Alapon

উম্মাহর কল্যাণের প্রশ্নে মতপার্থক্যের প্রাধান্য বিপর্যয় ডেকে আনে


কাফির-মুশরিকদের উদ্দেশ্য মুসলিমদের ধ্বংস করা। শিয়া, সুন্নী নাকি ওহাবী এটা তাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। কখনো কখনো কাফেরদেরকে দেখবেন মুসলমানদের সাথে মিলিত হতে। তাদের উদ্দেশ্য ঐক্য নয়, বরং মুসলমানদের একটা অংশের সাথে ঐক্য গঠন করে আরেক অংশকে ধ্বংস করাই উদ্দেশ্য। আর যখন এই কাজ সম্পন্ন হবে, তখন প্রথমোক্ত মুসলমানদের যে দলের সাথে ঐক্য গঠন করেছিল, তাদেরকে ধ্বংস করবে অথবা শাসন করবে।

ইতিহাসে যেমন এর পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বারবার, বর্তমানেও এই কৌশলেই এগিয়ে যাচ্ছে ইসলামের চূড়ান্ত দুশমনেরা। বুঝতে পারছে না শুধু স্বার্থবাদী মুসলিম রাষ্ট্রগুলো। তাদেরকে দাবার গুটি বানিয়ে একের পর এক মুসলিম ভূখন্ডকে ধ্বংস ও শাসনের পাঁয়তারা করে যাচ্ছে।

অতীতে ক্রুসেডারদের বাতেনীদের সাথে মিলে সেলজুক সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দেখা গেছে, ইয়াহুদী জায়োনিস্ট আর ক্রুসেডাররা মুসলমানদের একটা গ্রুপের সাথে জোট করেছে, খ্রিস্টানরা কুদস শাসনকালে ফাতেমীদের সাথে জোট করতে দেখা গেছে‌। আর ফলাফল সবার‌ই জানা। বর্তমানেও ইয়াহুদী আর খ্রিস্টান রাষ্ট্রগুলো আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে জোট করে অপর প্রান্তে মুসলমানদের উপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। তারা চেয়ে চেয়ে দেখছে, কিন্তু গোলামীর জিঞ্জিরে তাদের হাত-পা যেন বাধা।
আর এদিকে মুসলমানদের বিভিন্ন গ্রুপ একে অপরের দিকে কাঁদা ছোড়াছুড়িতে ব্যস্ত। এখনো তারাবিহ ৮ নাকি ২০ তা নিয়ে ডিবেট আয়োজন হচ্ছে! অথচ এতে একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ‌ই বাড়ছে কেবল। আর লাভবান হচ্ছে ইসলামের দুশমনেরা।

মূল কথা হলো, উম্মাহর সামগ্রিক কল্যাণের প্রশ্নে শিয়া, সুন্নী, ওহাবী, বেরেলবী ইত্যাদি বিষয় যখন সামনে আসে, তখন তা কাফের-মুশরিকদের জন্য একটা প্লাস পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। মুসলমানরা যখন নিজেদের মধ্যে দলাদলি আর মারামারিতে লিপ্ত, তখন অপর প্রান্তে মুসলমানদের ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে ব্যস্ত তারা।

তাই উম্মাহর কল্যাণের প্রশ্নে দল-মতের পার্থক্যকে সামনে আনা উচিত নয়। তখন সামগ্রিকভাবে উম্মাহ নিয়েই চিন্তা করতে হয়। অন্যথায় একের পর এক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে মুসলমানদের, এটা খুব‌ই স্বাভাবিক একটি পরিণতি।

পঠিত : ১১০ বার

মন্তব্য: ০