Alapon

বিশ্ব সংকট নিরসনে পাথফাইন্ডার বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.)

তামাম বিশ্বজগতের কেন্দ্রবিন্দু আরব জাহান। আরেকটু সহজভাবে বলতে গেলে পবিত্র মক্কাভূমি। তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে মূর্খতার যুগ তারাই যাপন করছিলো, যখন ভূ-পৃষ্ঠে রাহমাতুল্লিল আলামীনের আবির্ভাব ঘটেছিলো। তিনিই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব সাইয়েদুল মুরসালীন মুহাম্মদ (সা.)। যার আগমনে সুন্দর পেয়েছে পরিপূর্ণতা, পৃথিবী খুঁজে পেয়েছে সার্থকতা। রাঙা রবির মতো তিনি এসেছিলেন তমসাচ্ছন্ন পৃথিবীকে হেরার আলোয় উদ্ভাবিত করতে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ভাষায় -
"মধু পূর্ণিমারি সেথা চাঁদ দোলে/
যেন ঊষার কোলে রাঙ্গা রবি দোলে/
তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে..!" ​
কুরআনের ভাষায়- "তোমাদের মাঝে যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও আখিরাতে সাফল্যের প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে, তাদের জন্যে আল্লাহর রাসুলের মধ্যেই রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।" (সূরা আল আহযাব:২১)
রব্বে কারীমের কত চমৎকার কথা! মূলত এটাই অবিসংবাদিত এবং মহাচিরসত্য। ​

কেন্দ্রীয় উম্মাহর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মুহাম্মদ (সা.):

আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা রাসুলকে (সা.) শুধু আরব অথবা বিশেষ কোনো অনারবদের জন্যে পাঠাননি। বরং পুরো বিশ্ববাসীর তরেই প্রেরণ করেছেন। আল্লাহর কালামে-
وما ارسلناك الا رحمتا للعلمين
''হে মুহাম্মদ! আমি যে তোমাকে পাঠিয়েছি, এটা আসলে দুনিয়াবাসীদের জন্যে আমার রহমত !" (সূরা আল আম্বিয়া :১০৭)

আর মুসলিম হিসেবে আল্লাহ আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে নয় শুধু, বরং কেন্দ্রীয় (মধ্যমপন্থী) উম্মাহ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আরবিতে 'উম্মাতুন' শব্দটি 'উম্ম' শব্দের সাথে একই উৎস (মাসদার) থেকে উদ্ভূত। যার অর্থ হলো 'মা'। উম্মাহ হওয়ার অর্থ হলো, একই মায়ের সন্তান হওয়া। রক্ত এবং দুধের সম্পর্কের ভাইয়ের চেয়ে 'ইসলামি ভ্রাতৃত্ব'কে উপরে স্থান দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই উম্মাহকে একইসাথে 'কেন্দ্রীয় একটি উম্মাহ' হওয়ার দায়িত্বও প্রদান করেছেন। কুরআনের পরিভাষায় যাকে 'ইস্তিখলাফ' বলা হয়।
'কেন্দ্রীয় উম্মাহ' হলো দুনিয়ার গতিপথকে নিয়ন্ত্রণকারী উম্মাহ। একপাশে ও কিনারায় দাঁড়িয়ে দুনিয়ার ঘটনা-প্রবাহের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকার নাম 'কেন্দ্রীয় উম্মাহ' নয়। এখানে ব্যবহৃত 'ওয়াসাত্ব' "وكذلك جعلناكم امة وسطا" শব্দটিকে 'মধ্যমপন্থা' বলে অনুবাদ করলে এর সামগ্রিক তাৎপর্য প্রকাশ পায় না। ওয়াসাত্ব হলো জগতের অক্ষ, বিশ্বজাহানের কেন্দ্র, এমন একটি উম্মাহ যাদের চতুর্দিকে বিশ্বমানবতা ঘূর্ণায়মান হবে। অর্থাৎ যারা হবে আদিল তথা ন্যায়পরায়ণ একটি উম্মাহ। মুসলিমরা এমনই একটি উম্মাহ, যে উম্মাহ আদালতকে বিশ্বের বুকে لتكونؤ-প্রতিষ্ঠিত করে রাখবে। আয়াতের পরবর্তী অংশ যেখানে 'ওয়াসাত্ব' শব্দের উদ্দেশ্য شهداء على الناس সেটা আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন। ইসলামের আদালতকে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করে সমগ্র মানবতার কাছে সাক্ষ্যদাতা হওয়ার জন্য। শহীদ এবং শাহীদ একইসাথে দৃষ্টান্ত অর্থেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
এই উম্মাহকে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা অন্য একটি দায়িত্ব দিয়ে বলেন-
كنتم خير امة اخرجت للناس
"তোমরাই দুনিয়ার সর্বোত্তম দল। তোমাদের কর্মক্ষেত্রে আনা হয়েছে মানুষের হিদায়াত ও সংস্কারের জন্য।
" تامرون بالمعروف وتنهون عن المنكار "
সৎকাজের হুকুম দিয়ে থাকো, দুষ্কৃতি থেকে বিরত রাখো!"
এই আয়াতে 'আমর' শব্দটি
ক্রিয়াবাচক অর্থে, যা নিজের জীবনে বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ হলো, তোমরা মারুফের আলোকে জীবনযাপন করবে। সামগ্রিকভাবে পৃথিবী থেকে অন্যায়, অত্যাচার নির্মূল করার মুজাহাদায় অবতীর্ণ হবে। ​সত্যি বলতে রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন কিছু সোনালী উম্মাহ উপহার দিয়েছিলেন এই ভূ-পৃষ্ঠের উপর। যাদের সকলেই ছিলেন হেরার আলোর সুধা পানে 'একেকটা চকোর পাখি'। সেই পাখিগুলোর অন্যতম হযরত আবুবকর সিদ্দিক, হযরত উমর ফারুক, হযরত উসমান বিন আফফান, হযরত আলী বিন আবি ত্বালিব। রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু। যাদের নেতৃত্বের দুর্বিনীত ঝংকার ছড়িয়ে পড়ে তাবৎ পৃথিবীর দিগ্বিদিক। আর তাঁদের সেই শাসিত কেন্দ্রীয় অঞ্চল সম্পর্কে
আজকের ভূগোলবিদদের বিশ্লেষণ বলছে- পশ্চিমে মরক্কো, মৌরিতানিয়া, সেনেগাল থেকে শুরু হয়ে পূর্বে চীন-তুর্কিস্তান সীমান্ত পর্যন্ত। যার মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া, এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ রয়েছে। যেখান থেকে মানুষের বংশধারা শুরু হয়েছে। হযরত আদম ছফিউল্লাহ (আ.) থেকে মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সকল নবী-রাসুল মহান আল্লাহর বাণী নিয়ে সর্বপ্রথম এই অঞ্চলেই আবির্ভূত হয়েছিলেন। সেসময়কার জাঁদরেলগোছের সভ্যতাগুলোর জন্ম এই অঞ্চলেই হয়েছে, আল্লাহর শ্রেষ্ঠ নেয়ামতগুলো এখানেই দিয়েছেন। মওজুদ রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদের বিশাল ভাণ্ডার। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক রাস্তাসমূহ এই অঞ্চল দিয়েই পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে পড়েছিলো।

যার জন্যে এঅঞ্চলটি আজোবদি দুনিয়ার অন্তর বা ক্বলব হিসেবেই বিবেচ্য। ​কিন্তু আজ সেই মুসলিমদের মাঝেই অনৈক্য, পশ্চিমা সভ্যতার পদলেহনকারী নেতৃত্বের আবির্ভাবের কারণেই পতনোন্মুখ জাতিতে পরিণত হয়েছে। ​

সংকট নিরসনে সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদ (সা.): ​

আল্লাহর হাবীব রাসুলকে (সা.) পাঠালেন পৃথিবীর কেন্দ্রে। আমাদের বানিয়েছেন কেন্দ্রীয় উম্মাহ, আর সেই কেন্দ্র থেকে নেতৃত্বোপযোগী সর্বশ্রেষ্ঠ উপমা হিসেবে রাসুল দিয়েছেন। তাহলে সংকট নিরসনে তাঁর বিধানই তো হবে যুগ্বিজয়ী এবং যুগসন্ধিক্ষণের দর্পণ। 'কৃষ্ণপাথর' স্থাপন থেকে হুদায়বিয়ার সন্ধি দিয়ে মদিনা সনদ রচনার মাধ্যমে তৎকালীন বিশ্বের ঝানু নেতৃত্বকে শিখিয়েছেন পরিবর্তনের সুষম পদ্ধতি এবং গ্রহণযোগ্য কর্মনীতি। 'ইয়ং ইন্ডিয়া' পত্রিকায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন -"এটি তরবারি নয়, যা ইসলামকে ছড়িয়ে দেয় সেগুলো হচ্ছে- আল্লাহর প্রতি নবি মুহাম্মদের আবেগ, সাহস ও বিশ্বাস। মুহাম্মদের পক্ষে তরবারি দ্বারা ইসলাম প্রচার করা অসম্ভব ছিলো। কারণ, তাঁর প্রাথমিক অনুসারীরা শুধু তাঁর স্ত্রী ও কিশোর চাচাতো ভাই আলী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর মহান ব্যক্তিত্ব ও ইসলামি সত্যতার কারণে অনেকেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।" এক্ষেত্রে যদি প্রধান ও প্রাথমিক যুদ্ধগুলো লক্ষ্য করি, তাহলে দেখবো সেগুলো ছিলো প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধ। প্রথম তিনটি যেমন : বদর, উহুদ ও খন্দক যুদ্ধ, মুসলিম শহর মদিনা কেন্দ্রের কাছেই সংঘটিত হয়েছিল, যখন মক্কার কাফির ও তাদের মিত্ররা আক্রমণ করেছিল। আমরা যদি লক্ষ্য করি সেসব মহারথীর কথা, যারা বিশ্বটাকে পাল্টে দিতে প্রচেষ্টা চালিয়েছে কিন্তু পরিশেষে নিজেরাই স্থবির হয়ে গিয়েছেন; পৃথিবী পাল্টেনি। টিকেনি তাদের বিবৃতি, যুদ্ধ-সমরের প্রভাবের একরত্তিটুকু। সেখানে রাসুলের (সা.) নেতৃত্বে বিশ্ব সংকট নিরসন হয়েছে ৩৬০ডিগ্রিতেই।

পৃথিবীব্যাপী যাদের পরিচিতি ছিলো, মানুষকে নিয়ে যারা চিন্তা করতেন, কাজ করতেন, তাদের মধ্যে অন্যতম- ​ডেল কার্নেগি, যার মতো বিশ্বখ্যাত লেখক করেছেন আত্মহত্যা! যার 'দুশ্চিন্তাহীন নতুন জীবন' আর প্রতিপত্তি ও বন্ধুলাভ বই দুটো পড়েনি এমন শিক্ষিত মানুষ কম!

আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট, আড়াই হাজার বছরব্যাপী যার নাম পৃথিবীময় আলোচিত। যার পূর্ববর্তী পাঁচ পুরুষ রাজা ছিলেন, ২০বছর বয়সে রাজা হয়ে পরবর্তী ১৩বছরে ২২,০০০ মাইল অভিযান পরিচালনা করে ৩৫ লক্ষ মানুষ নির্বিচারে হত্যা করেছেন। বিনিময়ে তিনটি মহাদেশের ৭০টি প্রধান শহর জয় করে ২০ লক্ষ বর্গমাইল সাম্রাজ্য স্থাপন করেন। কিন্তু কী দুর্ভাগ্য! মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই যখন অজ্ঞাত কারণে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ে এমনকি তার লাশটি পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেউ জানেই না তার শেষ সমাধিটা কোথায়!

​চেঙ্গিস খানের মতো প্রতাপশালী দাবানল ৪ কোটি মানুষের রক্তের গঙ্গা ও লাশের স্তূপ বানিয়ে ৯০লক্ষ বর্গমাইলের সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিলেন। ১২২৭সালে অজ্ঞাত কারণে মারা যান, গত ৮০০বছরেও তার লাশ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ​

অনুপম উপমা স্থাপন করেছেন মুহাম্মদ (সা.), যার হায়াতে জিন্দেগীর ৬৩ বছরের পুরোটাই ছিলো অত্যন্ত আকর্ষণীয় অনুসরণীয়। যার জীবনে ৮৩ টি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, অথচ অর্ধশত আদম সন্তানও সেখানে মৃত্যুবরণ করেনি!
যার ওফাতের ১০০ বছরের মধ্যে ইসলামের বিস্তৃতি ভারত, পাকিস্তান, ইরান, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা থেকে স্পেন পর্যন্ত প্রায় ৭৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৩২০০ কিলোমিটার চওড়া তিনটি মহাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। যার সম্মিলিত আয়তন আড়াই কোটি বর্গকিলোমিটার, যা আজকের ইংল্যান্ডের তুলনায় শতগুণ বড়ো। যেটি ইতিহাসে বিদ্যমান বৃহত্তম সাম্রাজ্য।
যাদের কোলঘেষে আবির্ভূত হয়েছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী আলদেবারান, আলটেয়ার, ও দেনেব। আলোকবিজ্ঞানের প্রবর্তক আল হাইসাম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি খুঁজে পেয়েছিলেন, পরীক্ষা ও সঠিক রেকর্ডের ওপর জোর দিয়েছিলেন। সুতরাং বলা যায় ইসলামিক বিজ্ঞান স্বর্ণযুগের প্রতিষ্ঠাতা রাসুলই (সা.)। নবুয়তের মাত্র ২৩বছরের মধ্যে পশ্চাদপদ বর্বর আরবদের সভ্য মানুষ হিসেবে তৈরি করতে এবং বিজ্ঞানের নেতৃত্বে দুটি বিশ্ব সুপার পাওয়ার রোমান ও পারস্যকে পরাজিত করতে সক্ষম হন। যা এমন একটি উদাহরণ, যেটি পৃথিবীতে কস্মিনকালেও কেউ দেখেনি। তাই বিশ্ববিখ্যাত ইতিহাসবিদ টমাস কার্লাইল বলেন- "মুহাম্মদ (সা.) এর আবির্ভাব জগতের অবস্থা ও চিন্তাস্রোতে এক অভিনব পরিবর্তন সংঘটিত করে। যেন একটি স্ফুলিঙ্গ তমসাচ্ছন্ন বালুকাস্তূপে নিপতিত হলো। কিন্তু এই বালুকারাশি বিস্ফোরক বারুদে পরিণত হয়ে দিল্লী থেকে গ্রানাডা পর্যন্ত আকাশমণ্ডল প্রদীপ্ত করলো।" ​

আমাদের পথচলার পাথেয়: ​

পুরো জীবনকে আমরা যদি একটা পূর্ণাঙ্গ চক্রের সাথে তুলনা করি, তাহলে তা হয় ৩৬০ডিগ্রি। মুসলিম হিসেবে বিশ্বসংকট নিরসনে জীবনের সকল দিকে ইসলাম কায়েম মানেই হলো জীবনের ৩৬০ ডিগ্রিতে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা। কঠোর পরিশ্রম করা ছাড়া লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব। এজন্যেই বোধহয় আল্লাহ কুরআনে কারীমে 'আমল' শব্দটিকে ৩৬০ বার উল্লেখ করেছেন। ​সূরা বাকারার ১৫১নম্বর আয়াতটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখবো- "আমি পাঠিয়েছি তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসুল, যিনি তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করবেন এবং পবিত্র করবেন; আর তোমাদের শিক্ষা দিবেন কিতাব ও প্রজ্ঞা এবং শিক্ষা দিবেন এমন বিষয় যা কখনো তোমরা জানতে না।"
চারটি দায়িত্বের কথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে এখানে, যেটা রাসুল(সা.) পালন করেছেন। সেগুলো হলো-
১. যিনি তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করবেন
২. তোমাদের পবিত্র করবেন
৩. তোমাদের শিক্ষা দিবেন কিতাব ও তার তত্ত্বজ্ঞান
৪. শিক্ষা দিবেন এমন বিষয়, যা কখনো তোমরা জানতে না। ​
রাসুল এখন নেই, কিন্তু এই গুরুদায়িত্বের ভার শেষ হয়ে যায়নি। মানবজীবনের সামগ্রিক সংকট নিরসনের যাবতীয় টিপস এখানেই বাতলে দিয়েছে। আর তিনি মূল দায়িত্ব, সকল মতবাদের উপর ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করা, সেটি সম্পাদন করেছেন। তাঁর অবর্তমানে এই দায়িত্ব মুসলিম হিসেবে আমাদের ঘাড়ে। কেউ যদি এই দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করে, তাহলে সেই জবাবও আমরা পাচ্ছি। "আমি কুরআনকে বুঝা বা উপলব্ধি করার জন্য সহজ করে নাযিল করেছি। অতঃপর কি আছে এ থেকে শিক্ষণ গ্রহণ করার?" সূরা ক্বমর(১৭, ২২, ৩২, ৪০)। ​
চারটি দায়িত্বের কথার অপারগতার জবাব যেন এক এক করে এই চারটি আয়াতেই বলে দিয়েছেন! দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তার যথাযথ জ্ঞানও যে কুরআনেই, তা অত্যন্ত সুস্পষ্ট। জীবনের ৩৬০ডিগ্রিতেই এই চারটি দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলে সমীকরণ হিসেবে চারটি দায়িত্বের মধ্যে যদি জীবনের এই ৩৬০ডিগ্রিকে সমভাবে ভাগ করে দিই, তাহলে দাঁড়াবে ৩৬০÷৪ = ৯০ ডিগ্রি!
​আর এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাঁধা বিপত্তি, ব্যর্থতা আসলে তা নিরসনে কি করবো উম্মাহ হিসেবে? উত্তর হলো সবর বা মঞ্জিলে পৌঁছার লক্ষ্যে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা! সেই 'সবর' শব্দটি কুরআনে ৯০বারই উল্লেখ আছে! রাসুলের(সা.) নবুয়তের জিন্দেগী জুড়ে আমরা সেই প্রতিচ্ছবি এবং আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা উপলব্ধি করতে পারি!

আদর্শের বিজনমিনার সেই রাসুলের(সা.) শানে আমি কলমের ভাষায় অন্তর দিয়ে পড়ছি- ​
আমরা জানি মানুষ সেরা তামাম সৃষ্টি মাঝে,
আলেম জানে আমাম জানে; জানে সকাল ও সাঁঝে।
সর্বসেরা পয়গম্বর জানি রাসুল মুহাম্মদ,
আমরা শ্রেষ্ঠ সেই নবীজির হতে পেরেই উম্মাত।

যার জীবনের পাতায় ছিলো বদর-উহুদ-খন্দক
আমরা তাতে প্রেরণা পায় জীবনখাতার রক্ষক।
বিন্ধ্যাচলের আঘাত হানে যখন বুকে বারবার
হিমালয়ের প্রশান্তি দেয় রুহানী সেই রাহবার।

এমন জীবন আর পাবোনা, ছিলো না-তো কারও
যে জীবনে প্রাণ খুঁজে পায় কোটি জীবন আরও!!

হৃদয়বাগের গুলশানে তাঁর মিষ্ঠি গোলাপ নাম
আরশজুড়ে ফেরেশতাকুল রব তোলে দেয় সালাম,
আমরা অধম সেই মদীনায় পাঠায় সবুজ দরুদ-খাম
পড়ি তব- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ​

যে ফুল দিয়ে গেঁথেছি মালা:

১. বিশ্বায়নের যুগে ইসলাম, উম্মাহ এবং সভ্যতা
প্রফেসর ড.মেহমেদ গরমজ ​
২. বিশ্ব মাঝে শীর্ষ হবো
ড.আহসান হাবীব ইমরোজ
৩. মাআল মুস্তফা
ড.সালমান আল আওদাহ
অনুবাদ- ফারুক আজম
৪. বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মদ(সা.)
ড.হিশাম আল আওয়াদি
অনুবাদ-মাসুদ শরীফ ​
৫. একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ ও যুবমানস
জিয়াউল হক

পঠিত : ২৪৬ বার

মন্তব্য: ০