Alapon

আল্লাহর নৈকট্য লাভে সালাত

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানবজাতিকে একমাত্র তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর নিঃসন্দেহে নামায সালাত বা নামায তাঁর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, সালাত কায়েম করো। (সূরা বনী ইসরাইল : ৭৮)। আল্লাহতায়ালার নিকট বান্দার আনুগত্য প্রকাশের সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা হলো সালাত বা নামায। সালাত অর্থ দোয়া। কালেমার পরই সালাতের স্থান। কালেমা পাঠ করে ঈমান এনে বসে থাকলে চলবে না। কথায় ও কাজে তার প্রকাশ ঘটাতে হবে। এজন্য আল্লাহপাক যেসব কাজ ফরয করে দিয়েছেন তার মধ্যে সালাত অন্যতম। পবিত্র কোরআনে বার বার সালাত কায়েম করার হুকুম দেয়া হয়েছে। আল কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘‘হে মুহাম্মদ (সাঃ) তোমার ওপর যে পবিত্র কিতাব নাযিল হয়েছে তা পড় এবং নামায কায়েম করো, নিশ্চয়ই নামায অশ্লীলতা ও দুষ্কার্য প্রতিরোধকারী।’’ (সূরা আনকাবুত : ৪৫)। সালাত বা নামাযের মর্তবা বা ফযিলত সম্পর্কে মুসলমান ভাইবোনেরা যদি অন্তর দিয়ে বোঝার চেষ্টা করতেন তাহলে কখনোই তারা নামায থেকে দূরে থাকতেন না। নামায হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কেয়ামতের দিন নামাযের হিসাবই সর্বপ্রথম নেয়া হবে। তবে বর্তমান যামানায় দ্বীনের ব্যাপারে যে গাফিলতি ও অবহেলা করা হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঈমানের পর সমস্ত ফরয ইবাদতের মধ্যে নামাযই সবচেয়ে অগ্রগণ্য। নামায ঈমানকে মজবুত করে। নামাযের মাধ্যমেই আল্লাহ্র নৈকট্য লাভ করা যায়। কোরআনে আল্লাহ্ বলেছেন, ‘আমার স্মরণের জন্য নামায পড়।' (সূরা তা'হা : ১৪)। সে জন্যই আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন-‘তোমরা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।' (সূরা বাকারা : ৪৫) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন, ‘‘ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি খুঁটির ওপর প্রতিষ্ঠিত। সর্বপ্রথম কালেমায়ে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাক্ষ্য দেয়া অর্থাৎ এই কথা স্বীকার করা যে, আল্লাহ ব্যতীত ইবাদতের উপযুক্ত (মা'বুদ) আর কেউ নেই এবং মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহ্র বান্দা ও রাসূল। অতঃপর নামায কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, হজ্জ করা, রমযান মাসের রোযা রাখা।’’ (বুখারী ও মুসলিম)। নিয়মিতভাবে মনোযোগসহকারে অজুর সাথে পাঁচবার নামায সম্পন্ন করা মুসলমানদের ওপর ফরয। কেননা নামাযের জন্য ওজু অপরিহার্য। অজু ছাড়া নামায হয় না। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘‘শিরক ও কুফরী কবীরা (বৃহত্তম) গোনাহ ব্যতীত নামায মানুষের দৈনন্দিন অন্যান্য গোনাহ (অপরাধ)সমূহের রক্ষাকারী।’’ নামায হচ্ছে বেহেশতের চাবি ও সকল ইবাদাতের মূল ভিত্তি। পরকালে বেহেশতের বা জান্নাতের সুখ পেতে চাইলে আমাদের বেহেশতের দরজা খোলার জন্য প্রয়োজন হবে চাবির। যদি আমরা নামাযই আদায় না করি তাহলে চাবি পাবো কিভাবে? বেহেশতে সবাই যেতে চাই, সুখও সবাই পেতে চায়, সে জন্যে অবশ্যই আমাদেরকে আখেরাতের সম্বল যোগাড় করতে হবে। আর এই সম্বল কেউ কাউকে দিবে না, নিজের সম্বল নিজেকেই যোগাড় বা সঞ্চয় করতে হবে। আল্লাহর প্রতি আমাদের যে ভক্তি-শ্রদ্ধা তা নামাযের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। যে নামাযে মন আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন হয়, কেবল সেই নামাযই পরকালে পাথেয় স্বরূপ হয়। নামাযের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার সাহায্য লাভ করা সহজসাধ্য হয়। বিপদ-আপদে নামায দ্বারা আশাতীত ফল পাওয়া গিয়েছে এমন দৃষ্টান্তের অভাব নেই। পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণ কোনো বিপদ উপস্থিত হলে নামাযে মগ্ন হয়ে যেতেন। হযরত হুযাইফা (রাঃ) বলেন, ‘হযরত নবী করীম (সাঃ) যখন কোনো কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতেন, তৎক্ষণাৎ তিনি নামাযে মনোনিবেশ করতেন।' (দুররে মানসুর : আবু দাউদ, আহমদ)। মহানবী (সাঃ) ইরশাদ ফরমান, ‘যে ব্যক্তি আযান শুনে কোনো রকম ওজর ব্যতীত জামায়াতে হাজির হয় না (নিজের জায়গাতেই নামায পড়ে নেয়), তার নামায কবুল হয় না। সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) আরজ করলেন, ওজর বলতে কি বোঝায়? বললেন, অসুস্থতা বা ভয়-ভীতি।’’ (তারগীব : আবু দাউদ, ইবনে হিববান। মিশকাত : আবু দাউদ, দারা কুতুনী)। নামায আদায়ে শুধু যে বান্দার উন্নতি হয় তাই নয়; সামাজিক ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। জামায়াতে নামায আদায় করলে মুসলমানগণ দৈনিক পাঁচবার একত্রে মিলিত হবার সুযোগ পান। ফলে তাদের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে ওঠে। এভাবে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার শিক্ষা নামায থেকে পাওয়া যায়। মুসলমান ভাইয়েরা যখন নামায আদায় করতে মসজিদে যান তখন ঐ দৃশ্যটা দেখতে কতই না সুন্দর লাগে! আল্লাহতায়ালা মুসলিমদের জন্যে এত সুন্দর নামাযের স্থানের (মসজিদ) ব্যবস্থা করেছেন; আর সেই স্থানে মুসলিমরা যখন নামায কায়েম করতে না যায় তখন আল্লাহতায়ালা আমাদের ওপর কতই না রাগ করেন! আমরা আল্লাহ্র বান্দা, গোলাম, দাস। তিনি আমাদের স্রষ্টা, সৃষ্টিকর্তা, যাঁর ইবাদতের জন্য আমাদের সৃষ্টি আর আমরা যখন তাঁর হুকুম অমান্য করি, তখন তিনিও আমাদের ওপর নারাজ হন। আরও হাদীসে বর্ণিত আছে যে, এশা এবং ফযরের নামায মুনাফেকদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। যদি তাদের জানা থাকতো যে এই জামায়াতের সওয়াব কত বেশি, তাহলে জমিনে হেঁচড়িয়ে হলেও এসে তারা শরীক হতো। (তারগীব) মহানবী (সাঃ) ইরশাদ করেন, আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘আমি আপনার উম্মতের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছি এবং প্রতিজ্ঞা করছি যে, যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামায সময়মত গুরুত্বসহকারে আদায় করবে, তাকে নিজ দায়িত্বে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। আর যে ব্যক্তি গুরুত্বসহকারে এই নামাযসমূহ আদায় করবে না, তার ব্যাপারে আমার কোনো দায়িত্ব নেই।' (দুররে মানসুর : আবু দাউদ, ইবনে মাযাহ)


(কপিপোষ্ট)
দৈনিক সংগ্রাম (ধর্ম ও জীবন)
আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম সালাত -জোবায়ের ইসলাম
রবিবার ০৬ জুন ২০১০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পঠিত : ৮৮৬ বার

মন্তব্য: ০