স্মৃতিপটঃ আসমান-১
তারিখঃ ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ২১:৪২
বর্ষাকাল শেষ হয়েই আকাশের মেঘগুলা আজকাল দেখি খুব বেশি পরিষ্কার হয়ে চোখে ধরা দিচ্ছে, আবার দিগন্তের দিকের মেঘগুলা দলা হয়ে পাহাড়-পর্বতের একটা ফিল দেয়। মনে পড়ে করোনার দীর্ঘ বন্ধের পর ঠিক এরকম সময় যখন সরাসরি ক্লাস শুরু হয়, তখন প্রতিদিন সেই ফজেরর পর ক্লাসের জন্য বের হইতাম আর উপরের মেঘগুলা দেখে একটা ঘোরের ভিতর পরে যাইতাম। অবশ্য ফজরের পরের পরিবেশটাও আসলে অমনি। হালকা একটা ঠান্ডা বাতাস বয় আর কোলাহলহীন ঝকঝকে 3D ডিসপ্লে'র মতো সকালের একটা ভিউ থাকে। যেইদিন বাসা থেকে রিক্সা দিয়ে ব্রিজ পর্যন্ত যাইতাম, সেদিন মনে হইত আজ আর ক্লাসে না যাই। আর রিক্সাওয়ালা মামারেও বলি, "মামা! চালাইতে থাকেন যতদুর যাওয়া যায়, আপনি চালাইতে থাকেন আর আমিও একটু মন ভরে আকাশটা দেখি, টাকা গেলে যাক"। শুনছি শখের দাম নাকি লাখ টাকা। মাদ্রাসা থেকে আসতাম আর যাইতাম, আর বাসে জানালার পাশের সিটে বসে আকাশের দিকে তাকায় থাকতাম। খালি ভাবতাম আকাশও বুঝি এত পোয়েটিক হয়। বোধ হয় তখনই প্রথমবার আসমানের একটা ডিভাইন বিউটি অনুভব করা শুরু করি। তারপর থেকে আজ অবধি কত আকাশের দিকে তাকায় যে আল্লাহর সাথে কত সুখ, দু;খ, ত্যাগ আর অভিমানের গল্প করছি, তা শুধু আমার আল্লাহই জানে। বিশেষত ত্যাগ আর কষ্টের সময়গুলাতে আকাশের দ্বীপের আকৃতিতে ভাসতে থাকা মেঘগুলার দিকে তাকায় থাকতাম আর ভাবতাম এই দুইদিনের দুনিয়ার কষ্ট হয়ত আর বেশিদিন নাই, তারপর হয়ত আবা...র ঐ মেঘেদের দেশে অকৃত্রিম অনুভুতিগুলা নিয়া আব্বু-আম্মু আর বোনদের সাথে একসাথে বাস করবো। যেখানে থাকবে না কোন দুঃখ-ক্লেশ আর যান্ত্রিকতা, থাকবে শুধু কাছের মানুষগুলা।

মন্তব্য: ০