Alapon

সিরাতুন্নবী মিনাল কুরআন ( কোরআন থেকে নবীর সংক্ষিপ্ত জীবনী)

হাদিস ও সিরাতের কিতাবগুলোকে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনীর এক মাত্র উৎস বলে বিবেচনা করা হয় । দুঃখের বিষয় এই যে এই সমস্ত হাদিস ও সিরাত কিতাবগুলো নবী মুহাম্মদের মৃত্যুর ১৫০-২০০ বছর পরে লিখিত হয় , তাই তা নবীর জীবনী সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেয় না । সহিহ হাদিসগুলোতে নবী মুহাম্মদ কে নিয়ে অনেক তথ্য একে অপরের সাথে সাংঘর্ষশীল । এটা খুবই স্বাভাবিক কারন ২০০ বছর একটা দীর্ঘ সময় । উপরন্তু নবীর সাহাবীরদের কাছ থেকে হাদিসের একটি পাতাও আজ পর্যন্ত খুজে পাওয়া যায়নি , তাই হাদিস স্ংকলনকারিরা মানুষের মুখে মুখে ঘুরে ফেরে বেড়ানো রাসুলের নামে যা পেয়েছেন তা তাদের মানবিক জ্ঞান দ্বারা যাচাই বিচার করে হাদিস কিতাব রচনা করেছেন । বলে রাখা ভালো যে এই ২০০ বছরে রাসুলের নামে লক্ষ লক্ষ জাল হাদিস সারা মুসলিম দুনিয়াতে ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে গিয়েছিল , তাই উলুম উল হাসিদ এ হাদিসের যাঈফ , মাওযু , হাসান , সহিহ ইত্যাদি বহু শ্রেনিবিভাগ হাদিসবিদরা ব্যাখ্যা করেছেন ও তা যাচাই বিচারে এখনও যথেষ্ট মতবিরোধ রয়েছে ।
যাই হোক , নবীর জামানাতে ও তার সাহাবিদের জামানাতে শুধু একটি কিতবাই পুস্তক আকারে লিখিত হয় ও পরবর্তি জামানার জন্য সংরক্ষিত হয় – তা হল কোরআন । তাই নবীর জীবনীর প্রথম ও নিখুঁত উৎস হচ্ছে কোরআন । কোরআন যে শুধু ঐশি বানী তাই নয় – বরং এটা নবীর সাহাবিদের দ্বারা সংকলিত , পঠিত ও প্রচারিত – তাই তাতে নবী সম্পর্কে ভুল তথ্য থাকার সম্ভাবন নাই , যেমন কিনা হাদিসে আছে ।
আজ আমরা শুধু কোরআনের আয়াত ব্যবহার করে নবীর জীবনী জানার চেষ্টা করব , ইন শাআ আল্লাহ্ ।

১. নবীর নামঃ
নবীর নাম ছিল মুহাম্মদ (৩:১৪৪, ৩৩:৪০ , ৪৭:২ , ৪৮:২৯ )
তার আরেকটি নাম হচ্ছে আহাম্মদ (৬১:৬)
২. নবীর বংশঃ
নবী মুহাম্মদ নবী ইব্রাহিমের পুত্র নবী ইসমাইলের বংশধর (২:১২৯)
৩. নবীর পিতা-মাতাঃ
নবী এতিম ছিলেন (৯৩:৬)
৪. নবীর ভাষা ও জাতঃ
নবীর ভাষা আরবি ছিল ও তিনি আরব ছিলেন (৪৪:৫৮ , ১২:২,৪৩:৩ ,১৬:১০৩ )
৫. নবীর কর্মস্থলঃ
রাসুল হিসেবে তিনি আরবদের মাঝে এসেছিলেন (৯:৯০, ৯:৯৭-৯৯, ২৬:১৯৮ , ৪৮:১৬)
তিনি মক্কা ও মদিনা/ইয়াথরিব নামকে শহরে অবস্থান করেছিলেন (৪৮:২৪ , ৯:১০১, ৯:১২০, ৩৩:১৩ ) । এই শহর দ্বয় বর্তমান সৌদি আরবে অবস্থিত ।
৬. নবীর আর্থিক অবস্থাঃ
তিনি প্রাথমিক জীবনে দরিদ্র ছিলেন কিন্তু পরবর্তিতে ধনি হন (৯৩:৮)
৭. নবীর প্র্যাতাহিক জীবনঃ
নবী সাদামাটা জীবন ধারন করতেন , আর দশজনের মতো সামাজিক জীবন-যাপন করতেন (২৫:৭)
৮. নবীর পরিবারঃ
নবীর স্ত্রী ও কন্যা ছিল (৩৩:৫৯)
নবীর পালক পুত্র ছিল , তার নাম যায়েদ (৩৩:৩৭)
৯. নবীর জামানাঃ
নবী মুহাম্মদ নবী ঈশার পরে পৃথিবীতে আসেন (৬১:৬)
নবী মুহাম্মদের সময়ে রোমানরা পারস্যদের কাছে পরাজয় বরন করে আবার কয়েক বছরের মধ্যে পারস্যদেরকে হারায় (৩০:১-৩ ) । এই যুদ্ধদ্বয় সংঘঠিত হয় ৬০২-৬২৮ খ্রিষ্টাব্দের ভেতরে , তাই নবীর অবস্থান কাল ৭ম শতাব্দীর শুরুর দিকে বলে প্রমাণিত হয় ।
১০. যুদ্ধকালিন অবস্থানঃ
নবী মুহাম্মদ বদর , হুনাওন নামক স্থাকে যুদ্ধ করেন (৩:১২৩, ৯:২৫) । এই উভয় স্থান বর্তমান সৌদি আরবে অবস্থিত ।

কোরআন থেকে নবী মুহাম্মদের চরিত্র , চাল-চলন , ভ্রমণ ও বহু বিধ আরো খুটিনাটি বিষয় জানা যায় , তবে উপরের আলোচনা শুধু সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে তার ভৌগলিক ও ঐতিহাসিক অস্তিত্ত্বের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়ে । পাঠক যদি এই বিষয়ে আরো তথ্য পান তবে দয়া করে পোষ্ট করবেন । ধন্যবাদ ।

পঠিত : ৪৭৬ বার

মন্তব্য: ০