Alapon

নাটক-সিনেমা-সিরিজ



আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ,
হলিউড,বলিউড,কলিউড ইত্যাদির তৈরিকৃত সিনেমাগুলো আমাদের সকলের কাছে হারাম হিসেবেই পরিচিত। পাশাপাশি নাটক-সিরিজ যেগুলো দুনিয়াবি বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্মিত হয়েছে (যেমনঃ রোমান্টিক,থ্রিলার,সাই-ফাই) আমাদের কাছে হারাম বলেই প্রতীয়মান হলেও ইদানিং কালে আমাদের ধোঁকায় ফেলেছে কিছু (অ)ইসলামিক নাটক,মুভি এবং সিরিজ। অনেকেই এসবকে হালাল জ্ঞান করে নিজেও দেখছেন এবং অন্যকেও দেখতে উৎসাহিত করেছেন। অথচ এসব হারাম কাজ। আল্লাহ্ তায়াল বলেনঃ
নেককাজ ও তাকওয়ায় তোমরা পরস্পর সাহায্য করবে এবং পাপ ও সীমালংঘনে একে অন্যের সাহায্য করবে না। আর আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তিদানে কঠোর। ( সূরা মায়িদাহঃ ২)

আলেমগণ বরাবরই এসব কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন অশ্লীলতা-বেহায়াপনা থাকার ধরুন। কিন্তু যারা এসব দেখেন তাদের এ কাজের ভিত্তি হল যুক্তি। ইসলাম যুক্তি দিয়ে চলে না বরং ইসলামের দলিল হল কোরাআন-হাদীস। আলেমদের একাংশ সবধরণের নাটক না দেখার পরামর্শ দিলেও সবাই এমন কিছু বিষয়ে একমত হয়েছেন যা উপস্থিত হলে এসকল সিনেমা-নাটক-সিরিজ হারাম বলে গণ্য হবে নিচে এমন কিছু কারণ উল্লেখ করা হলঃ
১। তাওহীদ বিরোধী চিত্রায়ন
২। পর্দা লঙ্ঘন হওয়া
৩। নবী-রাসূলদের চরিত্রে অভিনয়
৪। আল্লাহ্র ইবাদত থেকে গাফেল করে রাখা
৫। বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার
৬। সময়ের অপচয়
কিছু ভ্রান্ত যুক্তিঃ

ইতিহাস শিক্ষা নেওয়াঃ
ইসলামের ইতিহাস শেখা অতীব জরুরী বিষয়। এইক্ষেত্রে অনেকের যুক্তি হল হারাম বিদ্যমান থাকার পরও ইতিহাস শেখার জন্য এসব সিরিয়াল দেখি। আলেমগণ বলেন, এসবের ইতিহাস সঠিক নয় এবং এগুলো অশ্লীলতায় ভরপুর যা আমাদের মহান নেতাদের বিকৃতভাবে উপাস্থাপন করে। বরং আমাদের উচিত ইতিহাস জানার জন্য অথেনটিক বই পড়া।

নাটক-সিনেমার নেশা দূরীকরণঃ
আবার অনেকের যুক্তি আমরা অশ্লীল নাটক থেকে দূরে থাকার জন্য এসব দেখি। এটা আরেক বিপজ্জনক পদক্ষেপ। আগে গুনাহ করতেন অনুশোচনা ছিল আর এখন গুনাহ করবেন কিন্তু অনুশোচনা হবে না। ফলাফল কবিরা গুনাহ থেকে তাওবা ছাড়া মৃত্যু আর হারামকে হালাল করে কুফরের গুনাহ। এসকল নাটক-সিনেমাগুলো অশ্লীল এবং ক্ষতির কারণ।

সর্বোপরি বলতে চাই যাকে কোরআন-হাদিস হেদায়াত দিতে পারে না ; তার রাস্তা অবশ্যই শয়তানের তাইত আমাদের এসব হারাম কাজ ভালো লাগে। আমাদের উচিত কোরআন থেকে হেদায়াত গ্রহণ করা। আর কোরআন বলেঃ
আর যিনার ধারে-কাছেও যেও না, নিশ্চয় তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ। ( সূরা ইসরাঃ ৩২)

নিশ্চয় যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখেরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। আর আল্লাহ্‌ জানেন, তোমরা জানো না। (সূরা নূরঃ ১৯
)

(আলেমদের মতামত জানতে চেক করুন)

এই লেখাটি তাদের জন্য যারা আল্লাহর কাছে নিজের ইচ্ছাকে সমর্পণ করেছেন। আপনাদের কাছে অনুরোধ যারা ভুলের মধ্যে আছে তাদের জানিয়ে দিন এবং রেফারন্সসহ তাদের কাছে পৌঁছে দিন। তারপরও না মানলে আপনি তাদের থেকে বিরত থাকুন

পঠিত : ৪৮৬ বার

মন্তব্য: ০