Alapon

ছবি তোলা



আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ!
ছবি তোলা আমাদের নিত্যদিনের কাজে পরিণত হয়েছে। কখনো প্রয়োজনে তো কখনো বিনা প্রয়োজনে। সকল আলেমগণ প্রাণীর চিত্রাঙ্কনে একমত হয়েছেন যে, এটা হারাম। কিন্তু সমস্যা দেখা দিয়েছে ক্যামেরায় ধারণকৃত ছবি নিয়ে। আজকে আমরা সংক্ষিপ্ত আকারে সেটাই জানার চেষ্টা করব, ইনশা আল্লাহ্।
সহিহ বুখারীর একটি হাদীস দিয়ে শুরু করতে চায়। হাদিসটি হল-
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বর্ণনা করেন যে,
তিনি একটি ছবিওয়ালা বালিশ ক্রয় করেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখতে পেয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে গেলেন, ভিতরে প্রবেশ করলেন না। আমি তাঁর চেহারায় অসন্তুষ্টি ভাব দেখতে পেলাম। তখন বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের কাছে তওবা করছি। আমি কী অপরাধ করেছি? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ বালিশের কী ব্যাপার? ‘আয়িশাহ (রাযি.) বলেন, আমি বললাম, আমি এটি আপনার জন্য ক্রয় করেছি, যাতে আপনি টেক লাগিয়ে বসতে পারেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই ছবি তৈরীকারীদের কিয়ামতের দিন শাস্তি দেয়া হবে। তাদের বলা হবে, তোমরা যা তৈরী করেছিলে, তা জীবিত কর। তিনি আরো বলেন, যে ঘরে এসব ছবি থাকে, সে ঘরে (রহমতের) ফেরেশতাগণ প্রবেশ করেন না।
(বুখারীঃ২১০৫) (এমন আরো কিছু হাদীস জানতে দেখতে পারেন- বুখারীঃ৩২২৪, ৫১৮১, ৫৯৫৭, ৫৯৬১, ৭৫৫৭, মুসলিম ৩৭/২৬, হাঃ ২১০৭)
উক্ত হাদীসগুলোতে ব্যবহৃত “তাসউইর” শব্দ নিয়েই মতপার্থক্যের সূচনা। আর এক্ষেত্রে ২টি মতামত পেয়েছি আমি-
১) ছবি তোলা হারাম ( মুহাম্মাদ শফি,নাসিরুদ্দিন আলবানী,বিন বায, আলী সাবুনী রহিমাহুমুল্লাহ প্রমুখ এ মতের পক্ষে; তাছাড়া দেওবন্দের ফতোয়াও এটাই)

২) ছবি তোলা হারাম নয়; তবে ঘনঘন বা বিনা প্রয়োজনে ছবি তোলা অপছন্দনীয়

প্রত্যেক পক্ষেই বড়বড় আলেমগণ মতামত দিয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে প্রথমটির প্রাধান্যই বেশি দেখা যায়। আর সকল আলেমই অধিক হারে বা বিনা অপ্রয়োজনে ছবি তোলাকে অপছন্দনীয় বলেছেন এবং যদি ছবিতে হারামের উপস্থিতি থাকে (যেমনঃ পর্দাহীন নারী-পুরুষের ছবি ইত্যাদি) বা প্রিন্ট করে তবে তা সর্বসম্মতক্রমে হারাম।

দেওবন্দের ফতোয়া হল ছবি তোলা হারাম। তা যেকোন কারণেই হোক না কেন। তবে প্রয়োজনে ছবি তোলা যাবে বলেই মতামত দিয়েছেন; শুধুমাত্র জরুরত হওয়ার কারণে (এর দ্বারা ছবি তোলার বৈধতা তৈরি হবে না)।
ছবি ক্ষেত্রে কিছু ক্ষতিকারক দিক না বললেই নয়; যেমনঃ রিয়া তৈরি হওয়া, অন্যের প্রাইভেসি নষ্ট করা,ছবি তোলার প্রতি আসক্তি ইত্যাদি।
মুহাক্কিক আলেমগণ আমাদের যখন এ কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন কোরআন-হাদীসের ভিত্তিতে সুতরাং আমাদের কাজ হল তাঁদের অনুসরণ করা। তাছাড়া বিনা প্রয়োজনে যেকোন কাজই অপছন্দনীয়। আল্লাহ্ তায়ালা তাঁর বান্দাদের পরিচয় দিতে বলেনঃ
আর যারা মিথ্যে সাক্ষ্য দেয় না, আর বেহুদা কর্মকান্ডের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলে সসম্মানে পাশ কাটিয়ে চলে যায়।
(সূরা ফুরকানঃ ৭২)
অন্য আয়াতে এসেছেঃ
আমি জ্বিন ও মানবকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র এ কারণে যে, তারা আমারই ‘ইবাদাত করবে।
( সূরা যারিয়াতঃ ৫৬)
আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের পাঠিয়েছেন ইবাদাতের জন্য সেখানে অপ্রয়োজনীয় কাজ করে কাটানো গর্হিত কাজ নয়ত কি! অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় অপচয় করা ভালো মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না কেননা তাঁরা সর্বদা আল্লাহ্র কাজ করতে অপেক্ষমাণ থাকে। তারপরও যখনই আমরা অনর্থক কাজে জড়িত হয় তাওবা করি।
আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
কোন ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো অনর্থক আচরণ ত্যাগ করা।
(তিরিমিযিঃ ২৩১৭) 
তাছাড়া আমরা জানি তাকওয়ার দাবি হল যেকোন সন্দেহজনক বিষয় থেকেও দূরে থাকা। সেখানে এই কাজে হারাম হওয়ার প্রতিই আলেমগণের মতামত।
শুধুমাত্র ছবি তোলা নয় যেকোন অপ্রয়োজনীয় এবং অনর্থক কাজ থেকে আমরা আজ থেকে দূরে থাকব, ইনশা আল্লাহ্।

বিস্তারিত দলিল জানতে ক্লিক করুন

পঠিত : ৩৭৮ বার

মন্তব্য: ০