Alapon

নাস্তিকতা নাকি দৃষ্টি আকর্ষণ



ইদানিং দেশে নতুন এক প্রকান্ড জ্ঞানীর আগমন ঘটেছে। সে প্রকাশ্যে আমাদের নবিজী (সাঃ) কে গালিগালাজ করে। নাম দেখলাম মুসলিমদের মতোই, কিন্তু মনেপ্রাণে সে নাস্তিক। সে স্বঘোষিত নাস্তিক। ব্যাপার হচ্ছে, তার প্রোফাইল ঘেটে দেখলাম সে মোটামুটি সকল ধর্মকেই ছোট করে কথা বলে। ছোট করে বলে বললে ভুল হবে, সে খুব বাজে ভাষায় গালিগালাজ করে। একজন বাংলাদেশি কলা বিজ্ঞানী হিসেবে এই কাজের মাধ্যমে নিজেকে ভালোই ভাইরাল করতে পেরেছে। এই কাজে সে সফল। এইবার শুধু মুফাসসিলের মতো নাটক করা বাকি। ভুলভাল ফতোয়া দেয়া বাকি।

তো আমি কেন তাদের বিষয়ে লিখতে বসলাম? যেখানে সবাই জানে এই বিষয়ে লিখে বা কথা বলে কোন লাভ নেই। তারসাথে আমার এই লেখা কয়জন পড়ে এটাও একটা মুখ্য বিষয়! আসলে আমি লিখতে বসেছি আমার ইনার পিসের জন্য। আসলে ওরা কি বললো না বললো আমার কিছু যায় আসে না। যেখানে আমার দেশের আলেমদের মাঝেই এখন ভালো দাঈ খুঁজে পাওয়া কঠিন, সবাই ধর্ম ব্যাবসায়ী। সেখানে আমি কিছু বললে লাভ হবে বলে আমি মনে করি না। পীর-মুরিদের দেশে খাঁটি ধর্মপ্রাণ মুসলিম আছে বৈকি, তবে সংখ্যাটা অতি নগন্য।

তো যাই হোক। লেখা বড় করবো না। আমাদের ধর্মে একটা কথা আছে, মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘ধর্মে কোনো জবরদস্তি নেই। অবশ্যই হেদায়েত গোমরাহি থেকে পৃথক হয়ে গেছে।’ (সূরা বাকারাহ : আয়াত ৩৪)।
আবার মহান রাব্বুল আ'লামীন এও বলেছেন, ‘বলে দাও, সত্য তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতেই আগমন করেছে। সুতরাং যে ইচ্ছা করে সে বিশ্বাস স্থাপন করুক, আর যে ইচ্ছা করে সে অস্বীকার করুক।’ (সূরা কাহাফ : রুকু ৪)।

অতএব কে বিশ্বাসী বা কে নাস্তিক এই বিষয় নিয়ে গবেষণা করার নূন্যতম ইচ্ছা বা মনমানসিকতা কোনটাই আমার নেই। তবে কথা বলবো তাদের কর্তৃক করা কিছু বাজে কথা বা অপমানজনক কথা নিয়ে। ব্যাপার হচ্ছে, কিছু অতিজ্ঞানী কলা বিজ্ঞানী নিজেকে ভাইরাল করার লক্ষ্যে আমাদের ধর্ম বা সনাতন অথবা অন্য ধর্ম নিয়ে বাজে কথা বলে। স্ল্যাং ব্যাবহার করে। এটা করেই মূলত এটেনশন পাওয়ার জন্য। নিজেকে ভাইরাল করার জন্য।

আবার ইউটিউব বা সোস্যাল মিডিয়ার ব্যাবসা কিন্তু এখন ভালোই লাভের। কনটেন্ট বানায়ে কিন্তু ভালোই ইনকাম করা যায়। কিন্তু কনটেন্ট ভাইরাল তো করতে হবে। কনটেন্ট ভাইরাল করা কিন্তু অনেক কঠিন। আমি নিজে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং নিয়ে টিউটোরিয়াল বানাইতাম। ভাইরাল হইতো না। এরা নিজেকে ভাইরাল করার জন্যই এইসব কাজ করে। বাংলাদেশে যেমন ইসলাম ধর্ম নিয়ে ব্যাঙ্গ করে, ভারতেও তেমন নাস্তিকরা হিন্দু ধর্ম নিয়ে ব্যাঙ্গ করে। যে দেশে যেই ধর্মের সংখ্যাগরিষ্টতা বেশি, সেই দেশে সেই ধর্ম নিয়ে ব্যাঙ্গ বেশি করে।

আর সেই ব্যাঙ্গ দেখে আমরা আবেগি বাঙালি তাদের এখানে যাই, তাদের গালিগালাজ করি একে অন্যকে মেনশন দেই আর তারা সেটা নিয়ে মজা করে। ভাইরাল হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন, "‘এ সেই কিতাব, যাতে কোনোই সন্দেহ নেই– পথপ্রদর্শনকারী মুত্তাকীদের জন্য।’ (সুরা বাকারাহ, আআত-২) । যারা মুত্তাকীই না, বিশ্বাসীই না, পরহেজগারই না, তারা কোরআনের মর্ম কি বুঝবে? আর অন্যকে কিই বা বুঝাবে। তারা তো গোজামিল দিয়া জমাট বাধা মস্তিষ্কে বিভ্রান্তি নামক টিম্বার হিচ বা গুড়ি টানা গেরো দিবেই। স্কুলে থাকতে যখন স্কাউট করতাম, তখন শেখানো হইসিলো টিম্বার হিচ কি। মূলত এ দিয়ে এমন এক গেরো লাগানো হয়, যে ভারি ভারি গাছের গুড়িও টানলে সাথে চলে আসবে কিন্তু গেরো ছুটবে না। তো ঐ নাস্তিকরাও আপনার মস্তিষ্কে এই টিম্বার হিচ দিবে। আর আপনিও ওদের সাথে চলে যাবেন। মানে বিভ্রান্ত হবেন।

আরে ভাই, বাংলাদেশের সবাই কিন্তু প্র্যাকটিসিং মুসলিম না। ধর্মের ব্যাপারে ১০০% জ্ঞান আমাদের নেই। অন্তত আমার নেই। আমি বিশ্বাস করি অনেকের নেই। আর এই সংখ্যাটা বোধ করি কম না। আর এই জ্ঞান নিয়ে ওদের সাথে যে নাদান মানুষেরা ডিবেটে যায় আর শেষমেশ কাঁদতে কাঁদতে হার মেনে ফিরে আসে, এবিষয়ে বলবো ক্ষুদ্র জ্ঞান থাকা স্বত্বের তাদের সাথে বিতর্কে যাওয়াটা উচিত হয় নাই। কারন তারা আপনাকে বিভ্রান্ত করার জন্য সদা বদ্ধপরিকর। তাই ক্ষুত্র জ্ঞান নিয়ে ওদের সাথে ডিবেটে যাবেন না। এমনিতেও ঈমান মজবুত করতে বেশি বেশি স্টাডি করুন।

এদের ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ মাত্র ১ মাসে বন্ধ হয়ে যাবে, যদি আমি-আপনি এদের এটেনশন দেয়া বন্ধ করে দেই। একবার এপ্লাই করে দেখেন, ইনশাল্লাহ ফলবেই। মিলিয়ে নিয়েন।

-- তারেক

পঠিত : ৯৬৭ বার

মন্তব্য: ২

২০২৩-০৮-০৭ ১৫:১১

User
Md. Abdul Ohab Babul

বর্তমানে নাস্তিকদের জ্ঞান দিয়ে পরাজিত করা ছাডা কোণ উপায় নেই।

submit

২০২৩-০৮-০৯ ০১:২৭

User
Tareq Aronnyo :

জ্বি ঠিক বলেছেন।

submit