Alapon

পাহাড়ের স্বাধীনতা : মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকার কার্ড


ছোট্ট একটা আলাপ করি। প্রাসঙ্গিক।

পাহাড়ে চলমান অ*স্থিরতার কথা নিশ্চয়‌ই সবার জানা। উপজাতিদের মধ্যে একটা বি*চ্ছিন্নতাবাদী অংশ দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছে পার্বত্য চট্টগ্রামকে স্বাধীন ভূখন্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। ভারত, চীন ও মিয়ানমারের পক্ষ থেকে নান ষড়যন্ত্রের কথাও শোনা যায় প্রায়শ‌ই।

দেশের ভিতর থেকে একটা গোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনীকে সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। খোদ চলমান অ*স্থিরতার মধ্যেও গতকাল বাম সংগঠনগুলো এই দাবি জানিয়েছে। এর আগে আওয়ামীলীগ সরকার এই চেষ্টা করেছিল, যদিও সেভাবে সফল হয়নি।

বি*চ্ছিন্নতাবাদীদের দাবি তারা বৈষম্যের শিকার, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ইত্যাদি কারণে তাদের স্বাধীন হ‌ওয়া দরকার। তারা সেখানে 'জুমল্যান্ড' প্রতিষ্ঠা করবে।

এমতাবস্থায় বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনি কি চান ? বাংলাদেশ অখন্ড থাকুক নাকি পার্বত্য চট্টগ্রামকে স্বাধীন করে দেওয়া হোক ? যদি আপনার দাবি হয়ে থাকে এক থকুক, তাহলে যারা স্বাধীন হতে চায়, তাদের দৃষ্টিতে আপনি কি হিসেবে গণ্য হবেন ?

এবার আসুন, যদি আপনি পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দা হোন। উপজাতি বা বাঙালি, যাই হোন না কেন, সেখানকার বাসিন্দা হিসেবে যদি আপনি দাবি করেন বাংলাদেশ অখন্ড থাকুক, তাহলে আপনার পরিচয় কি ? দেশপ্রেমিক শক্তি নাকি রাজাকার ? যারা স্বাধীন হতে চাচ্ছে, তারা তো তাদের দৃষ্টিতে মুক্তিযোদ্ধা। আর যারা বিরোধিতা করবে, সামহাউ বি*চ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে কথা বলবে বা লড়াই করবে, তাহলে তাদেরকে কীভাবে ট্রিট করা হবে ?

চট্টগ্রামের শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য যদি সেখানকার সচেতন নাগরিকরা মিলে কোনো সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে আর এই অস্থিরতা দূর করার চেষ্টা করে, সরকার ও বি*চ্ছিন্নতাবা*দীদের সাথে লিঁয়াজু করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করে, সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয়, তাদেরকে আপনি‌ কীভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন ?

আরেকটা আলাপে আসেন। তারা বলছে তারা বঞ্চিত, অবহেলিত বা বৈষম্যের শিকার। আর সরকার তার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছে, বরং দিচ্ছেও। ভৌগোলিকভাবেই সেখানে কিছু বিষয়ের সীমাবদ্ধতা থাকবে, এটা খুব স্বাভাবিক। তবে তারা পূর্ণ নাগরিক অধিকার ভোগ করছে। বরং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে অনেক ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার‌ও পাচ্ছে। এই সব সমীকরণকে সামনে রেখে আপনি পুরো বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন ভেবে দেখুন।

তবে হ্যাঁ, অব্যাহত প্রচার-প্রচারণা, মিডিয়ার বয়ান, কিছু সংগঠনের অপরাপর দাবির প্রেক্ষিতে পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর কিছু লোক বা একটা বড় অংশ‌ও স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করতে পারে, এটাও তাদের অধিকারচেতা মনোভাব ও দেশপ্রেমের (মাতৃভূমি) বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই গণ্য হবে। এখানে মূল দায়টা নেতৃস্থানীয়দের।

এবার এক‌ই সমীকরণ '৭১ এ নিয়ে যান। একটু দৃষ্টি ফেরান। তখনকার পরিস্থিতিটা বুঝার চেষ্টা করুন। হুজুগে গা না ভাসিয়ে একটু চিন্তা করে দেখুন। তখনকার প্রেক্ষাপটে কোনটা সঠিক আর কোনটা ভুল ছিল, ভেবে দেখুন। যদিও দুটো পুরোপুরি মিলবে না, কিন্তু চিন্তা ও চেতনাগত দিক থেকে গুরুত্ব একটার চেয়ে একটা কম না।

আজকের দিনে পাহাড় থেকে বাঙালিদের (যদিও সাংবিধানিকভাবে সবাই বাংলাদেশী) উচ্ছেদ করার চেষ্টা এবং বি*চ্ছিন্নতাবাদীরা যদি তা করেই বসে, এটাকে আপনি যেমন খারাপভাবে দেখবেন, '৭১ এ হাজার হাজার বিহারীদেরকে হ*ত্যা করা, পুড়িয়ে মা*রা, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, দেশছাড়া করাটাও এক‌ইভাবে জঘণ্য কাজ ছিল। এই ইতিহাস অধিকাংশ মানুষ জানে না, আড়াল করে রাখা হয়েছে।

প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত বৈষম্যের বয়ানের কারণে জনমনে এক ধরনের ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, যার প্রেক্ষাপটে তখন অগণিত সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল, যদিও শেখ মুজিবের দৃষ্টিতে সেটা ছিল একটা গৃহযুদ্ধ।* এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণ যেমন তাদের দেশপ্রেমের অংশ, যারা অখন্ড পাকিস্তান চেয়েছিল, ভারতের খপ্পর থেকে দেশকে রক্ষা করতে চেয়েছিল, তারাও দেশপ্রেম ও ঈমানের দাবিতেই তা করেছিল। ভারতীয় আধিপত্যবাদ রুখে দিতেই তারা শক্ত অবস্থানে ছিল। ৫৪ বছরে ভারতীয় আধিপত্যবাদের সাক্ষী হয়েও যদি এটা কারো মাথায় না ঢুকে, তাহলে তার জন্য সামান্য আফসোস ছাড়া আর কিছু করার নেই।

সালামুন আলাইকুম।

*পড়ুন মুক্তিযুদ্ধ নাকি গৃহযুদ্ধ ?মুক্তিযুদ্ধ নাকি গৃহযুদ্ধ?

পঠিত : ১৭০ বার

মন্তব্য: ০