আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতি রহিমাহুল্লাহ
তারিখঃ ৩১ আগস্ট, ২০২৫, ০৩:৫৮
ইমামগনের জীবনি : ০১
আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতি রহিমাহুল্লাহ
কর্ম ও জীবন
✒️
আফনান খান সিয়াম
আল্লামা জালালুদ্দীন আবদুর রহমান ইবন আবি বকর আস-সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ) ছিলেন একজন প্রখ্যাত মিশরীয় মুহাদ্দিস, ফকীহ, মুফাসসির, ঐতিহাসিক এবং বহু গ্রন্থপ্রণেতা। তাকে তাঁর যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুসলিম পণ্ডিত হিসেবে গণ্য করা হয়। তার পূর্ণ নাম ছিল আবু আল-ফাদল আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাবিক আল-খুদায়রি আস-সুয়ূতী।
জন্ম ও প্রাথমিক জীবন:
তিনি ৮৪৯ হিজরীর ১লা রজব (১৪৪৫ খ্রিস্টাব্দ) মিশরের কায়রোর সুয়ূতে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তিনি পিতৃহারা হন। তবে তার পিতা ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ ও আলেম ব্যক্তি, যিনি সুয়ূতির প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন করেন। তার পিতার মৃত্যুর পর, সুয়ূতি তার পিতার বন্ধু ও ছাত্রদের তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন এবং শিক্ষা গ্রহণ করেন।
শিক্ষাজীবন ও জ্ঞানসাধনা:
আল্লামা সুয়ূতী মাত্র ৮ বছর বয়সেই কুরআনে হাফেজ হন। এরপর তিনি হাদীস, ফিকহ, তাফসীর, আরবি ব্যাকরণ, সাহিত্য, ইতিহাস, যুক্তিবিদ্যাসহ ইসলামের প্রায় সকল শাখায় গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি তার যুগের অসংখ্য বিখ্যাত আলেম ও শায়খের কাছ থেকে জ্ঞান লাভ করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন
আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.), যদিও তিনি সরাসরি তাঁর ছাত্র ছিলেন না, তবে তাঁর গ্রন্থাবলী থেকে বহু উপকৃত হয়েছিলেন। তার শিক্ষকদের মধ্যে আল-কায়রুবী, আল-মিনাবী, আল-শাশি, আল-গাযী, আল-শারামসাহী এবং অন্যান্যরা অন্যতম।
কর্মজীবন ও অবদান:
তিনি শিক্ষকতা, ফতোয়া প্রদান এবং গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে ইসলামের ব্যাপক খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন। তার পান্ডিত্যের গভীরতা এবং প্রজ্ঞা এতটাই ছিল যে, মাত্র ৪০ বছর বয়সেই তিনি নিজেকে সকল বৈষয়িক কর্ম থেকে মুক্ত করে সম্পূর্ণভাবে জ্ঞানচর্চা ও গ্রন্থ রচনায় নিবেদিত করেন।
গ্রন্থাবলী:
আল্লামা সুয়ূতী ছিলেন একজন অসাধারণ prolific লেখক। বলা হয়, তিনি প্রায়
১১৯৪-এর বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা ইসলামী জ্ঞানভাণ্ডারে এক অমূল্য সংযোজন। তার কিছু বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
তাফসীর আল-জালালাইন: এটি একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত জনপ্রিয় তাফসীর গ্রন্থ, যা তিনি এবং তার শিক্ষক জালালুদ্দীন আল-মাহাল্লী (রহ.) যৌথভাবে সম্পন্ন করেন।
আল-ইতকান ফী উলূম আল-কুরআন: কুরআন বিজ্ঞানের উপর এটি একটি ব্যাপক ও প্রামাণ্য গ্রন্থ।
জামিউল আহাদীস: হাদীসের এক বিশাল সংকলন।
তারীখ আল-খুলাফা: খেলাফতের ইতিহাস নিয়ে লিখিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ।
শারহু সুনান আবি দাউদ: সুনানে আবি দাউদের ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
আল-আশবাহ ওয়ান-নাযাইর: ফিকহী মূলনীতি ও নিয়ামাবলী সংক্রান্ত একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ।
আদ-দুররুল মানসূর ফিত তাফসীর বিল মাসূর: হাদীস ভিত্তিক তাফসীর গ্রন্থ।
মৃত্যু:
এই মহান আলেম ৯১১ হিজরীর ১৯শে জুমাদাল উলা (১৫০৫ খ্রিস্টাব্দ) তারিখে কায়রোতে ইন্তিকাল করেন। তার জ্ঞান, পরিশ্রম এবং ইসলামী গবেষণায় তার অবদান তাকে মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
✒️
-আফনান খান সিয়াম
১৩-০৯-২০২৩

মন্তব্য: ০