Alapon

পলাশীর আবদার : সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে আপোষহীন চেতনা লালন



পলাশীর প্রেক্ষাপট বিবেচনা নিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করুন একবার। এখনো কাগজে কলমে বাংলাদেশ স্বাধীন আছে। দেশে সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান আছে। সরকার জনগণের নির্বাচিত না অবৈধ ফ্যাসিবাদী সেদিকে নজর না দিয়ে জাস্ট চিন্তা করুন এখনো দেশে সরকার ব্যবস্থা আছে। চারপাশে ভালোভাবে খেয়াল করুন। চোখ বুলিয়ে দেখুন। আরও একবার নিজের মনকে স্থির করে পর্যালোচনার খাতায় হিসাব মিলিয়ে নিন। শত হিসাব নিকাশ করলেও আপনি নবাব সিরাজুদ্দৌলার মতো স্বাধীন ক্ষমতার মসনদ বাংলাদেশে পাবেন না নিশ্চিত। কিন্তু বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের স্বাধীন ভৌগোলিক অবস্থান ঠিকই পাবেন। সেই ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা নিয়ে আমরা আলোচনা শুরু করছি।
বলা হয়ে থাকে, অতীত বাদ দিয়ে বর্তমান বোঝা অসম্ভব আবার বর্তমান ছাড়া ভবিষ্যত পরিকল্পনা অসম্ভব। অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যত এগুলো একে অপরের সাথে এক সুতোয় বাঁধা। এক অংশে টান পড়লে আপনা আপনি অপর অংশ হাজির হয়ে যাবে।
আমরা একাত্তরের কাহিনি বলতে গেলে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন সামনে ধরা দেয়। বায়ান্ন আনলে সাতচল্লিশ আসে। সাতচল্লিশ আনলে সেই দু'শো বছরের পুরোনো পলাশী অটোমেটিক আপনার হিসাবের খাতায় চলে আসবে। শত চাইলেও দূরে সরাতে পারবেন না। পলাশীর ইতিহাসে নজর দিলে আপনি দেখতে পাবেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বানিজ্য সুবিধা দিয়েছিলো তৎকালীন নবাব। এ সুবিধা পেয়ে ধূর্ত ইংরেজরা ধীরে ধীরে হাত করে নেয় নবাব সিরাজুদ্দৌলার ঘনিষ্ঠ লোকদের। পলাশীর বিপর্যয়ের পরে বঙ্গের মুসলমানদের অবস্থা কেমন হয়েছে তা একেবারেই অকল্পনীয়। উইলিয়াম হান্টার মুসলমানদের এই বিপর্যয় সম্পর্কে লিখেছেন, ‘১০০ বছর আগে একজন মুসলমান গরিব হওয়া যতটা অসম্ভব ছিল, আজ ধনী হওয়া তার জন্য ততটাই অসম্ভব।’
অতল শূন্যতা।
পি রবার্টস তাঁর ‘হিস্টরি অব ব্রিটিশ ইন্ডিয়া’য় লিখেছেন, ‘‘পলাশীর পর ইংরেজরা মীরজাফরকে ‘পুতুল নবাব’ সাজিয়ে লর্ড ক্লাইভ শুরু থেকেই ‘প্রকৃত নবাব’ সেজে বসেছিলেন। এই পুতুল নবাবির সূচনাকাল থেকেই ইংরেজরা এ দেশে ইতিহাসের নজিরবিহীন শোষণ ও লুণ্ঠনে লিপ্ত হয়েছিল। কোম্পানির ও কলকাতার অধিবাসীদের ‘ক্ষতিপূরণ’ হিসেবে এবং সৈন্য ও নৌবহরের ব্যয় বাবদ কোম্পানি আদায় করে মোট ২৫,৩১,০০০ পাউন্ড। তাছাড়া মীরজাফর ইংরেজ প্রধানদের খুশি করতে ৬,৬০,৩৭৫ পাউন্ড উপঢৌকন দেন। বিভিন্ন ইংরেজ কর্মচারী পরগনা জেলার জমি ছাড়াও ৩০ লাখ পাউন্ড ‘ইনাম’ গ্রহণ করেছিল। আসলে পলাশীর পর যে লুণ্ঠন শুরু হয়, তার তুলনা পৃথিবীর ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।’’
আমরা বর্তমানে বাংলাদেশের ক্ষমতার মসনদে বসা আওয়ামী সরকারের কথায় ধরি। তাদের ক্ষমতাবস্থায় প্রতিবেশী দেশ ভারত একতরফা ভাবে কত সুবিধা ভোগ করে যাচ্ছে। দেশের জাতীয় মাছ ইলিশ এখন উচ্চবিত্তদের খাবারের তালিকায় চলে গেছে।বর্ষা মৌসুমে ভারতের ছেড়ে দেওয়া উজানের পানিতে আমাদের সিলেট অঞ্চল, রংপুর অঞ্চল তলিয়ে যায়। শুকনো মৌসুমে রাজশাহী অঞ্চলে ভয়াবহ খরা হয়। ফারাক্কার পানি তখন ভারত আটকে দেয়। ট্রানজিট সুবিধা নেয়। এখন নতুন করে চুক্তি হলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ট্রেন চলবে। আরও হাজারো সুবিধা আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার শুধুমাত্র তাদের ক্ষমতার মসনদকে পাকাপোক্ত করার জন্য ভারতকে দিয়ে আসছে। দেশের মানুষকে ফকির বানিয়ে, রাস্তায় বসিয়ে তারা ক্ষমতার স্বাদ গিলছে। সময় ঘনিয়ে আসছে বাংলাদেশে আরেকটি পলাশী হওয়ার। যেভাবে সিকিম দখল করলো। সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বন শুধুমাত্র আমরা কথার মাধ্যমে করে থাকি। বাস্তবিক অর্থে আমাদেরকে ঢিল ছুড়তে হবে। ঢিল ছুড়ে ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করে স্বাধীন মানচিত্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলন করতে হবে। পলাশী আমাদেরকে আবদার করে দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে আপোষহীন চেতনা লালন করতে হবে। ভীনদেশী শকুনের থাবা ধেয়ে আসার আগেই শকুনের জন্য তৈরি খাবার বিনাশ করে দিতে হবে।
আল্লাহ আমাদের সহায় হোক।
নাসরুম মিনাল্লাহি ওফাতহুন ক্বারীব-ওবাশশিরিল মু'মিনিন।

পঠিত : ১৩৫ বার

মন্তব্য: ০