বাম-রাম রাজনীতির বাংলাদেশ
তারিখঃ ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ২৩:২৯
বাংলাদেশের বাম রাজনীতির সাথে রাম শব্দ জড়িত। বাম ও রাম এক হওয়ার পিছনে বেশ কিছু কারণ আছে এর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশের বাম ধারা মূলত ইন্ডিয়া কেন্দ্রিক তাদের পলিসি প্রণয়ন করে। ইন্ডিয়া ঘরণার বাম সংগঠন বাংলাদেশে বেশি।
স্বাধীনতার আগে থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত এর অনেক রকম ইতিবাচ ও নেতিবাচক দিক দেখা যায়। নিচে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করা হলো—
১. স্বাধীনতার আগে ও পরে (১৯৪৭–১৯৭১)
কিছু বিপ্লবী বাম সংগঠন গোপন সশস্ত্র লড়াইকে কৌশল হিসেবে নিয়েছিল।
জমিদার, মহাজন বা শোষকের বিরুদ্ধে “ক্লাস স্ট্রাগল” হিসেবে সহিংস কর্মকাণ্ড ঘটানো হতো।
এতে একদিকে শোষিত কৃষক-শ্রমিকের মধ্যে বামদের সাহসী ভাবমূর্তি তৈরি হয়, অন্যদিকে সাধারণ জনগণের একাংশ আতঙ্কিত হয়ে দূরে সরে যায়।
২. স্বাধীনতার পরবর্তী সময় (১৯৭২–১৯৯০)
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় বাম দলগুলোর মধ্যে চরমপন্থী ধারাগুলো (সর্বহারা, নিউক্লিয়াস, জনযুদ্ধ ইত্যাদি) সশস্ত্র পথ বেছে নেয়।
হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, প্রতিদ্বন্দ্বী দমন—এসব কার্যক্রম তাদের “শ্রেণি সংগ্রামের হাতিয়ার” হিসেবে ব্যাখ্যা করা হতো।
প্রভাব:
সাধারণ মানুষের আস্থা হারায় বাম রাজনীতি।
রাষ্ট্রের দমননীতি কঠোর হয়, গ্রেপ্তার-ক্রসফায়ারে হাজারো কর্মী নিহত হয়।
গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় বাম রাজনীতি দুর্বল হয়ে পড়ে।
৩. গণতান্ত্রিক যুগ (১৯৯০–বর্তমান)
চরমপন্থী বামদের সহিংস রাজনীতি গ্রামীণ এলাকায় বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র হয়।
প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, খুন-খারাপি, চাঁদাবাজি সাধারণ মানুষকে ক্লান্ত করে তোলে।
রাষ্ট্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ব্যাপক দমন অভিযান চালায়, এতে সহিংস বাম রাজনীতি অনেকটাই নিঃশেষিত হয়।
৪. সন্ত্রাসের প্রভাবের সারসংক্ষেপ
ইতিবাচক দিক (সীমিত ও স্বল্পস্থায়ী):
শোষক-প্রতিপক্ষকে ভয় পাইয়ে দাবি আদায়ের কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সাফল্য।
বাম রাজনীতিকে “লড়াকু” হিসেবে উপস্থাপন।
নেতিবাচক দিক (প্রধান):
গণভিত্তি ধ্বংস – সাধারণ মানুষ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আস্থা হারিয়ে দূরে সরে যায়।
বিভক্তি বৃদ্ধি – সশস্ত্র পথ বনাম গণতান্ত্রিক পথ নিয়ে দলে দলে বিভক্তি তৈরি হয়।
রাষ্ট্রীয় দমননীতি – সহিংসতার অজুহাতে সরকার কঠোর অভিযান চালায়, ফলে গণতান্ত্রিক বাম সংগঠনও সংকটে পড়ে।
রাজনৈতিক একঘরে হয়ে যাওয়া – জনগণ ও মূলধারার রাজনীতি থেকে বামদের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়।
দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা – আজকের দিনে বাম রাজনীতি বাংলাদেশের মূলধারায় শক্ত অবস্থান নিতে ব্যর্থ, এর অন্যতম কারণ অতীতে সন্ত্রাসের প্রভাব।
অর্থাৎ, সন্ত্রাস বাম রাজনীতিকে স্বল্পমেয়াদে আলোচনায় এনেছিল বটে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে বাম আন্দোলনের গণভিত্তি, ঐক্য ও গ্রহণযোগ্যতাকে দুর্বল করে দিয়েছে।
সাধারণত দুই ধারার বাম রাজনীতি লক্ষকরা যায়
১.
চরমপন্থী বামদের অবস্থান
চরমপন্থী বামরা বিশ্বাস করে—
রাষ্ট্রের আইন-আদালত, নির্বাচন ও সংসদীয় রাজনীতি শোষক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করে।
তাই “সশস্ত্র সংগ্রামই শ্রেণি সংগ্রামের মূল হাতিয়ার”।
কৃষক-শ্রমিককে সংগঠিত করে জমিদার-মহাজন ও ধনী শোষকদের উপর আক্রমণ করা তাদের কৌশল ছিল।
হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি, অপহরণ, প্রতিপক্ষকে দমন—এসবকে তারা ন্যায্য বিপ্লবী কৌশল হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
সংগঠন: সর্বহারা পার্টি, জনযুদ্ধ, নকশালপন্থী গোষ্ঠী ইত্যাদি।
ফলাফল:
গ্রামীণ এলাকায় কিছু প্রভাব বিস্তার করলেও জনগণের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়।
রাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালায়।
আজকের দিনে এ ধারার অস্তিত্ব প্রায় ক্ষীণ।
২. সংসদীয় বামদের অবস্থান
সংসদীয় বামরা মনে করে—
গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনই পরিবর্তনের পথ।
কৃষক-শ্রমিকের আন্দোলনকে সাংবিধানিক ও গণআন্দোলনের মাধ্যমে পরিচালনা করাই তাদের কৌশল।
সংগঠন: বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ ইত্যাদি।
ফলাফল:
জনগণের কাছে তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য হলেও প্রভাব সীমিত থাকে।
মূলধারার বড় দুই দলের (আওয়ামী লীগ ও বিএনপি) ছায়ায় থেকে স্বাধীনভাবে জনভিত্তি তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।
চরমপন্থী বামদের সহিংসতার কারণে তারাও অনেক সময় “বাম=সন্ত্রাস” ধারণার শিকার হয়।
এছাড়াও বাংলাদেশ এবং পশ্চিম বঙ্গে বাম সংগঠনগুলো বুদ্ধিবৃত্ত্বিক ও ছায়া সংগঠন ও সরকার পরিচালনা লক্ষণীয়ঃ-
বাংলাদেশের বাম সংগঠন গুলো নিজেদের মডারেট ও বস্তুবাদির প্রমান দিতে গিয়ে ভারতের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে। এদের ফান্ডিংটা মোটা অংশে হয় ভারত থেকে। শুধু তাই নয়, পাহাড়ি উপজাতি বিভিন্ন সংগঠনের দেশ বিরোধী বিভিন্ন কাজে ভারতের অর্থায়নের বিভিন্ন গুঞ্জ শোনা যায়।
বাংলাদেশের বামদের কর্মকৌশল অনেকটা অদৃশ্য কিন্তু অনেক তাত্পর্যপূর্ণ। যেমন: মিডিয়া, প্রকাশনী, সংস্কৃতি ইত্যাদি বাম তথা রামদের দখলে

মন্তব্য: ০