Alapon

আল্লাহর নৈকট্য লাভের মধ্যেই কল্যাণ

কোটির টাকার হীরা-মানিকের চেয়েও বহুগুণে দামী সম্পদ হলো আমাদের নেক আমল এবং ঈমান। ৬-৭ হাত কবরের নিচে যখন শুয়ে থাকবো, তখন এই আমল ছাড়া আর কিছুই কাজে আসবে না। এজন্যই জানা থাকা খুব প্রয়োজন যে, দুনিয়াতে আমাদের কিছু শত্রু রয়েছে, যারা প্রতিনিয়ত এই মূল্যবান সম্পদগুলো আমাদের কাছ থেকে চুরি করতে চায়!

একজন বুদ্ধিমান মুসলিম তার সমস্ত শত্রুদের সম্পর্কে খুঁজে খুঁজে জ্ঞান অর্জন করে। যেন এই শত্রুরা যখন তার জন্য আল্লাহর পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেই মুসলিম থতমত খেয়ে যায় না। সাহস এবং বিচক্ষণতার সাথে সেগুলোর মোকাবেলা করার জ্ঞান রাখে। একটু ভেবে দেখুন তো, আপনি কি থতমতো খেয়ে যান নাফস এবং শয়তানের মোকাবেলায়?

খারাপ নাফসের তাড়নাই কিন্তু আমাদের একমাত্র শত্রু না। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে অন্তরের শত্রুদের সম্পর্কে সবিস্তারিত জানিয়ে দিয়েছেন এবং কীভাবে তাদের সামলাতে হবে সেটারও সম্পূর্ণ গাইডলাইন দিয়েছেন।

আমরা চার প্রকারের শত্রু নিয়ে একটু জানার চেষ্টা করি,

১। অহংকার (ইগো)
২। নাফসের কুমন্ত্রণা, কামনা-বাসনা
৩। শয়তান
৪। দুনিয়ার চাকচিক্য এবং মায়া

★ অহংকারঃ
যতই বাইরের শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকি না কেন, নিজের ঘরে অর্থাৎ অন্তরে অহংকার এবং ইগো নিয়ে বসে থাকলে, তা আমাদেরকে ধ্বংস করে দিবে। শয়তান সারাজীবনের জন্যে অভিশপ্ত এবং ধ্বংস হয়ে গেল তার অহংকারের জন্যে। নিজেকে আল্লাহর সামনে এবং আল্লাহর জন্যে বিনয়ী না করতে পারলে অহংকারের থেকে বড় শত্রু নেই।আল্লাহর সৃষ্টির সাথেও নম্রতা বজায় রাখতে হয় ক্ষেত্রবিশেষে আল্লাহর খুশির জন্যই। আপনি কি পারছেন সময় মত বিনয়ী হতে এবং নম্রতা অবলম্বন করতে?

★ নাফসের কুমন্ত্রণা:
নাফসের কুপ্রভাব থেকে বাঁচতে প্রতিনিয়ত নাফসুল আম্মারাকে ধিক্কার দিতে হবে। নাফসুল লাওওয়ামাকে শক্তিশালী করার জন্যে ট্রেইনিং করতে হবে প্রতিদিন! জ্বি, ২ দিন করেই শেষ না। প্রতিদিন! শেষ নিঃশ্বাসের আগ পর্যন্ত। কুরআন থেকে ডিরেক্টলি তিন প্রকার নাফস সম্পর্কে পড়াশোনা করা এবং সেগুলো আমলে পরিণত করার বিকল্প নেই। না হলে নিজেরাই নিজেদের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে যাই।

নিজের নাফস কোন পর্যায়ে আছে জানার জন্য সবার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, ফোন স্ক্রলিং করার সময় কতটুকু নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারেন? নিজের নাফসের হাল বুঝে যাবেন।

★ শয়তান:
শয়তান শুধু আপনাকে ওয়াসওয়াসা/ফিসফিসানি দিতে পারে। এই ফিসফিসানী আপনাকে দিয়ে কাজে পরিণত করার কোন ক্ষমতা শয়তানের নেই। শয়তানের আপনার উপর ততটুকুই ক্ষমতা পাবে, যতটা আপনি তাকে দিবেন।

আল্লাহ বলেন, "আমার খাঁটি এবং নেক বান্দাদের উপর তোমার (শয়তানের) কোন ক্ষমতা নেই, আপনার পালনকর্তা যথেষ্ট কার্যনির্বাহী" (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৬৫)

তাই নিজের সব গুনাহের দোষ শয়তানের ওপর দিয়ে কোন লাভ হবে না। নিজেরটা নিজের উপরেই। কিয়ামতের দিনে তো শয়তান কোন দায়ভার নিবেই না!

★ আর দুনিয়ার মায়া?
সে তো এক মিথ্যা মরীচিকা! এই যে ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার চকচকে ভোগবাদী বস্তুগুলো, আলমারির ভিতর কাপড়ের পাহাড়, প্লেট উপচে পড়া সুস্বাদু খাবার যার অর্ধেকও পেটে ঢোকানো যায় না, শো-অফের অসুস্থ প্রতিযোগিতা — এগুলো এত টানে এত টানে! মানুষ বুঝেও না সে চোরাবালিতে ডুবে যাচ্ছে।

"জান্নাতের চারপাশ কাঠিন্য দিয়ে বেষ্টিত এবং জাহান্নামের চারপাশ চাকচিক্য এবং লোভ দিয়ে বেষ্টিত!" (সহীহ মুসলিমের হাদিস)। সামান্য এক সন্ধ্যার মিথ্যা আনন্দের জন্যে যদি আমরা অনন্তকালের অপমান এবং আজাবকে মেনে নিতে রাজি থাকি, তাহলে এখানে আর কারো কিছু বলার নেই। প্রত্যেকের সিদ্ধান্তের ভার যার যার নিজের।

"মানুষ কি মনে করে যে, তারা মুখে বলবে "ঈমান এনেছি" এবং তাদেরকে এমনি ছেড়ে দেওয়া হবে? তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না? আমি তাদেরকেও পরীক্ষা করেছি, যারা তাদের পূর্বে ছিল। (এই পরীক্ষার মাধ্যমে) আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা সত্যবাদী এবং তিনি নিশ্চয়ই জেনে নেবেন কারা মিথ্যুক।"
(সূরা আনকাবুত: আয়াত ২-৩)

আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুক। আমিন।

পঠিত : ৩২২ বার

মন্তব্য: ০