Alapon

বাংলাদেশে 'সাংবাদিকতার' মৃত্যু হয়েছে



'সাংবাদিকতা’ করা এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে কঠিন। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে। ‘সাংবাদিকতা’ শব্দটিকে বন্ধনীর ভেতরে রাখার কারণ এখানে সাংবাদিকতা বলতে প্রকৃত সাংবাদিকতাকে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ যে সাংবাদিকতার মানে দল-মত-আদর্শ ও ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে ফ্যাক্ট অনুসন্ধান করে নির্মোহভাবে সঠিক তথ্য বের করে আনার চেষ্টা। যে সাংবাদিকতায় প্রশংসার চেয়ে প্রশ্ন বেশি। যে সাংবাদিকতায় প্রশংসা থাকলেও সেখানে যৌক্তিক সমালোচনা, প্রশ্ন ও সংশয় প্রকাশেরও সাহস থাকে। সেই সাংবাদিকতা করা এখন কেন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠিন।

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নতুন নয়। শেখ মুজিবের আমলও সাংবাদিকদের জন্য ছিল নিষ্ঠুর শাসনামল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সারাদেশে ব্যাংক ডাকাতি করে অর্থ লুট করে ছাত্রলীগের একাংশ। সেই টাকা জমা দেওয়া হয় প্রবাসী সরকারের কাছে। এই টাকার হরিলুট করে তাজউদ্দিন-ক্যাপ্টেন মনসুর গং। স্বাধীনতার পরে ১৯৭৩ সালে সেই টাকার হিসাব চায় মুক্তিযোদ্ধারা। এই নিয়ে ইত্তেফাক পত্রিকা অনুসন্ধানী রিপোর্ট ছাপে। তার প্রেক্ষিতে ততকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ইত্তেফাক পত্রিকার সাংবাদিকের হাত ভেঙ্গে দেয়। ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন শেখ মুজিব চারটি পত্রিকা বাদে বাকী সব মিডিয়া বন্ধ করে দেয়।

শেখ হাসিনার আমলেও একই ধারাবাহিকতা চলছে। গত ১৪ জুন রাতে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় গোলাম রব্বানি নাদিম নামে এক সাংবাদিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাকে কারা হত্যা করেছেন? যথারীতি আওয়ামীলীগ। রাষ্ট্রের সাধারণ ও নিরীহ মানুষ কাউকে হত্যা করতে পারে না। হত্যা করতে হিম্মত লাগে। সাহস লাগে। হত্যা করার পরে পার পেয়ে যাওয়ার মতো রাজনৈতিক, সামাজিকও আর্থিক সক্ষমতা লাগে। যে সক্ষমতার কারণেই প্রায় এক যুগেও সাগর-রুনির হত্যাকারীদের ধরা সম্ভব হয়নি। এমনকি কারা তাদের ‍খুন করলো সেটিও জানা সম্ভব হয়নি। অথবা জানা সম্ভব হলেও নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

স্মরণ করা যেতে পারে, ২০১৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে গুলিতে নিহত হন দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুল। শোনা যায়, শিমুল দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় অস্ত্র মহড়ার ছবি তুলতে গেলে পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা হালিমুল হক মিরুর অস্ত্রহাতে ছবি তুলছিলেন, এতে পৌর মেয়র মিরু রাগে সাংবাদিক শিমুলকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। যেভাবেই হোক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ফলেই এ ঘটনা, এটিই সত্য।

আবদুল হাকিম শিমুলের খুনিরা ছাড়া পেয়ে গেছে। তাদের প্রধান হোতা হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছিলেন শাহজাদপুরের তখনকার মেয়র হালিমুল হক মিরু। তিনিও কিছুদিন কারাভোগ করে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। সেই খুনের তালিকায় এবার যুক্ত হলো গোলাম রব্বানি নাদিমের নাম। গত ১৪ জুন রাত সোয়া ১০টার দিকে একদল সন্ত্রাসীর এলোপাতাড়ি মারধরে তিনি নিহত হন। তিনি অনলাইন পোর্টাল বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জামালপুর জেলা প্রতিনিধি এবং একই সঙ্গে একাত্তর টিভির বকশীগঞ্জ উপজেলা সংবাদ সংগ্রাহক হিসেবে কাজ করতেন।

সংবাদ মাধ্যমের শুরু থেকেই পুরো পৃথিবীতে সাংবাদিকতাকে একটা নিরাপদ মাধ্যম হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। বলা হয়, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ সংবাদপত্র হল সমাজের দর্পণ। আর সাংবাদিকরা দেশ ও জাতির বিবেক। গত এক যুগে গণমাধ্যম এখন আর প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা, অনলাইন পত্রিকা ও অনলাইন রেডিও, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, ব্লগসহ লেখার নানা মাধ্যম বিস্তৃত হয়েছে। বেড়েছে যেমন তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম তেমনি বেড়েছে কর্মী সংখ্যা। আর ততোধিক বেড়েছে এই পেশার সাথে যুক্তদের ঝুঁকির মাত্রা।

আধুনিক প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার সাথে পাল্লা দিয়ে গণমাধ্যম তার দায়িত্ব পালনে কার্পণ্য করছে না বটে! কিন্তু ঝুঁকি মোকাবেলা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছে এই মাধ্যমের কর্মীরা। তাদের জীবন বিপন্ন করে পেশার প্রতি দায়বদ্ধতা টিকিয়ে রাখাই এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আমাদের দেশে, রাজনৈতিক-সামাজিক, দুর্নীতি-অনিয়ম প্রকাশ হলেই হলো। আক্রোশের শিকার হতে হচ্ছে গণমাধ্যম কর্মীদের। তাদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ছে সরাসরি প্রতিপক্ষ বিবেচনায়। যা একটি সভ্য সমাজে কারো কাম্য হতে পারে না। এক্ষেত্রে সরকার ও সরকারি বাহিনীও অনেকটা গা ছাড়া ভাব তো দেখাই। আসকের রিপোর্টে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারাই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যে কারণে সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধুমাত্র শারীরিক নির্যাতন করেই থেমে থাকছে না। এই গনমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার জন্য করা হচ্ছে নতুন নতুন আইন। যেসব আইনে আছে ব্যাপক ফাঁকফোঁকর। যেগুলোর যথাযথ ব্যাখ্যা অতিব জরুরী। কিন্তু যখন যে সরকারই আসে, সেই মিষ্টি মিষ্টি কথার বুলি শুনিয়ে আইনের অনেক ফাঁকফোঁকর রেখেই সাংবাদিকদের মতামত না নিয়েই এসব আইন পাশ করিয়ে নেয়। পরবর্তীতে এসব আইনই সংবাদকর্মীদের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়ায়।

শেখ হাসিনার শাসনামলের ১ম ধাপে সাংবাদিক মৃত্যুর ঘটনা ২১-এ গিয়ে ঠেকেছে। আর ২য় মেয়াদে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ এ । এ তথ্যটি পাওয়া যায় পরিবর্তন পত্রিকার ২৯ আগস্ট ২০১৮'র একটি রিপোর্ট থেকে। আসকের তথ্যানুসারে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে খুন হয়েছেন ৯ জন সাংবাদিক। বর্তমান আওয়ামী শাসনামলে মোট ৬৩ জন সাংবাদিক খুন হন।

আর যদি সাংবাদিক নির্যাতন তথা শুধু আক্রমণ বা আহতের হিসাব দেই তাহলে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আসকের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সে সংখ্যাটা সাতশরও অধিক ৭০৫ জন। আর এসব আহত, হত্যা, নির্যাতন মিলিয়ে মোট হয়রানির শিকার ১২২৬ জন।

১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ রাজধানীর মগবাজারে দৈনিক সংগ্রামের প্রধান কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নামের একটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায়। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নাম হলেও হামলাকারীরা ছিলো স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। তারা পত্রিকার কম্পিউটারসহ প্রকাশনার সমস্ত যন্ত্রাংশ অচল করে দেয়। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

২০১৩ সালে, দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, চ্যানেল ওয়ান, সিএসবি, ইসলামিক টিভির পর একসঙ্গে ৩৫টি অনলাইন পোর্টাল বন্ধ করে দেয় নির্বাহী আদেশে। এসব সংবাদ মাধ্যমের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও আনা হয়নি। যার ফলে হাজার হাজার সাংবাদিক বেকার হয়ে পড়েন। এছাড়াও ইটিভির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বহুদিন জেল খেটেছেন। ৪ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখের রাতে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত একটি সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫০ মিনিটের একটি বক্তব্য ইটিভিতে সরাসরি সম্প্রচারের এক দিন পর ৬ জানুয়ারি ভোরে আবদুস সালামকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাঁকে পর্নোগ্রাফি আইনে দায়ের করা ক্যান্টনমেন্ট থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তারপর ২৫ নভেম্বর ২০১৫ এ অর্থ ঋণ আদালতের ১২ ধারা মোতাবেক প্রতিষ্ঠানটির দখল নেয় আওয়ামী বিজনেস মেগনেট এস আলম ও তার গ্রুপ। এরপর নতুন মালিকানায় চ্যানেলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিযুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী এবং আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান (গোলাপ)। তখন থেকেই এই চ্যানেলের সৎ ও যোগ্য সাংবাদিকরা বিতাড়িত। একুশের চোখ অনুষ্ঠানের এক সাংবাদিক ইলিয়াস সড়ক আন্দোলনের সময় এক ভিডিও বার্তায় তুলে ধরেন ইনুরা কিভাবে অযাচিত হস্তক্ষেপ করছে গণমাধ্যমের উপর। তাও নির্লজ্জভাবে বলা হচ্ছে গণমাধ্যম স্বাধীন।

এ মহাজোটের আমলে সবচেয়ে বেশি আলোচিত খবর ছিলো সাগর-রুনি হত্যাকান্ড। বিবিসি বাংলার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব দাবি করছে, তাদের তদন্তে কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, আদালতের কাছে ১০০ বার সময় নেয়ার পরও র‍্যাব তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। সাগর সরওয়ার এবং মেহেরুন রুনি এই সাংবাদিক দম্পতিকে ঢাকায় পশ্চিম রাজাবাজার এলাকায় তাদের বাসায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ২০১২ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি। ঘটনার সময় ঐ বাসায় থাকা তাদের একমাত্র শিশু সন্তান মাহি সরওয়ার মেঘ বেঁচে যায়। হত্যাকাণ্ডের পর পাঁচ বছরে তদন্তে অগ্রগতি নেই। এমন পরিস্থিতিতে সান্ত্বনা পাওয়ার পথও খুঁজে পাচ্ছে না সাংবাদিক দম্পতির বিপর্যস্ত পরিবার দু’টো।

এছাড়া ঢাকার মগবাজারে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে আওয়ামী সরকারের প্রথম শিকার হন এনটিভির ভিডিও এডিটর আতিকুল ইসলাম আতিক। ২১ শে ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে রাজধানীর রামপুরা থেকে প্রবীণ আলোকচিত্র সাংবাদিক আফতাব আহমেদের হাত- পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই বাসায় তিনি একাই থাকতেন। ২০০৬ সালে একুশে পদক পাওয়া আফতাব দীর্ঘদিন ইত্তেফাকের জ্যেষ্ঠ আলোকচিত্রী হিসাবে কাজ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। আফতাব আহমেদের জন্ম ১৯৩৫ সালে, তার গ্রামের বাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়ায়। আলোকচিত্র সাংবাদিক হিসাবে তিনি ইত্তেফাকে যোগ দেন ১৯৬২ সালে। পশ্চিম রামপুরার ৬৩ নম্বর হোল্ডিংয়ে চারতলা ওই বাড়ির তৃতীয় তলায় থাকতেন আফতাব।

২০১৮ সালে হত্যার শিকার হন সাংবাদিক সুবর্ণা নদী। ২৮ আগস্ট ২০১৮ তারিখে রাত ১০টার দিকে তিনি বাড়ির ফটকে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে করে তিন থেকে চারজনের একদল দুর্বৃত্ত সেখানে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। সাংবাদিক সুবর্ণা নদী বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আনন্দ টিভির পাবনা জেলা প্রতিনিধি পদে কর্মরত ছিলেন। শহরের রাধানগর মহল্লায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রতিবেশী ও স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

এছাড়া নির্যাতন তো আছেই। প্রথম আলোর ০২ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, লালমনিরহাটের এক সাংবাদিক সায়েম সাবু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ২৩টি মামলা করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন ক্ষুব্ধ হওয়ার কারণেই পরিবারটির বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক-এ ২০১০ সালের ৩ জুন ‘গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর নৈরাজ্য!’ শিরোনামে একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রী, তাঁর ছেলে ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল। প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওই মাসেই সায়েম, তাঁর তিন ভাই, বোন ও বোন জামাইসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা হয়।

এরপর গত আড়াই বছরে সায়েমের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টাকা ছিনতাই, ধানের চারা উপড়ে ফেলা, সার ও বীজ ছিনতাই, গাড়িতে আগুন, হামলা-ভাঙচুর, জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৩টি মামলা করা হয়। মামলায় লড়তে লড়তে পরিবারটি পর্যুদস্ত।

২৪ শে নভেম্বর ২০১৬ তারিখে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান জামিনে মুক্তি পান৷ রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং ধর্মীয় অস্থিরতা সৃষ্টিতে উস্কানির নামে বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগে তিন বছরেরও বেশি সময় তিনি কারাবন্দি ছিলেন৷ ৬৩ বছর বয়সি মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে গাড়ি ভাংচুর থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর পুত্রকে হত্যার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ করা হয় ৷ ২০১৩ সালের এপ্রিলে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ব্যাপক ধরপাকড় শুরুর সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ রহমানের আইনজীবী জয়নাল আবেদিন মেসবাহ বলেন, ‘‘তাঁর বিরুদ্ধে করা ৭৮টি মামলার শেষেরটিতে জামিন পাওয়ায় আজ তাঁকে মুক্তি দেয়া হয়েছে৷”

২২ জুলাই ২০১৮ তে তার ওপর হামলাও করে ছাত্রলীগ। প্রধানমন্ত্রীর ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক সম্পর্কে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলায় জামিন পেতে কুষ্টিয়া আদালতে গিয়েছিলেন তিনি। জামিন মঞ্জুর করার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা আগে থেকে আদালত চত্বরে অবস্থান নেন। জামিন মঞ্জুরের পর তাঁরা মাহমুদুর রহমানকে আদালতের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। একপর্যায়ে সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি নিজের গাড়িতে ওঠার চেষ্টা করেন। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা তাঁকে লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এতে একটি ইটের টুকরা লেগে রক্তাক্ত হন মাহমুদুর রহমান। এছাড়া যায়াযায়দিনের সাবেক সম্পাদক ৮১ বছর বয়সি ব্রিটিশ নাগরিক, খালেদা জিয়ার ‘স্পিচরাইটার’ শফিক রেহমানও পাঁচমাস কারাভোগ করেন এই সরকারের আমলে।

সর্বশেষ কোটা ও সড়ক আন্দোলনে সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ ও ছাত্রলীগের দুমুখী নির্যাতনের শিকার হন সাংবাদিকরা। এতে অন্তত ২০ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হন। এ সময় সরকারের সবচেয়ে বড় শিকার “দৃক গ্যালারীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইন্সটিটিউট” এর চেয়ারম্যান আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ডিবির একটি টীম শহীদুল আলমকে চলমান ছাত্র বিক্ষোভের বিষয়ে তার কিছু ফেসবুক পোস্ট নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে । তারপর মামলা হয় তথ্য-প্রযুক্তি আইনে। সাত দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর হয়। । প্রায় সাড়ে তিন মাস কারাভোগের পর গত ২০ নভেম্বর ২০১৮ এ কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। এ গেল হত্যা নির্যাতনের কথা। এবার দেখি, আইনের জটিলতা।

বিশ্ব দরবারও যে বাংলাদেশের গণমাধ্যম নিয়ে চিন্তিত তা ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স -২০১৮ সূচক দেখলেই বোঝা যায়। এ সূচকে পৃথিবীর ১৮০ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের ১৪৬ তম। অথচ ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন এই একই প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন অনুযায়ীই বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২১তম। ৯ বছরে ২৫ ধাপ অবনতি ঘটে এ বছর ১৪৬তম হয়েছে । সবচেয়ে বড় বিপর্যয়টি ঘটে ২০১৩ সালে। এ বছর ১৫ ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হয় ১৪৪ তম। যেখানে ২০১২ সালে ছিলো ১২৯ তম। কারন এ বছরেই বন্ধ করে দেয়া হয় দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভির পর একসঙ্গে ৩৫টি অনলাইন পোর্টাল।

শুরুতেই বলেছি যে প্রকৃত সাংবাদিকতা করা এখন যেকোনো সময়ের চেয় কঠিন। স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের আমলেও সাংবাদিকতা এত কঠিন ছিল কি না সন্দেহ। এখন সরকারি অফিস থেকে তথ্য পাওয়া এখন খুবই কঠিন। অথচ দেশে তথ্য অধিকার আইন আছে। এরকম অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায় যে, তথ্য অধিকার আইন সাংবাদিকের তথ্য পাওয়ার পথ আরও কঠিন করে তুলেছে। কেননা, এখন সাংবাদিকরা ছোটখাটো কোনো তথ্যের জন্য গেলেও সরকারি কর্মকর্তারা নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে বলেন এবং দিনের পর দিন ঘুরাতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা জানিয়ে দেন যে তথ্যটি সন্নিবেশিত নেই অথবা কোনো উত্তরও দেন না। এর বিরুদ্ধে আপিল এবং তথ্য কমিশনে যাওয়ার জন্য যে ধৈর্য ও সময় লাগে, সেটি অনেকের পক্ষেই ব্যয় করা সম্ভব হয় না। অর্থাৎ আইনি কাঠামোই সাংবাদিকতাকে কঠিন থেকে কঠিনতর করে তুলেছে। কোনো ঘটনার ছবি তুলতে গেলে সেখানে পুলিশ বা সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এসে বাধা দিচ্ছেন, এরকম অভিযোগ নিয়মিতই শোনা যায়।

অবশ্য সাংবাদিকতার প্রধান শত্রু এখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এ আইনের এমনই সব ধারা রয়েছে যেগুলো দিয়ে যে কোনো একটি টেলিভিশন বা পত্রিকা কোনো একটি সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার করলেই মামলা করার সুযোগ রয়েছে। অবশ্য একটু ঘুরিয়ে সুযোগটা রাখা হয়েছে। ছাপা পত্রিকা বা টেলিভিশনের খবরের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে দেওয়া যায় না, কিন্তু ওই খবরটিই যদি কেউ ফেসবুকে শেয়ার করেন বা ওই টেলিভিশন বা পত্রিকার অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, তাহলে ডিজিটাল আইনে মামলা করা যায়। অথচ সংবাদটি ভুল হলে তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় প্রতিবাদ পাঠানো, প্রেস কাউন্সিলে অভিযাগ দায়ের এমনকি মানহানির মামলা করারও সুযোগ আছে। কিন্তু আওয়ামীলীগ এখন আর ওইসব ভদ্রোচিত পথে যেতে নারাজ।

তারা চান তাৎক্ষণিক শাস্তি এবং এমন একটি ভয়ের পরিবেশ জারি রাখতে যাতে কেউ ক্ষমতাবানদের নিয়ে কোনো ধরনের সমালোচনামূলক লেখা, অপরাধের অনুসন্ধান এমনকি কার্টুনও ছাপতে সাহস না করে। কারণ ডিজিটাল আইনে মামলা দিলে তাতে সাংবাদিকদের হয়রানি ও নাজেহাল করা অনেক সহজ। এর শাস্তিও কঠিন। সাধারণত এই মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে সহজে জামিনও মেলে না। এই আইনটি পাস হওয়ার পরে এ পর্যন্ত সাংবাদিকতার প্রধান শত্রু এখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এ আইনের এমনই ধারা যে কোনো একটি টেলিভিশন বা পত্রিকা কোনো একটি সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার করলো, সেই যুক্তিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা যায় না। কিন্তু ওই খবরটিই যদি কেউ ফেসবুকে শেয়ার করেন বা ওই টেলিভিশন বা পত্রিকার অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, তাহলে ডিজিটাল আইনে মামলা করা যায়।

অথচ সংবাদটি ভুল হলে তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় প্রতিবাদ পাঠোনো, প্রেস কাউন্সিলে অভিযাগ দায়ের এমনকি মানহানির মামলা করারও সুযোগ আছে। কিন্তু ক্ষমতাবানরা এখন আর ওইসব ভদ্রোচিত পথে যেতে নারাজ। তারা চান তাৎক্ষণিক শাস্তি এবং এমন একটি ভয়ের পরিবেশ জারি রাখতে যাতে কেউ ক্ষমতাবানদের নিয়ে কোনো ধরনের সমালোচনামূলক লেখা, অপরাধের অনুসন্ধান এমনকি কার্টুনও ছাপতে সাহস না করে। কারণ ডিজিটাল আইনে মামলা দিলে তাতে সাংবাদিকদের হয়রানি ও নাজেহাল করা অনেক সহজ। এর শাস্তিও কঠিন। সাধারণত এই মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে সহজে জামিনও মেলে না। ২০১৮ সালে এই আইনটি পাস হওয়ার পর ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে ৭ হাজার ১টি মামলা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা কত, সেটি জানাতে আইনমন্ত্রী পারেননি বলে ৫ জুন ২০২৩ তারিখের বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়। এসব মামলার বিরাট অংশেরই ভিকটিম সাংবাদিকরা।

আওয়ামী লীগ সরকার চায় গণমাধ্যম বা সাংবাদিকরা প্রশ্ন বাদ দিয়ে শুধু প্রশংসা করবে। কিন্তু প্রশ্ন ও সন্দেহমুক্ত প্রশংসা যে সংবাদ নয়, বরং প্রেসবিজ্ঞপ্তি—সেটি এখন সাংবাদিকদেরও বিরাট অংশ ভুলে যাচ্ছেন বা গেছেন। সাংবাদিকের কাজ যে ফ্যাক্ট অনুসন্ধান, সেই জায়গা থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় গণমাধ্যম অনেক দূরে সরে গেছে। এর পেছনে কিছু কারণও আছে।

প্রথমত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো আইনি ভয়, প্রাতিষ্ঠানিক নানাবিধ চাপ, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্ব গড়ে না ওঠা, সরকারের সঙ্গে গণমাধ্যমপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের ব্যবসাসহ নানাভাবে সংশ্লিষ্টতাহেতু অনেক বিষয়ে প্রশ্ন করার নৈতিক অধিকার না থাকা, মন্ত্রীদের সঙ্গে বিদেশ ট্যুরসহ ব্যক্তিগত নানারকম সুবিধা গ্রহণ, ক্ষমতাবানদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক আছে—সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ও স্ট্যাটাস দিয়ে সেটি বোঝানোরা মধ্য দিয়ে সামাজিকভাবে নির্ভয়ে থাকার নিশ্চয়তা; বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নির্ঝঞ্ঝাটে সেবা পাওয়ার নিশ্চয়তাও সাহসী ও নির্মোহ সাংবাদিকতার পথ সংকুচিত করেছে।

দ্বিতীয়ত, গণমাধ্যমের নীতিনির্ধারক তথা সিনিয়র পজিশনের কর্তাদের কোনো কিছুর গভীরে যাওয়ার মানসিকতা না থাকা বা গভীরে গিয়ে কোনো কিছু অনুসন্ধান করে বের করে আনার পরে সেগুলো প্রকাশ ও প্রচার করলে বিপদের সম্মুখীন হওয়ার শঙ্কাজনিত নিরুৎসাহও সাহসী সাংবাদিকতার পথ সংকুচিত করেছে। এর বাইরে বিভিন্ন বাহিনীর তরফে সরাসরি বা পরোক্ষ চাপও থাকে।

পক্ষান্তরে সাংবাদিকদের বিরাট অংশ নিজেরাই নানাবিধ অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রশ্ন করার নৈতিক অধিকার হারিয়ে ফেলেন। রিপোর্টারদের কিছু কিছু কাজের ক্ষেত্র বা বিট সম্পর্কে এমন সব কথা জনপরিসরে প্রচলিত আছে, যা শুধু ওই একটি বিটের সাংবাদিক নয়, বরং পুরো গণমাধ্যমের জন্যই অসম্মানজনক।

একটি বিটের সব সাংবাদিক অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন না। কিন্তু কিছু অংশও যদি খারাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন এবং সেগুলো প্রতিরোধে যদি কোনো সাংগঠিনক বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে এর দায় গিয়ে পুরো গণমাধ্যমেরও ওপরেই পড়ে।

এখন সাংবাদিকতার প্রধান শত্রু স্বনিয়ন্ত্রণ বা সেলফ সেন্সরশিপ। কী করলে কী হবে বা হতে পারে—সাংবাদিকরা আগেভাগেই এরকম একটি ধারণা নিয়ে একটা সুরক্ষা বলয় তৈরি করে রাখেন। যেমন টেলিভিশনের বুলেটিনে কোন সংবাদটি প্রধান শিরোনাম হবে; কার সংবাদটি কোনোভাবেই সেকেন্ড পার্টে দেয়া যাবে না; কোন কোন বিষয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন করা যাবে না বা অনুসন্ধান করা যাবে না; কোন সংবাদ সম্মেলনে কী ধরনের প্রশ্ন করতে হবে এবং সেখানে কারা উপস্থিত থাকবেন—এ সবই মোটামুটি নির্ধারিত।

কোনো অপরাধের সঙ্গে খুব প্রভাবশালী কারো যুক্ততার কথা শোনা গেলে বা অভিযোগ উঠলেও গণমাধ্যম সহজে তাদের নাম প্রকাশ করতে চায় না। গণমাধ্যমের ওপর করপোরেটর দুনিয়ার প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ কী ভয়াবহ মাত্রায় বেড়েছে, তার উদাহরণ অগুণতি। সুতরাং এই গণমাধ্যম কী করে দেশের নদী, খাল ও প্রাকৃতিক জলাভূমি দখল করে আবাসন ও কল-কারখানা গড়ে তোলার সংবাদ প্রকাশ করবে—যারা গণমাধ্যমে বড় অংকের বিজ্ঞাপন দেয়? বিজ্ঞাপনের বাইরেও নানাবিধ প্রলোভন ভয়ও এক্ষেত্রে কাজ করে।

সব মিলিয়ে সাংবাদিকতাকে সাংবাদিকরাই কঠিন করে তুলেছেন বললেও অত্যুক্তি হবে না। অর্থাৎ যারা এখন মূলধারার সাংবাদিকতায় নিয়োজিত, তাদের কত শতাংশ সত্যিই নৈতিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ; সৎ ও সাহসী; পার্থিব কোনো সুবিধার কাছে নিজেকে বিকিয়ে দেন না; সাহসী প্রতিবেদন করতে না পারলেও অন্তত প্রশ্ন করার হিম্মত রাখেন; রিপোর্ট বা অনুসন্ধান করতে না পারলেও অন্তত নিজের সঙ্গে এবং নিজের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লড়াই করেন—এরকম সাংবাদিকের সংখ্যা যে ক্রমশই কমে আসছে, সেটি বোঝার জন্য গবেষণার প্রয়োজন নেই। এভাবেই আওয়ামী লীগ সাংবাদিকতার মধ্যে ক্যান্সার ঢুকিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।

পঠিত : ৭৯০ বার

মন্তব্য: ০