Alapon

জেরুজালেম বিজয়ের ৮৩৮তম বার্ষিকী

আজ গাজী সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর জেরুজালেম বিজয়ের ৮৩৮তম বার্ষিকী। ১১৮৭ সালে ২ অক্টোবর আইয়ুবী জেরুজালেম বিজয় করেন।

জেরুজালেম ইতিহাসে বারবার হাত বদল হয়েছে। ইসলামপূর্ব যুগে একবার সাসানী আরেকবার রোমান সাম্রাজ্য জেরুজালেম তথা গোটা ফিলিস্তিন দখল করতো। লড়াই অবশ্য ফিলিস্তিন নিয়ে ছিল না। সাসানীরা কখনও কখনও মিসর পর্যন্ত জয় করে ফেলতো আবার রোমানরা ফোরাত পার হয়ে জাগরোস পর্বতমালা পর্যন্ত চলে যেত।

মাক্কী যুগে সূরা রুম নাযিল হয়। সূরার প্রথমেই বলা হচ্ছে - "রোমানরা পরাজিত হয়েছে। পৃথিবীর নিকটবর্তী ভূমিতে, কিন্তু তারা তাদের এই পরাজয়ের পর অল্প কিছু বছরের মধ্যে জয়লাভ করবে।" এই আয়াত এমন এক সময় নাযিল হয়েছিল যখন রোমানদের অবস্থা ছিল খুবই নাজুক। সাসানীরা ফিলিস্তিনে হামলা করে ম্যাসাকার চালিয়ে সব লুটপাট করে নিয়ে যায়। এমন অবস্থায় তারা জয়ী হবে এটা ছিল অবিশ্বাস্য। মজার ব্যাপার হচ্ছে যে বছর মুসলমানরা বদরে বিজয়ী হয় সে বছরই রোমানরা ফিলিস্তিন পুনরুদ্ধার করে সাসানী সাম্রাজ্যের একটা অংশ দখল।

মুসলমানরা উমর রা: এর যুগে ইয়ারমুকের যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে দামেস্ক জয়ের পর ৬৩৭ সালে জেরুজালেম মুসলমানদের অধীনে আসে। উমর রা: নিজে চুক্তি করার জন্য জেরুজালেমে আসেন। মদিনা থেকে উমর রা: এর এই যাত্রা ছিল এক ঐতিহাসিক যাত্রা। এই যাত্রা নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম 'খলিফা উমর' কবিতা লিখেন।

খেলাফতে রাশেদা, উমাইয়া, আব্বাসী আমলের পর জেরুজালেম ১০৯৮ সালে পরে শিয়া ফাতেমী খেলাফতের অধীনে আসে। এর ঠিক পরের বছরই প্রথম ক্রুসেডে ক্রুসেডাররা জেরুজালেম দখল করে ব্যাপক হত্যাকান্ড চালায়। জেরুজালেমে এত পরিমাণ রক্ত বয়ে যায় যে ক্রুসেডারদের ঘোড়ার খুর রক্তে ডুবে যাচ্ছিল।

ফাতেমী খেলাফতের অধীনে শাসক হওয়া সালাহুদ্দিন আইয়ুবী একসময় ফাতেমীদের প্রতিপত্তি ধ্বংস করে মিসরের শাসন ক্ষমতা নিজের হাতে নিয়ে আসেন। আইয়ুবী ছিলেন ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে লড়াই অন্যতম মুসলিম সুলতান নুরুদ্দিন জেঙ্কি। নুরুদ্দিন ছিলেন সিরিয়ার শাসক। নুরুদ্দিন মারা গেলে সিরিয়াও আইয়ুবীর অধীনে আসে।

আইয়ুবীকে যত না ক্রুসেডারদের সাথে লড়তে হয়েছে তার চেয়েও বেশি লড়তে হয়েছে নিজ জাতির গাদ্দার শাসকদের সাথে। অন্যদিকে হাশাশিনরা তো ছিলই। গাদ্দাররা আইয়ুবীর পথে বাধা হয়ে না দাড়ালে আইয়ুবী জেরুজালেম জয় করে ইউরোপ জয়ে বের হতে পারতেন৷

আইয়ুবীর পর জেরুজালেম আরেক দফা হাতছাড়া হয়। ১২২৯ সালে আল কামিলের হাত ধরে এক চুক্তির মাধ্যমে জেরুজালেম ক্রুসেডারদের হাতে চলে যায়। ৩১ বছর পর ১২৬০ সালে জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করেন সুলতান রুকনুদ্দিন বাইবার্স। আইন জালুতের যুদ্ধে মঙ্গোলদের বিজয়রথ থামিয়ে দিয়ে জেরুজালেমের দিকে মনযোগ দেন। এক এন্টিওক ছাড়া ভূমধ্যসাগর তীরের ক্রুসেডারদের সকল দূর্গ জয় অথবা ধ্বংস করে ফেলেন। হাশাশিনদেরও কচুকাটা করে তাদের উৎপাত থামিয়ে দেন।

এরপর জেরুজালেম ১৯১৭ সাল পর্যন্ত মুসলমানদের অধীনে ছিল। উসমানীয়দের শত টালমাল অবস্থায়ও তারা জেরুজালেম হাতছাড়া করেনি। উসমানীদের পতনের পরই জেরুজালেম সাইক পিকট চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অধীনে চলে যায়। জন্ম নেয় মধ্যপ্রাচ্যের বিষফোঁড়া ইজ-রাইল। দূর্বল উসমানীয়রা যে জেরুজালেম হাতছাড়া করেনি, সে জেরুজালেম পুরো আরব বিশ্ব মিলেও উদ্ধার করেনি। ৬ দিনের যুদ্ধ আরব বিশ্বের মাজা এমনভাবে ভেঙে দেয় যে তারা আজ পর্যন্ত উঠে দাড়াতে পারেনি।

০২.১০.২৫

পঠিত : ৩২৫ বার

মন্তব্য: ০