Alapon

শহিদীনদের অন্তর্ভুক্ত হতে হলে আমাদের যা করতে হবে!



ঈসা আ. যখন নবুয়্যত পান তখন নি জাতিকে ৭টি বিষয়ে দাওয়াত দেন, এগুলো হলো
হে বনু ইস্রাঈলগণ! আমি তোমাদের নিকটে আগমন করেছি
(১) আল্লাহর রাসূল হিসাবে
(২) আমার পূর্ববর্তী তওরাত কিতাবের সত্যায়নকারী হিসাবে
(৩) আমার পরে আগমনকারী রাসূলের সুসংবাদ দানকারী হিসাবে, যার নাম হবে আহমাদ
(৪) নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার পালনকর্তা এবং তোমাদের পালনকর্তা। অতএব তোমরা তাঁর ইবাদত কর। এটাই সরল পথ।
(৫) আমি তোমাদের জন্য হালাল করে দেব কোন কোন বস্ত্ত, যা তোমাদের জন্য হারাম ছিল।
(৬) আমি তোমাদের নিকটে এসেছি তোমাদের পালনকর্তার নিদর্শন সহ।
(৭) তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য করো।

এই সাতটি বিষয় আমরা জানতে পারি সূরা সফ ৬, সূরা মারিয়াম ৩৬ ও সূরা আলে ইমরানের ৫০ নং আয়াতে।

বরাবরের মতোই আল্লাহর রাসূলদের পক্ষে মানুষ থাকেন কম। ঈসা আ.-এর মুজেযাসমূহ দেখে এবং তাওহীদের বাণী শুনে দরিদ্র শ্রেণীর কিছু লোক তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হলেও দুনিয়াদার সমাজ নেতারা তাঁর প্রতি বিরূপ হয়ে ওঠে। কারণ তাওহীদের সাম্য বাণী সমাজের প্রভাবশালী ও জুলুম করা নেতাদের স্বার্থেই প্রথম আঘাত হানে। ফলে তারা ঈসা আ.-এর বিরোধিতায় লিপ্ত হয়।

বিগত নবীগণের ন্যায় বনু ইস্রাঈলগণ তাদের বংশের শেষ নবী ঈসা আ.-এর বিরুদ্ধে নানাবিধ চক্রান্ত শুরু করে। তারা প্রথমেই ঈসা আ.-কে 'জাদুকর' বলে আখ্যায়িত করে। সূরা মায়েদায় আল্লাহ তায়ালা এই ঘটনা উল্লেখ করেন। তারা প্রথমে ঈসা আ.-কে বলে তিনি যেন নবুয়্যতের সপক্ষে কোনো নিদর্শন দেখান। ঈসা আ. যখন কিছু মুজেজা দেখান তখন তারা ঈসা আ.-কে জাদুকর বলতে থাকে।

এসব অপবাদে ঈসা আ. বিচলিত না হয়ে বরং আরও দ্বিগুণ বেগে দ্বীনের দাওয়াত দিয়ে যেতে থাকেন। তখন বিরোধীরা বেছে নেয় অতীব নোংরা পথ। তারা তাঁর মায়ের নামে অপবাদ রটাতে শুরু করে। যাতে ঈসা আ. অত্যন্ত ব্যথা পেলেও নবুঅতের গুরুদায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সবকিছু নীরবে সহ্য করতে থাকেন। ফলে ঈসা (আঃ)-এর সমর্থক সংখ্যা যতই বাড়তে থাকে, অবিশ্বাসী সমাজ নেতাদের চক্রান্ত ততই বৃদ্ধি পেতে থাকে।

এবার তারা তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করল। এবং এই হীন কাজে সেসময়ের শাসক প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। জালিম শাসক তার ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বি মনে করে ঈসা আ.-কে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করলো। শাসকগোষ্ঠী ঈসা আ.-কেই আল্লাহদ্রোহী, বিধর্মী ও বিদআতী হিসেবে আখ্যায়িত করে। তারা দাবী করে ঈসা আ. তাওরাত পরিবর্তন করে সবাইকে বিধর্মী করতে সচেষ্ট।

ঈসা আ. জালিমদের জুলুমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়লেন। তিনি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সাহায্যের আশ্বাস দিলেন। ঈসা আ. বুঝতে পারলেন তাঁকে মহান আল্লাহ তায়ালা তুলে নিবেন তাই তিনি ইকামাতে দ্বীনের কাজ চালু রাখার জন্য তার অনুসারীদের কাছে অঙ্গীকার চান।

আল্লাহ তায়ালা এই ঘটনা সূরা ইমরানের ৫২ নং আয়াতে উল্লেখ করেন, //যখন ঈসা বনু ইস্রাঈলের কুফরী অনুধাবণ করলেন, তখন বললেন, কারা আল্লাহর পথে আমাকে সাহায্য করবে? তখন হাওয়ারীগণ বলল, আমরাই আল্লাহর পথে আপনার সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহর উপরে ঈমান এনেছি। আপনি সাক্ষ্য থাকুন যে আমরা সবাই আত্মসমর্পণকারী।//
ঈসা আ. হাওয়ারীদের দৃঢ়তা দেখে তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলেন। এরপর হাওয়ারীরা (ঈসা আ.-এর অনুসারী) আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন, আল্লাহ তায়ালা সেই দোয়া অত্যন্ত পছন্দ করলেন। তিনি সেই দোয়া আমাদের জন্য উদাহরণ হিসেবে পেশ করলেন। সূরা ইমরানের ৫৩ নং আয়াতে সেই হাওয়ারীদের দোয়া আল্লাহ উল্লেখ করেন।

رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ
রব্বানা আ-মান্না বিমা আনঝালতা ওয়াত্তবাড়নার রাসুলা ফাকতুবনা- মা'আশশা-হিদীন।
অর্থ- হে আমাদের মালিক! তুমি যে ফরমান নাযিল করেছ, আমরা তা মেনে নিয়েছি এবং রসূলের আনুগত্য কবুল করে নিয়েছি। শহীদীনদের মধ্যে আমাদের নাম লিখে নিয়ো।

ঈসা আ.-এর হাওয়ারীগণ কথা রেখেছেন ও দায়িত্ব পালন করেছেন। আল্লাহ তায়ালা ঈসা আ.-কে তুলে নেওয়ার পর তাঁরা সারা পৃথিবীতে আল্লাহর বানী (ইঞ্জিল) পৌঁছে দিয়েছেন। দ্বীন বিজয়ের জন্য বহু ত্যাগ স্বীকার করে কাজ করে গেছেন। মহান রাব্বুল আলামীন তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে সফল করেছেন।

হাওয়ারীদের এই সফলতার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা সূরা সফের ১৪ নং আয়াতে বলেন, 'হে বিশ্বাসী গণ! তোমরা আল্লাহর সাহায্যকারী হয়ে যাও। যেমন মারিয়ামের ছেলে ঈসা হাওয়ারীদের বলেছিল, কে আছো আল্লাহর জন্য আমাকে সাহায্য করবে? হাওয়ারীরা বলেছিল, আমরাই আল্লাহর সাহায্যকারী। অতঃপর বনু ইস্রাঈলের একটি দল বিশ্বাস স্থাপন করল এবং অন্যদল প্রত্যাখ্যান করল। অতঃপর আমরা বিশ্বাসীদের সাহায্য করলাম তাদের শত্রুদের উপরে। ফলে তারা বিজয়ী হলো (সূরা সফ ১৪)।

আজকের এই দুনিয়ায় আমরা যদি সফলতা চাই, তবে হাওয়ারীদের মতো আমাদেরকেও দ্বীন কায়েমের জন্য বাইয়াত করতে হবে। আর এটাই হলো আল্লাহকে সাহায্য করা। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সা. আনুগত্য করতে হবে। তবে আল্লাহ তায়ালা আমাদের শহীদীনদের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করবেন ইনশাআল্লাহ।

দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে হাওয়ারীদের মতো দোয়াও করতে হবে,
রব্বানা আ-মান্না বিমা আনঝালতা ওয়াত্তবাড়নার রাসুলা ফাকতুবনা- মা'আশশা-হিদীন।
#রব্বানা

পঠিত : ৬৬০ বার

মন্তব্য: ০