Alapon

দ্বীনি ভাই

দ্বীনি ভাই কথাটি আমাদের সমাজে এখন সবার মুখের মধ্যে চলে এসেছে । অথচ আমরা এখন দ্বীন সম্পর্কে জানিনা আর দ্বীনি ভাই কারা, আল কোরআনে কাদেরকে দ্বীনি ভাই বলা হয়েছে সে সম্পর্কেও জানিনা। মুসলিম বলে নিজেকে পরিচয় দিলেই সে দ্বীনি ভাই হয়না। এই ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সুস্পষ্ট ঘোষণা করেছেন

فَإِن تَابُوا۟ وَأَقَامُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَوُا۟ ٱلزَّكَوٰةَ فَإِخْوَٰنُكُمْ فِى ٱلدِّينِ وَنُفَصِّلُ ٱلْءَايَٰتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُون

অবশ্য তারা যদি তওবা করে, নামায কায়েম করে আর যাকাত আদায় করে, তবে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই। আর আমি বিধানসমূহে জ্ঞানী লোকদের জন্যে সর্বস্তরে র্বণনা করে থাকি।

এখানে ঐ সমস্ত মুসলিমদের কথা বলা হয়েছে যারা শুধুমাত্র পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে ইসলাম পেয়েছেন অথবা নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন (এটি প্রাক ঐতিহাসিক ইসলামের প্রথম যুগের অবস্থা).

আজ আমরা পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে এই ইসলামকে নিজেদের ধর্ম হিসেবে পেয়েছি এমন একটা অবস্থা আমাদের মধ্যে বিরাজ করছে। আমাদের সমাজে কতজনইবা ইসলামকে জেনে বুঝে গ্রহণ করেছে! আমরা তো বাপ-দাদার সূত্রেই মুসলিম। আমাদের সমাজে কিন্তু এখনো এমন মানুষ আছে যারা ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে বুঝেনা‌। এই সমস্ত মানুষদের ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই কথাটি বলেছেন। মুসলিম দাবি করলে মুসলিম হওয়া যায় না বরং প্রকৃতপক্ষে তোমাদের দ্বীনি ভাই তো তারাই যারা তাওবার মাধ্যমে নিজেদেরকে সংশোধন করে নিয়েছে। নামায কায়েম করে তথা নামাজের শিক্ষাসমূহ সমাজে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করে। যথাযথ হয়ে যাকাত প্রদান করে।

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আমরা কি নিজেদেরকে সেইভাবে সংশোধন করতে পেরেছি! আমরা কি নিজেরা নামাজ কায়েমের জন্য চেষ্টা করতেছি! নামাজ কায়েমের অর্থই হচ্ছে নামাজের মাধ্যমেই যেই আদর্শ সমাজ গঠনের শিক্ষা দেয়া হয়, যে সৎ নেতৃত্বের শিক্ষা দেওয়া হয় সমাজে সে সবকিছু কায়েম করা সেই ব্যাপারে আমরা কতটুকু তৎপর? ইসলামে যাকাতের যে মৌলিক চাহিদা সে চাহিদা পূরণ করতে আমরা মানসিকভাবে কতটুকু প্রস্তুত?

লেখা: দ্বীনি ভাই
লেখক: আব্দুল মজিদ মারুফ

পঠিত : ৪০ বার

মন্তব্য: ০