তাদের সামনে কল্যাণকারীর ভুমিকায় অবতীর্ণ হন। শপথ করে বললেন-

“নিশ্চয় আমি তোমাদের উভয়ের জন্য কল্যাণকামীদের একজন”। (সূরা আরাফ, আয়াত-২১)

শয়তান বুঝাতে চায়, আমি তোমাদের ভালো দেখতে না চাইলে এভাবে বলার দরকার ছিল না! তোমাদের ভালো চায় বলেই এভাবে বলছি। ফলে তাকে বিশ্বাস করে আদম এবং হাওয়া আলাইহিস সালাম আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি ধাবিত হলেন।

এটা হলো শয়তানের কৌশল। সে তার কৌশলের সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটিয়ে মানবজাতিকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকবে। কারণ, তার লক্ষ্যই হলো, মানুষকে পথভ্রষ্ট করা।সে মানবজাতিকে পথভ্রষ্ট করলেও কিয়ামতের দিন সে তা অস্বীকার করবে। যাবতীয় বিষয়ের ফয়সালা হয়ে যাওয়ার পর শয়তান বলবে,

“নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে ওয়াদা দিছিলেন সত্য ওয়াদা, তোমাদের উপর আমার কোন আধিপত্য ছিল না, তবে আমিও তোমাদেরকে ওয়াদা দিছিলাম, এখন আমি তা ভঙ্গ করলাম! তোমাদেরকে দাওয়াত দিয়েছি, আর তোমরা আমার দাওয়াতে সাড়া দিয়েছো। সুতরাং তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করো না, বরং নিজদেরকেই ভৎর্সনা কর”। (সূরা ইবরাহীম, আয়াত:২২)

অতএব, শয়তানের প্ররোচনার ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য বাহ্যিক শক্তি যেমন রয়েছে, তেমন আভ্যন্তরীণ শক্তিও আমাদের আশপাশে কম নয়। বরং সাম্প্রতিক সময়ে আভ্যন্তরীণ শত্রু বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্নভাবে তারা মানুষের সামনে আসার চেষ্টা করছে।

তাই, ইসলামের প্রতিটি বিধি-বিধান পালনে সর্বাধিক সচেতনতা প্রয়োজন। সঠিক আকিদা পোষণ করতে হবে। ইমান- আমল সঠিক না হলে সেগুলো করেও কোন উপকারে আসবে না।কুরআন, হাদিস গভীরভাবে অধ্যয়ন করতে হবে। কুরআন, হাদিসের উপর ভিত্তি করে রচিত এবং কুরআন, হাদিস বুঝতে সহায়ক এমন বই পুস্তক অধ্যয়ন করতে হবে।পাশাপাশি সত্যিকারের আলেম-উলামাদের অনুসরণ করতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের ইমান-আকিদাহকে হেফাজত করুক।

পঠিত : ৮৮৭ বার

মন্তব্য: ০