Alapon

আল্লাহর দেওয়া এই জীবন কোন পথে ব্যায় করবো?


আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এই দুনিয়াতে শুধু মাত্র খেয়ে-পরে মরে যাওয়ার জন্য পাঠান নাই। নির্দিষ্ট একটা দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন, সেটা আগে জেনে নিতে হবে।
সূরা আলে ইমরান ১১০ নং আয়াত-
তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি, যাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে মানবজাতির কল্যাণের জন্য। তোমরা সৎ কাজের আদেশ করবে ও অসৎ কাজে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।

এর পর এই দায়িত্ব সম্পর্কে জানার পর সে দায়িত্ব কিভাবে পালন করতে হবে সেটা জানতে হবে। এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে হবে।
সূরা আলে ইমরান ১০৪ নং আয়াত-
তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা চাই, যারা মানুষকে কল্যাণের দিকে আহবান করবে এবং যারা সৎকাজের আদেশ করবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে। বস্তুতঃ তারাই হল সফলকাম।
রাসূল স. এর হাদিস- তোমাদের যে কেউ মুনকার কিছু দেখবে, সে যেন তা হাত দিয়ে প্রতিরোধ করে। না পারলে যবান দিয়ে প্রতিবাদ করে, না পারলে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করে। আর এটা হ’ল দুর্বলতম ঈমান। ‘এর পরে তার মধ্যে আর সরিষাদানা পরিমাণ ঈমানও থাকবে না’।

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কি কি সমস্যার সম্মুখিন হতে হবে তাও জানতে হবে তা সুরা বাকারা ১৫৫ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলে দিয়েছেন-
এবং অবশ্যই আমি তোমাদিগকে পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের।


সমস্যা গুলো কিভাবে সমাধান করতে হবে তাও বাতলিয়েছেন সুন্দর ভাবে সূরা বাকারা ১৫২ নং আয়াতে-
হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।

সর্বশেষ নিজের কাজকে এক মাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারন করে সকল বাঁধা বিপত্তিকে দূরে ঠেলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সূরা আনআম ১৬২ নং আয়াত-
নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ সারা জাহানের রব আল্লাহর জন্য।

এজন্য প্রচূর পড়াশোনা করতে হবে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। সূরা ফাতির: ২৮ আয়াত-
আর এমনিভাবে মানুষ, বিচরণশীল প্রাণী ও চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যেও রয়েছে নানা বর্ণ। বান্দাদের মধ্যে কেবল জ্ঞানীরাই আল্লাহকে ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, পরম ক্ষমাশীল।
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিররা বলেন যে, যতক্ষননা আল্লাহর ভয় মানুষের মনে একিভূত হয় ততক্ষণ পর্যন্ত পড়াশোনা বা জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আর জ্ঞানীরাই আল্লাহকে ভয় করে।
তাই আমাদের পড়াশোনা বা জ্ঞান অর্জন শুধু ভালো চাকরি পাওয়ার জন্য না হয়ে আল্লাহকে ভয় করার জন্য, তার দেওয়া জীবন বিধান মাফিক চলার জন্য হওয়া উচিৎ।

এবার কিভাবে চলব তা ঠিক করে নিয়ে জীবন চলা যায়। সাথে আল্লাহর ঘোষণা মনে রাখা দরকার সুরা আরাফ ১৭৯ আয়াত-
আর আমি সৃষ্টি করেছি দোজখের জন্য বহু জিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই হল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।

বহু কথা বলে দুনিয়াতে ফাসাদ সৃষ্টির কোনো মানে হয় না, আল্লাহ আমাদের গাইডলাইন দিয়েছেন এবং একটা ভালো বিবেক দিয়েছেন। কোনটা সঠিক কোনটা বেঠিক তা পরিমাপ করার জন্য। তাই আমরাই ঠিক করে নেবো কোন পথে পরকালীন মুক্তি আছে। আর সে পথেই চলব।

পঠিত : ১৯৭ বার

মন্তব্য: ০